ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা হলে কি কোনো অর্থ পান ফুটবলাররা? তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে জলাবদ্ধতা, স্থবির জনজীবন টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার সবজির বাজারে ক্রেতা সংকট, বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ীরা ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ ৪৫০ কোটির ‘কিং’ নিয়ে আসছেন বাবা-মেয়ে আওয়ামী লীগ আমলের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বন্যায় প্রাণহানি : রিজভী যে কারণে আর্জেন্টিনার চেয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছেন বুশরা খান নিদ্রা প্রতারণা মামলায় বিএসবি গ্লোবালের খায়রুল বাশারের আরও ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

শ্রীপুরে নকল ব্যাটারির পানি উৎপাদন প্রতারণার ফাঁদে গ্রাহকরা

গাজীপুরের শ্রীপুরে দীর্ঘ এক দশক ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র নামিদামি ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করে নকল ব্যাটারির পানি তৈরি ও বাজারজাত করছে। হ্যামকো, ভলবো, নাভানাসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় কোম্পানির নামের মোড়ক লাগিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে, যা ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার আবদার দক্ষিণপাড়া গ্রামে ‘রয়েল ব্যাটারি’ নামের একটি কারখানার আড়ালে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা। কারখানার মালিক নেওয়াজ শরীফ মিন্টু অভিনব কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে নকল ব্যাটারির পানি উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাটিতে শিশু শ্রমিকদের কম মজুরিতে কাজে লাগানো হচ্ছে। তাদের দিয়ে পানির ট্যাংক থেকে বোতল ভর্তি করানো হয়, এরপর নকল মোড়ক লাগিয়ে বাজারে ছাড়া হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার বোতল নকল ব্যাটারির পানি শ্রীপুর, গাজীপুর সদর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিবহনের মাধ্যমে ২ লিটার ও ৫ লিটারের বোতল ও ক্যান্টিনের মাধ্যমে এই প্রতারণার জাল বিস্তৃত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, নকল পানি ব্যবহারের ফলে তাদের ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি, নামিদামি কোম্পানির ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যা পুরো বাজার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘‘বিভিন্ন কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে প্রতারণা করা ভয়ংকর অপরাধ। সেইসাথে শিশুশ্রমের বিষয়টিও উদ্বেগজনক। অবিলম্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কারখানাটি সিলগালা করা উচিত।’’

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ জানান,‘‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা হলে কি কোনো অর্থ পান ফুটবলাররা?

শ্রীপুরে নকল ব্যাটারির পানি উৎপাদন প্রতারণার ফাঁদে গ্রাহকরা

আপডেট সময় ০২:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

গাজীপুরের শ্রীপুরে দীর্ঘ এক দশক ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র নামিদামি ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করে নকল ব্যাটারির পানি তৈরি ও বাজারজাত করছে। হ্যামকো, ভলবো, নাভানাসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় কোম্পানির নামের মোড়ক লাগিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে, যা ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার আবদার দক্ষিণপাড়া গ্রামে ‘রয়েল ব্যাটারি’ নামের একটি কারখানার আড়ালে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা। কারখানার মালিক নেওয়াজ শরীফ মিন্টু অভিনব কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে নকল ব্যাটারির পানি উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাটিতে শিশু শ্রমিকদের কম মজুরিতে কাজে লাগানো হচ্ছে। তাদের দিয়ে পানির ট্যাংক থেকে বোতল ভর্তি করানো হয়, এরপর নকল মোড়ক লাগিয়ে বাজারে ছাড়া হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার বোতল নকল ব্যাটারির পানি শ্রীপুর, গাজীপুর সদর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিবহনের মাধ্যমে ২ লিটার ও ৫ লিটারের বোতল ও ক্যান্টিনের মাধ্যমে এই প্রতারণার জাল বিস্তৃত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, নকল পানি ব্যবহারের ফলে তাদের ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি, নামিদামি কোম্পানির ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যা পুরো বাজার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘‘বিভিন্ন কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে প্রতারণা করা ভয়ংকর অপরাধ। সেইসাথে শিশুশ্রমের বিষয়টিও উদ্বেগজনক। অবিলম্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কারখানাটি সিলগালা করা উচিত।’’

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ জানান,‘‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।