শ্রীমঙ্গল আনওয়ারুল উলূম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজ মাওলানা মাহবুব আহমদ সালেহ এর শিক্ষতার বয়স ৩৫ বছর। এর মধ্যে তিনি বিগত ১৬ বছর থেকে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার তার অবসরে চলে যাওয়ার কারণে চাকুরির শেষ কর্ম দিবস ছিল। তাই মাদ্রাসায় তার সহকর্মী, বর্তমান ও প্রাক্তণ শিক্ষার্থী এবং হিতাকাঙ্ক্ষীদের উদ্যোগে মাদ্রাসা মাঠে আয়োজন করা হয় তার রাজসিক বিদায় সংবর্ধনা।
এসময় তাকে দেয়া হয় মানপত্র, ক্রেস্ট, পোষাক-পরিচ্ছদ ও নগদ ৫০ হাজার টাকার চেক।
এসময় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, এই সু-দীর্ঘ সময়ে অধ্যক্ষের মাধ্যমে তারা তার থেকে জ্ঞানের আলো নিয়ে আলোকিত মানুষ হয়েছেন। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। দীর্ঘ পথ চলায় তিনি দুধের মত সাদা ছিলেন। তার চরিত্রে কেউ কোন অপবাদ দিতে পারেনি। তার বিনয়ী আচরণে তার ওপর সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ মুগ্ধ ছিলেন। তার মাধ্যমে হাজার হাজার আলেম সৃষ্টি হয়েছে। যারা বিশ্বের নানা প্রান্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আল্লাহর একত্ববাদ প্রচারে কাজ করছেন। তারা মহানবী মোহাম্মদ সাঃ এর আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে সমাজের মানুষের ভালো কাজ করে যাচ্ছেন বলে বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
ভালোবাসার টানে এসময় ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুর নূর (১০০) এই বয়োবৃদ্ধ বয়সে হুইল চেয়ারে করে ছুটে চলে আসেন মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে। তার সভাপতিত্বে ও মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা রাশিদ আলী, সামসুল ইসলাম শামীম ও সাকিবুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিলীপ বর্ধন, শ্রীমঙ্গল এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক এর সভাপতি হাজী মোস্তাক এলাহী চমন, শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ, মাওলানা মুজিবুর রহমান আল মাদানী, নূরুল আহাদ, তোফায়েল আহমদ, মাওলানা এবিএম শামসুদোহা খান, শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কিবরিয়া হোসেন, সিরাজুল ইসলাম শওকত প্রমুখ। উল্লেখ্য অধ্যক্ষ হাফিজ মাওলানা মাহবুব আহমদ সালেহ এর বাড়ী সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার নোয়াই গ্রামে। সামনের রামাদ্বান মাস পর তিনি তার গ্রামের বাড়ীতে চলে যাবেন বলে জানা গেছে।
মোঃ আঃ রাজ্জাক শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) 





















