সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

অনেক বন্যা দেখেছি, এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি দেখিনি

বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় এখনো খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে বানভাসি অনেক মানুষ। বৃষ্টি বাদলে মাথার ওপর পাতলা পলিথিন তাদের ভরসা। সব হারানো এসব মানুষ জানেনও না, আদৌ ফিরতে পারবেন কিনা নিজ বাড়িতে। আপাতত বাঁচার জন্য খাবার আর পরে পুনর্বাসনে সবার সহায়তা চেয়েছেন তারা।

ভোগান্তি নিয়ে কথা হয় কুমিল্লা সদরের শাহ আলমের সাথে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে তলিয়ে গেছে তার বাড়ি। এখন পাশের উঁচু রাস্তায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তার বসবাস।

শাহ আলম বলেন, এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি। খাবার কষ্ট, সবকিছুরই কষ্ট। রাস্তার ওপরে আশ্রয় নিয়েছি। মশার উৎপাতে ঘুমাতেও পারি না।

শাহ আলমের মতো কুমিল্লার এমন শতশত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে রাস্তার পাশে। ঘোষিত আশ্রয় কেন্দ্র না খোলায় এখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা মিলছে না। বানের পানিতেই তাদের ধোয়া-মাজা চলে। পয়ঃনিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নানা ভোগান্তিও বাড়ছে এসব মানুষদের।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, ছোট থেকে অনেক বন্যা দেখেছি। কিন্তু এবারের মতো এমন ভয়ঙ্কর বন্যা কখনো দেখিনি। বাড়িঘর, সম্পদ সব হারিয়ে গেছে। এমন অসহায় অবস্থায় জীবনেও পড়িনি আমরা।

আরেকজন বলেন, এই কষ্টের শেষ কবে হবে? কোনদিন আমরা আবার ফিরব নিজের বাড়িতে?

ভুক্তভোগী এসব মানুষজন জানেন না, কবে নামবে পানি, ফিরবেন আপন ঠিকানায়। তার চেয়েও বড় চিন্তা ফিরে থাকবেন কোথায়, বাড়ি ঘর সম্পদ সবই তো তলিয়ে গেছে। তাই অনিশ্চিত তাদের ভবিষ্যৎ। ভুক্তভোগী এসব মানুষের প্রার্থনা, নতুন করে আর পানি না বাড়ুক।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

অনেক বন্যা দেখেছি, এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি দেখিনি

আপডেট সময় ১১:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৪

বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় এখনো খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে বানভাসি অনেক মানুষ। বৃষ্টি বাদলে মাথার ওপর পাতলা পলিথিন তাদের ভরসা। সব হারানো এসব মানুষ জানেনও না, আদৌ ফিরতে পারবেন কিনা নিজ বাড়িতে। আপাতত বাঁচার জন্য খাবার আর পরে পুনর্বাসনে সবার সহায়তা চেয়েছেন তারা।

ভোগান্তি নিয়ে কথা হয় কুমিল্লা সদরের শাহ আলমের সাথে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে তলিয়ে গেছে তার বাড়ি। এখন পাশের উঁচু রাস্তায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তার বসবাস।

শাহ আলম বলেন, এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি। খাবার কষ্ট, সবকিছুরই কষ্ট। রাস্তার ওপরে আশ্রয় নিয়েছি। মশার উৎপাতে ঘুমাতেও পারি না।

শাহ আলমের মতো কুমিল্লার এমন শতশত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে রাস্তার পাশে। ঘোষিত আশ্রয় কেন্দ্র না খোলায় এখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা মিলছে না। বানের পানিতেই তাদের ধোয়া-মাজা চলে। পয়ঃনিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নানা ভোগান্তিও বাড়ছে এসব মানুষদের।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, ছোট থেকে অনেক বন্যা দেখেছি। কিন্তু এবারের মতো এমন ভয়ঙ্কর বন্যা কখনো দেখিনি। বাড়িঘর, সম্পদ সব হারিয়ে গেছে। এমন অসহায় অবস্থায় জীবনেও পড়িনি আমরা।

আরেকজন বলেন, এই কষ্টের শেষ কবে হবে? কোনদিন আমরা আবার ফিরব নিজের বাড়িতে?

ভুক্তভোগী এসব মানুষজন জানেন না, কবে নামবে পানি, ফিরবেন আপন ঠিকানায়। তার চেয়েও বড় চিন্তা ফিরে থাকবেন কোথায়, বাড়ি ঘর সম্পদ সবই তো তলিয়ে গেছে। তাই অনিশ্চিত তাদের ভবিষ্যৎ। ভুক্তভোগী এসব মানুষের প্রার্থনা, নতুন করে আর পানি না বাড়ুক।