ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ফের উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডাকসু
চট্টগ্রাম বিআরটিএর চার কর্মকর্তার তথ্য নিয়েছে দুদক

অ্যাম্বুলেন্সকে মাইক্রোবাস বানিয়ে সার্জেন্টের স্ত্রীর দুর্নীতি

অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে মাইক্রোবাস ব্যবহার করছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক সার্জেন্ট দ্বীন মোহাম্মদ দিনারের স্ত্রী তানহা আক্তার মিলি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে আসে এই জালিয়াতি।

বুধবার চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি অভিযান চলাকালে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেছেন, দুদকের এক কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে এই অভিযানে মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ট্রাফিক সার্জেন্ট দ্বীন মোহাম্মদ দিনার সিএমপি উত্তর জোনে কর্মরত রয়েছেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় সরকারি কলোনিতে থাকেন। চট্ট মেট্রো চ ৭১০৭১৬ নম্বরের গাড়িটি ২০২২ সালে গাড়িটি নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করলে সরকারি বিভিন্ন ফি কম দেওয়া লাগে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক এমরান হোসেনের নেতৃত্বে এ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ওই ট্রাফিক সার্জেন্টের প্রতারণার পাশাপাশি দালালের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বিআরটিএর চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করে দুদক কর্মকর্তারা।

অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন— চট্টগ্রাম বিআরটিএর সহকারী পরিচালক রায়হানা আক্তার উর্থী, সহকারী মোটরযান পরিদর্শক আবদুল মতিন, উচ্চমান সহকারী টিপু সুলতান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সলিমুল্লাহ। তাদের পাশাপাশি রুবেল নামে এক দালালের নাম উঠে এলেও তাকে সশরীরে পাওয়া যায়নি।

দুদকের সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, নবায়ন, মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিটসহ নানা সেবার বিপরীতে বিআরটিএর কর্মকর্তারা দালালের মাধ্যমে ঘুষ নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আমরা অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েছি। তাদের কার্যক্রম তদারকি করেছি। এগুলো যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে ইতোমধ্যে বিআরটিএ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যদিও নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক কর্মকর্তা এমরান হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে দুদকের এক কর্মকর্তার দ্বন্দ্বের বিষয়টি আমি জানি না। আর এ ধরনের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ভিত্তিতে দুদকে অভিযান পরিচালনার কোনো সিস্টেম নেই।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি

চট্টগ্রাম বিআরটিএর চার কর্মকর্তার তথ্য নিয়েছে দুদক

অ্যাম্বুলেন্সকে মাইক্রোবাস বানিয়ে সার্জেন্টের স্ত্রীর দুর্নীতি

আপডেট সময় ১১:১৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে মাইক্রোবাস ব্যবহার করছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক সার্জেন্ট দ্বীন মোহাম্মদ দিনারের স্ত্রী তানহা আক্তার মিলি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে আসে এই জালিয়াতি।

বুধবার চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি অভিযান চলাকালে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেছেন, দুদকের এক কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে এই অভিযানে মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ট্রাফিক সার্জেন্ট দ্বীন মোহাম্মদ দিনার সিএমপি উত্তর জোনে কর্মরত রয়েছেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় সরকারি কলোনিতে থাকেন। চট্ট মেট্রো চ ৭১০৭১৬ নম্বরের গাড়িটি ২০২২ সালে গাড়িটি নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করলে সরকারি বিভিন্ন ফি কম দেওয়া লাগে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক এমরান হোসেনের নেতৃত্বে এ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ওই ট্রাফিক সার্জেন্টের প্রতারণার পাশাপাশি দালালের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বিআরটিএর চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করে দুদক কর্মকর্তারা।

অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন— চট্টগ্রাম বিআরটিএর সহকারী পরিচালক রায়হানা আক্তার উর্থী, সহকারী মোটরযান পরিদর্শক আবদুল মতিন, উচ্চমান সহকারী টিপু সুলতান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সলিমুল্লাহ। তাদের পাশাপাশি রুবেল নামে এক দালালের নাম উঠে এলেও তাকে সশরীরে পাওয়া যায়নি।

দুদকের সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, নবায়ন, মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিটসহ নানা সেবার বিপরীতে বিআরটিএর কর্মকর্তারা দালালের মাধ্যমে ঘুষ নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আমরা অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েছি। তাদের কার্যক্রম তদারকি করেছি। এগুলো যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে ইতোমধ্যে বিআরটিএ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যদিও নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক কর্মকর্তা এমরান হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে দুদকের এক কর্মকর্তার দ্বন্দ্বের বিষয়টি আমি জানি না। আর এ ধরনের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ভিত্তিতে দুদকে অভিযান পরিচালনার কোনো সিস্টেম নেই।