ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ফের উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডাকসু

কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় আবারও অতিরিক্ত দায়িত্বে  বিতর্কিত সাব-রেজিস্টার বোরহান উদ্দিন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আবারও অফিস করছেন বিতর্কিত সাব-রেজিস্টার বোরহান উদ্দিন সরকার। বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই ভেড়ামারায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। গতকাল ১০ই এপ্রিল সকাল ১১ টায় তিনি ভেড়ামারা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রবেশ করেন।

গত ১৩ ই মার্চ বৃহস্পতিবার  ভেড়ামারায় ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে নিজ কার্যালয়ে ছাত্র-জনতা ও ভুক্তভোগী দ্বারা ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার।একপর্যায়ে রাত ১১টায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনোয়ার হোসাইন এবং ভেড়ামারা থানার ওসি শেখ শহীদুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সের তত্ত্বাবধানে বোরহান উদ্দিনকে কার্যালয় থেকে বের করা হয়। এরপর থেকে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে ভেড়ামারায় আর কোন অফিস করেন নাই।

ভেড়ামারা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় তিন মাস আগে এখানে সাব রেজিস্টারের নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে পদায়িত দায়িত্ব পালন করেছেন মো: কাওসার আলী। এরপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে আসেন মিরপুরের সাব-রেজিস্টার মো. মাহফুজ রানা।তিনি প্রায় দুই মাস মত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বোরহান উদ্দিন সরকার দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই ব্যাপক ঝামেলার সৃষ্টি হয়।এর মধ্যে তিনি আর আসেন নাই। তবে আমরা তাকে বেশ কিছু বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছি। কোন প্রকার অনিয়মের সাথে যুক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

ভেড়ামারা দলিল লেখক সমিতির সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম রুবেল বুধবার জানান, এর আগেও বোরহান উদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্বে একবার ভেড়ামারাতে এসেছিলেন।  এবার কোনরকম ঝামেলা তৈরি হলে আমরা দলিল লেখকরা কলম বিরতিতে যাব।

ভেড়ামারা দলিল লেখক সমিতির এক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তারাও বোরহান উদ্দিন সরকারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে চাইনি। কিন্তু জেলা রেজিস্টার গাজী মো: আব্দুল  করিম তাকেই তাদের ওপরে চাপিয়ে দিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার রেজিস্ট্রেশন বিভাগ সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বোরহান উদ্দিন সরকার ভেড়ামারায় অতিরিক্ত দায়িত্ব নেয়ার জন্য জেলা রেজিস্টার গাজী মো: আব্দুল করিমকে দু’লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ আছে। ভেড়ামারার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনে বোরহান উদ্দিন সরকার ঘুষ বাণিজ্যে অবরুদ্ধ হওয়ার পরও জেলা থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে আবারও ভেড়ামারায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে পাঠানো হয়েছে। গত ২৫ শে মার্চ দৌলতপুর বিএনপি নেতা মন্টি   সরকার ফেসবুকে এই সাব রেজিস্টারের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ তুলেন যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। সূত্র আরও জানায়,বোরহান উদ্দিন যেখানেই দায়িত্ব পালন করতে যান, সেখানেই তিনি তার শ্যালক দুলালের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি বাবদ অতিরিক্ত টাকা ঘুষ হিসাবে সংগ্রহ করাতেন। এর আগেও দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা কালবেলাসহ বিভিন্ন পত্রিকা তার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংবাদ পরিবেশন করেছে। কালবেলায় বোরহান উদ্দিন ও তার স্ত্রী নাসরিন হককে নিয়ে গত ২০ ডিসেম্বর ‘এক ভবনেই আট ফ্ল্যাট সাব-রেজিস্ট্রারের স্ত্রীর, স্বামীর দুর্নীতির টাকায় সম্পদ’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ পেয়েছিল। যেখানে সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার ও তার স্ত্রী নাসরিন হকের অঢেল সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নামে-বেনামে এই দম্পতির রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর ছাড়াও এই দম্পতির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছিল।এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

সূত্র বলছে,৩১ডিসেম্বর ১৯৬৫ সালে জন্ম হিসেবে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার বয়স মাত্র ৬ বছর হলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটাতেই  করছেন চাকুরী। আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা ৬ এর অধীনে, ২০২৪ সালের ১৮ ই নভেম্বর, উপসচিব (রেজিস্ট্রেশন) মো: আজিজুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দীন সরকারকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে তার সার্ভিস আরও ১ বছর এক্সটেনশন করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ২৬ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সাব-রেজিস্টার এখনো বহাল শিরোনামে নিউজ হলে,সেখানেও তার নাম উঠে আসে। এছাড়াও বোরহান উদ্দিন সরকার যেখানেই যান সেখানে একটি নিজ হাতে লিখা ঘুষের ফর্দ ধরিয়ে দেন। যেখানে ওয়ারেশ সূত্রে খারিজ ছাড়া রেজিস্ট্রি করলে ৭ থেকে ১৫ হাজার,DCR (ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদ)  না থাকলে ১৫ হাজার, নামে সমস্যা থাকলে ৭ থেকে ১৫ হাজার,মূল্য মৌজা রেটের থেকে বেশি করলেই দলিল মূল্যের উপর ২% টাকা,একাধিক দলিল একদিনে করলে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, প্লট আকারে বিক্রি করলে দলিল মূল্যের ৩% টাকা ঘুষ হিসাবে তাকে দিতে হয়। যা সংগ্রহ করার জন্য তিনি তার শ্যালক দুলাল ছাড়াও বিভিন্ন আত্মীয়,অফিসের কর্মচারী ও বহিরাগত দালালদের ব্যবহার করতেন।

ভেড়ামারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আনোয়ার হোসাইন বলেন, সাব রেজিস্টারের ঘুষ-বাণিজ্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আমাদের কিছু নেই। এটা আলাদা একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, সাব রেজিস্টার বোরহান উদ্দিন যদি কোন অপরাধ করে থাকে সে বিষয়ে তার মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।

সাব-রেজিস্টার বোরহান উদ্দিন সরকার বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অসত্য। প্রত্যেকটি বিষয়ে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করেই আমি এখানে। আমি মুজিবনগর সরকারের সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছি। “আমি মূলত সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা”। তাছাড়া ১৯৭১ সালের আগে আমার বয়স বেশি থাকলেও সার্টিফিকেটে একটু কমানো ছিল। আমার নামে এর আগেও গণমাধ্যমে নিউজ হয়েছে, কিছুই হয়  নাই।
কুষ্টিয়া জেলা রেজিস্টার  গাজী মোঃ আব্দুল করিম কুষ্টিয়ার খবরকে জানান,ভেড়ামারা ও দৌলতপুর থেকে সাব রেজিস্টার বোরহান উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ লিখিতভাবে কেউ করে নাই।সুতরাং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই।তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে তার অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তিনি মূলত দৌলতপুরের সাব-রেজিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভেড়ামারার অতিরিক্ত দায়িত্বে বহাল আছেন এবং থাকবেন। দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বোরহান উদ্দিন সরকারকে ভেড়ামারায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি তিনি নাকচ করে বলেন,এটা সঠিক নয়।আমি মূলত আমার কাজটি করেছি।সাধারণত বিভিন্ন উপজেলায় সাব-রেজিস্টার না থাকলে তার জায়গায় পার্শ্ববর্তী উপজেলার সাব রেজিস্টারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভেড়ামারাতে তিন মাস ধরে সাব রেজিস্টার না থাকার বিষয়ে  তিনি বলেন, আশা করছি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সাব রেজিস্টার ভেড়ামারাতে আসবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি

কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় আবারও অতিরিক্ত দায়িত্বে  বিতর্কিত সাব-রেজিস্টার বোরহান উদ্দিন

আপডেট সময় ০৭:৩১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আবারও অফিস করছেন বিতর্কিত সাব-রেজিস্টার বোরহান উদ্দিন সরকার। বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই ভেড়ামারায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। গতকাল ১০ই এপ্রিল সকাল ১১ টায় তিনি ভেড়ামারা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রবেশ করেন।

গত ১৩ ই মার্চ বৃহস্পতিবার  ভেড়ামারায় ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে নিজ কার্যালয়ে ছাত্র-জনতা ও ভুক্তভোগী দ্বারা ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার।একপর্যায়ে রাত ১১টায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনোয়ার হোসাইন এবং ভেড়ামারা থানার ওসি শেখ শহীদুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সের তত্ত্বাবধানে বোরহান উদ্দিনকে কার্যালয় থেকে বের করা হয়। এরপর থেকে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে ভেড়ামারায় আর কোন অফিস করেন নাই।

ভেড়ামারা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় তিন মাস আগে এখানে সাব রেজিস্টারের নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে পদায়িত দায়িত্ব পালন করেছেন মো: কাওসার আলী। এরপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে আসেন মিরপুরের সাব-রেজিস্টার মো. মাহফুজ রানা।তিনি প্রায় দুই মাস মত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বোরহান উদ্দিন সরকার দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই ব্যাপক ঝামেলার সৃষ্টি হয়।এর মধ্যে তিনি আর আসেন নাই। তবে আমরা তাকে বেশ কিছু বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছি। কোন প্রকার অনিয়মের সাথে যুক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

ভেড়ামারা দলিল লেখক সমিতির সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম রুবেল বুধবার জানান, এর আগেও বোরহান উদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্বে একবার ভেড়ামারাতে এসেছিলেন।  এবার কোনরকম ঝামেলা তৈরি হলে আমরা দলিল লেখকরা কলম বিরতিতে যাব।

ভেড়ামারা দলিল লেখক সমিতির এক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তারাও বোরহান উদ্দিন সরকারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে চাইনি। কিন্তু জেলা রেজিস্টার গাজী মো: আব্দুল  করিম তাকেই তাদের ওপরে চাপিয়ে দিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার রেজিস্ট্রেশন বিভাগ সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বোরহান উদ্দিন সরকার ভেড়ামারায় অতিরিক্ত দায়িত্ব নেয়ার জন্য জেলা রেজিস্টার গাজী মো: আব্দুল করিমকে দু’লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ আছে। ভেড়ামারার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনে বোরহান উদ্দিন সরকার ঘুষ বাণিজ্যে অবরুদ্ধ হওয়ার পরও জেলা থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে আবারও ভেড়ামারায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে পাঠানো হয়েছে। গত ২৫ শে মার্চ দৌলতপুর বিএনপি নেতা মন্টি   সরকার ফেসবুকে এই সাব রেজিস্টারের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ তুলেন যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। সূত্র আরও জানায়,বোরহান উদ্দিন যেখানেই দায়িত্ব পালন করতে যান, সেখানেই তিনি তার শ্যালক দুলালের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি বাবদ অতিরিক্ত টাকা ঘুষ হিসাবে সংগ্রহ করাতেন। এর আগেও দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা কালবেলাসহ বিভিন্ন পত্রিকা তার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংবাদ পরিবেশন করেছে। কালবেলায় বোরহান উদ্দিন ও তার স্ত্রী নাসরিন হককে নিয়ে গত ২০ ডিসেম্বর ‘এক ভবনেই আট ফ্ল্যাট সাব-রেজিস্ট্রারের স্ত্রীর, স্বামীর দুর্নীতির টাকায় সম্পদ’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ পেয়েছিল। যেখানে সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার ও তার স্ত্রী নাসরিন হকের অঢেল সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নামে-বেনামে এই দম্পতির রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর ছাড়াও এই দম্পতির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছিল।এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

সূত্র বলছে,৩১ডিসেম্বর ১৯৬৫ সালে জন্ম হিসেবে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার বয়স মাত্র ৬ বছর হলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটাতেই  করছেন চাকুরী। আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা ৬ এর অধীনে, ২০২৪ সালের ১৮ ই নভেম্বর, উপসচিব (রেজিস্ট্রেশন) মো: আজিজুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দীন সরকারকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে তার সার্ভিস আরও ১ বছর এক্সটেনশন করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ২৬ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সাব-রেজিস্টার এখনো বহাল শিরোনামে নিউজ হলে,সেখানেও তার নাম উঠে আসে। এছাড়াও বোরহান উদ্দিন সরকার যেখানেই যান সেখানে একটি নিজ হাতে লিখা ঘুষের ফর্দ ধরিয়ে দেন। যেখানে ওয়ারেশ সূত্রে খারিজ ছাড়া রেজিস্ট্রি করলে ৭ থেকে ১৫ হাজার,DCR (ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদ)  না থাকলে ১৫ হাজার, নামে সমস্যা থাকলে ৭ থেকে ১৫ হাজার,মূল্য মৌজা রেটের থেকে বেশি করলেই দলিল মূল্যের উপর ২% টাকা,একাধিক দলিল একদিনে করলে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, প্লট আকারে বিক্রি করলে দলিল মূল্যের ৩% টাকা ঘুষ হিসাবে তাকে দিতে হয়। যা সংগ্রহ করার জন্য তিনি তার শ্যালক দুলাল ছাড়াও বিভিন্ন আত্মীয়,অফিসের কর্মচারী ও বহিরাগত দালালদের ব্যবহার করতেন।

ভেড়ামারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আনোয়ার হোসাইন বলেন, সাব রেজিস্টারের ঘুষ-বাণিজ্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আমাদের কিছু নেই। এটা আলাদা একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, সাব রেজিস্টার বোরহান উদ্দিন যদি কোন অপরাধ করে থাকে সে বিষয়ে তার মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।

সাব-রেজিস্টার বোরহান উদ্দিন সরকার বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অসত্য। প্রত্যেকটি বিষয়ে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করেই আমি এখানে। আমি মুজিবনগর সরকারের সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছি। “আমি মূলত সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা”। তাছাড়া ১৯৭১ সালের আগে আমার বয়স বেশি থাকলেও সার্টিফিকেটে একটু কমানো ছিল। আমার নামে এর আগেও গণমাধ্যমে নিউজ হয়েছে, কিছুই হয়  নাই।
কুষ্টিয়া জেলা রেজিস্টার  গাজী মোঃ আব্দুল করিম কুষ্টিয়ার খবরকে জানান,ভেড়ামারা ও দৌলতপুর থেকে সাব রেজিস্টার বোরহান উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ লিখিতভাবে কেউ করে নাই।সুতরাং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই।তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে তার অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তিনি মূলত দৌলতপুরের সাব-রেজিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভেড়ামারার অতিরিক্ত দায়িত্বে বহাল আছেন এবং থাকবেন। দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বোরহান উদ্দিন সরকারকে ভেড়ামারায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি তিনি নাকচ করে বলেন,এটা সঠিক নয়।আমি মূলত আমার কাজটি করেছি।সাধারণত বিভিন্ন উপজেলায় সাব-রেজিস্টার না থাকলে তার জায়গায় পার্শ্ববর্তী উপজেলার সাব রেজিস্টারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভেড়ামারাতে তিন মাস ধরে সাব রেজিস্টার না থাকার বিষয়ে  তিনি বলেন, আশা করছি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সাব রেজিস্টার ভেড়ামারাতে আসবে।