ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

অনেক বন্যা দেখেছি, এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি দেখিনি

বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় এখনো খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে বানভাসি অনেক মানুষ। বৃষ্টি বাদলে মাথার ওপর পাতলা পলিথিন তাদের ভরসা। সব হারানো এসব মানুষ জানেনও না, আদৌ ফিরতে পারবেন কিনা নিজ বাড়িতে। আপাতত বাঁচার জন্য খাবার আর পরে পুনর্বাসনে সবার সহায়তা চেয়েছেন তারা।

ভোগান্তি নিয়ে কথা হয় কুমিল্লা সদরের শাহ আলমের সাথে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে তলিয়ে গেছে তার বাড়ি। এখন পাশের উঁচু রাস্তায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তার বসবাস।

শাহ আলম বলেন, এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি। খাবার কষ্ট, সবকিছুরই কষ্ট। রাস্তার ওপরে আশ্রয় নিয়েছি। মশার উৎপাতে ঘুমাতেও পারি না।

শাহ আলমের মতো কুমিল্লার এমন শতশত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে রাস্তার পাশে। ঘোষিত আশ্রয় কেন্দ্র না খোলায় এখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা মিলছে না। বানের পানিতেই তাদের ধোয়া-মাজা চলে। পয়ঃনিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নানা ভোগান্তিও বাড়ছে এসব মানুষদের।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, ছোট থেকে অনেক বন্যা দেখেছি। কিন্তু এবারের মতো এমন ভয়ঙ্কর বন্যা কখনো দেখিনি। বাড়িঘর, সম্পদ সব হারিয়ে গেছে। এমন অসহায় অবস্থায় জীবনেও পড়িনি আমরা।

আরেকজন বলেন, এই কষ্টের শেষ কবে হবে? কোনদিন আমরা আবার ফিরব নিজের বাড়িতে?

ভুক্তভোগী এসব মানুষজন জানেন না, কবে নামবে পানি, ফিরবেন আপন ঠিকানায়। তার চেয়েও বড় চিন্তা ফিরে থাকবেন কোথায়, বাড়ি ঘর সম্পদ সবই তো তলিয়ে গেছে। তাই অনিশ্চিত তাদের ভবিষ্যৎ। ভুক্তভোগী এসব মানুষের প্রার্থনা, নতুন করে আর পানি না বাড়ুক।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

অনেক বন্যা দেখেছি, এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি দেখিনি

আপডেট সময় ১১:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৪

বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় এখনো খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে বানভাসি অনেক মানুষ। বৃষ্টি বাদলে মাথার ওপর পাতলা পলিথিন তাদের ভরসা। সব হারানো এসব মানুষ জানেনও না, আদৌ ফিরতে পারবেন কিনা নিজ বাড়িতে। আপাতত বাঁচার জন্য খাবার আর পরে পুনর্বাসনে সবার সহায়তা চেয়েছেন তারা।

ভোগান্তি নিয়ে কথা হয় কুমিল্লা সদরের শাহ আলমের সাথে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে তলিয়ে গেছে তার বাড়ি। এখন পাশের উঁচু রাস্তায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তার বসবাস।

শাহ আলম বলেন, এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি। খাবার কষ্ট, সবকিছুরই কষ্ট। রাস্তার ওপরে আশ্রয় নিয়েছি। মশার উৎপাতে ঘুমাতেও পারি না।

শাহ আলমের মতো কুমিল্লার এমন শতশত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে রাস্তার পাশে। ঘোষিত আশ্রয় কেন্দ্র না খোলায় এখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা মিলছে না। বানের পানিতেই তাদের ধোয়া-মাজা চলে। পয়ঃনিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নানা ভোগান্তিও বাড়ছে এসব মানুষদের।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, ছোট থেকে অনেক বন্যা দেখেছি। কিন্তু এবারের মতো এমন ভয়ঙ্কর বন্যা কখনো দেখিনি। বাড়িঘর, সম্পদ সব হারিয়ে গেছে। এমন অসহায় অবস্থায় জীবনেও পড়িনি আমরা।

আরেকজন বলেন, এই কষ্টের শেষ কবে হবে? কোনদিন আমরা আবার ফিরব নিজের বাড়িতে?

ভুক্তভোগী এসব মানুষজন জানেন না, কবে নামবে পানি, ফিরবেন আপন ঠিকানায়। তার চেয়েও বড় চিন্তা ফিরে থাকবেন কোথায়, বাড়ি ঘর সম্পদ সবই তো তলিয়ে গেছে। তাই অনিশ্চিত তাদের ভবিষ্যৎ। ভুক্তভোগী এসব মানুষের প্রার্থনা, নতুন করে আর পানি না বাড়ুক।