ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ শেষ হচ্ছে অপেক্ষা, বৃহস্পতিবার প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ চিকিৎসা শিক্ষার বিকাশে আট দশক ধরে অবদান রেখে চলেছে ঢামেক : প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর জার্সি কোনোদিনই পেতেন না মেসি, কী ঘটেছিল তখন? ভূমি দখল ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত আলী আফজাল রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল সংবাদ প্রকাশের পর কালুখালীর অসহায় রাসেল মণ্ডলের পাশে উপজেলা প্রশাসন গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ

সুনামগঞ্জের নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের গর্ভকালীন স্বাস্থ্য ও নরমাল ডেলীভারি ও শিশু সেবা কার্যক্রম প্রায় এক বছর যাবত বন্ধ রয়েছে। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একমাত্র সহকারী নার্সিং অ্যাটেন্ডেন্ট গত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অন্যত্র বদলি হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ফলে প্রত্যন্ত এলাকার অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা নিরাপদ প্রসব নিয়ে দুশ্চিন্তা গ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। উপায় না থাকায় এসব অন্তঃসত্ত্বা মা দেরকে বাধ্য হয়ে গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ প্রসবের জন্য ১৪ কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দুইটি ইউনিয়নের অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া এলাকায় ৫০ শতক জমিতে ২০১৩ ইং সালে স্থাপিত হয় ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। যা বংশীকু-া দক্ষিণ ও পার্শ্ববর্তী বংশীকু-া উত্তর এই দুইটি ইউনিয়নের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র। ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ক্ষুদ্র পরিসরে চালু হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাযায়, একটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ২ জন মেডিকেল অফিসার, ২ জন ফ্যামেলি মেটারনিটি এটেনডেন্ট (এফএমএ), ৩ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ১ জন ফার্মাসিস্ট, ১ জন অফিস সহকারী, ১ জন অফিস সহায়ক, ২ জন নাইটগার্ডের ন্যূনতম পোস্ট থাকলেও বর্তমানে এখানে মাত্র একজন ফার্মাসিস্ট, একজন আয়া ও একজন নৈশ্যপ্রহরী ছাড়া আর কোনো লোকবল নেই।

নৈশ্য প্রহরীও দীর্ঘদিন যাবত শারিরীক অসুস্থতাজনিত কারনে রয়েছেন ছুটিতে। পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ না থাকলেও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ ইউনিট থেকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী নার্সিং অ্যাটেন্ডেন্ট সূর্যমণি আক্তার এতদিন সেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন এ কেন্দ্রটিতে নিয়মিত অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা সহ নরমাল ডেলিভারি সেবা কার্যক্রম চালু ছিল। এতে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত ওই এলাকায় মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা পেত সকল শ্রেনীর জনসাধারন। কিন্তু সূর্যমনি আক্তার গত ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর অন্যত্র বদলি হয়ে যান। ফলে প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের গর্ভকালীন স্বাস্থ্য ও নরমাল ডেলীভারি সেবা বন্ধ রয়েছে এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে।

বর্তমানে শুধুমাত্র একজন ফার্মাসিস্ট কর্মরত রয়েছেন। এতে মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম বিশেষ করে নরমাল ডেলীভারি সেবা পুরোপুরিভাবে বন্ধ রয়েছে। বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কালাগড় গ্রামের গৃহবধূ মনোয়ারা আক্তার বলেন, দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সন্তানসম্ভবা মায়েদের অন্য উপজেলার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ প্রসবের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এখানে একজন দক্ষ প্রসব সেবাদানকারী পদায়ন করা জরুরি দরকার। মধ্যনগরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই।

এ উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম পাশের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পরিচালিত হয়। ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মা ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান রনি বলেন, এ বিষয়টি লিখিতভাবে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দুইজন মিডওয়াইফ যোগদানের কথা ছিল গত অক্টোবর মাসে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ যোগদান করেনি। মধ্যনগর
উপজেলার এুিতেই যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে পিছিয়ে রয়েছে। ওই উপজেলায় এখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন হয়নি। ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে অন্তত দুইজন মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রটিতে নরমাল ডেলীভারি সেবা কার্যক্রম চালু করতে আমি চেষ্টা করছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ

আপডেট সময় ০৮:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪

সুনামগঞ্জের নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের গর্ভকালীন স্বাস্থ্য ও নরমাল ডেলীভারি ও শিশু সেবা কার্যক্রম প্রায় এক বছর যাবত বন্ধ রয়েছে। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একমাত্র সহকারী নার্সিং অ্যাটেন্ডেন্ট গত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অন্যত্র বদলি হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ফলে প্রত্যন্ত এলাকার অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা নিরাপদ প্রসব নিয়ে দুশ্চিন্তা গ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। উপায় না থাকায় এসব অন্তঃসত্ত্বা মা দেরকে বাধ্য হয়ে গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ প্রসবের জন্য ১৪ কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দুইটি ইউনিয়নের অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া এলাকায় ৫০ শতক জমিতে ২০১৩ ইং সালে স্থাপিত হয় ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। যা বংশীকু-া দক্ষিণ ও পার্শ্ববর্তী বংশীকু-া উত্তর এই দুইটি ইউনিয়নের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র। ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ক্ষুদ্র পরিসরে চালু হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাযায়, একটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ২ জন মেডিকেল অফিসার, ২ জন ফ্যামেলি মেটারনিটি এটেনডেন্ট (এফএমএ), ৩ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ১ জন ফার্মাসিস্ট, ১ জন অফিস সহকারী, ১ জন অফিস সহায়ক, ২ জন নাইটগার্ডের ন্যূনতম পোস্ট থাকলেও বর্তমানে এখানে মাত্র একজন ফার্মাসিস্ট, একজন আয়া ও একজন নৈশ্যপ্রহরী ছাড়া আর কোনো লোকবল নেই।

নৈশ্য প্রহরীও দীর্ঘদিন যাবত শারিরীক অসুস্থতাজনিত কারনে রয়েছেন ছুটিতে। পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ না থাকলেও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ ইউনিট থেকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী নার্সিং অ্যাটেন্ডেন্ট সূর্যমণি আক্তার এতদিন সেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন এ কেন্দ্রটিতে নিয়মিত অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা সহ নরমাল ডেলিভারি সেবা কার্যক্রম চালু ছিল। এতে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত ওই এলাকায় মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা পেত সকল শ্রেনীর জনসাধারন। কিন্তু সূর্যমনি আক্তার গত ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর অন্যত্র বদলি হয়ে যান। ফলে প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের গর্ভকালীন স্বাস্থ্য ও নরমাল ডেলীভারি সেবা বন্ধ রয়েছে এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে।

বর্তমানে শুধুমাত্র একজন ফার্মাসিস্ট কর্মরত রয়েছেন। এতে মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম বিশেষ করে নরমাল ডেলীভারি সেবা পুরোপুরিভাবে বন্ধ রয়েছে। বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কালাগড় গ্রামের গৃহবধূ মনোয়ারা আক্তার বলেন, দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সন্তানসম্ভবা মায়েদের অন্য উপজেলার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ প্রসবের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এখানে একজন দক্ষ প্রসব সেবাদানকারী পদায়ন করা জরুরি দরকার। মধ্যনগরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই।

এ উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম পাশের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পরিচালিত হয়। ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মা ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান রনি বলেন, এ বিষয়টি লিখিতভাবে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দুইজন মিডওয়াইফ যোগদানের কথা ছিল গত অক্টোবর মাসে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ যোগদান করেনি। মধ্যনগর
উপজেলার এুিতেই যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে পিছিয়ে রয়েছে। ওই উপজেলায় এখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন হয়নি। ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে অন্তত দুইজন মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রটিতে নরমাল ডেলীভারি সেবা কার্যক্রম চালু করতে আমি চেষ্টা করছি।