ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিএইতে নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগে তোপের মুখে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ১৭ বছর ধরে বাডাসের মহাসচিব সাইফ উদ্দিনকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ ভুয়া ডি-নোট বিতর্কে বহাল রুহুল আমিন, অফিস সহায়ক ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে বিএসসিতে দুর্নীতির অভিযোগ, ইউসুফ-জিয়াসহ ৪ জনকে মন্ত্রণালয়ের শুনানিতে তলব বিআইডব্লিউটিএর চাঁদপুর নদী বন্দরে মাহফুজ মোল্লার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ পদ্মা লাইফে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩ আওয়ামী দোসর ইউসুফের ইশারায় চলছে মুদ্রণ অধিদপ্তর ধোপাখলা সীমান্তে বিজিবির অভিযান ভারতীয় ৪টি গরু জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভারতীয় নেশার সিরাপ জব্দ করল ৫৩ বিজিবি

মানিকগঞ্জ পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ৪ কোটি ৩৭ লাখ!

মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পবিসের উচুটিয়া কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রফিকুল ইসলাম।

পৌর মেয়র মো. রমজান আলীর দাবি আর্থিক সংকটের কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিল হালনাগাদ করতে পারছে না।

মানিকগঞ্জ পবিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মূল ভবন, পানি পরিশোধনাগার, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত পৌর সুপার মার্কেট, কাঁচাবাজার, মার্কেট ও সড়কবাতিসহ বিদ্যুৎ সংযোগের ৪৩টি হিসাব নম্বর রয়েছে। এসব হিসাব নম্বরের কোনোটিতেই নিয়মিত বিদুৎ বিল পরিশোধ করা হয় না। এসব সংযোগের বিপরীতে পৌরসভার হিসাব নম্বরে প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে।
উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি মাসেই পৌর কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। বছরের পর বছর তাদের বকেয়া বেড়ে চলেছে। এ অবস্থায় বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের কৌশল হিসেবে পৌর ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পবিস। এছাড়া পৌরসভার অধীন দুটি পানি শোধনাগারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ পবিস সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৪৩টি হিসাবের বিপরীতে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত পৌরসভার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পাওনা বাবদ মোট ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৭ টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে পবিসের ৩ কোটি ৬০ লাখ ৮২ হাজার ৯৪১ টাকা, ডেসাকালীন বকেয়া ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৭০৬ টাকা ও ট্রান্সফরমার ভাড়া বাবদ ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭০০ টাকা বকেয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, রাজস্ব সংকটে পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। এটা পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর থেকেই চলে আসছে। অল্প অল্প করে বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। পবিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পৌরসভার সক্ষমতা অনুযায়ী বিল পরিশোধ করে সংযোগ চালুর ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর সুপার মার্কেট, কাঁচাবাজার ও পৌর টিনশেড মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা।

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পৌর সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লাখলু মিয়া জানান, এ মার্কেটে প্রায় ৩০০ দোকান রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুরো মার্কেট অন্ধকারে। প্রচণ্ড গরমে ক্রেতারাও আসছেন না। ব্যবসায়ীদের বিক্রি বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক করার দাবি জানান।

এদিকে পানি শোধনাগারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ওই সব এলাকার বাসিন্দারাও পানির অভাবে বিপাকে পড়েছেন।

মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. সুলতান নাছিমুল হক বলেন, পৌরসভার ৪ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার নোটিশ দিলেও পৌর কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ করেননি। জেলা সমন্বয় সভা থেকে শুরু করে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে একাধিকবার বকেয়া বিল পরিশোধের তাগিদ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। সর্বশেষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পৌরসভার অধীনে পরিশোধনাগার ও বেশ কয়েকটি বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিল পরিশোধ করলে পুনরায় সংযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএইতে নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগে তোপের মুখে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা

মানিকগঞ্জ পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ৪ কোটি ৩৭ লাখ!

আপডেট সময় ১১:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪

মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পবিসের উচুটিয়া কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রফিকুল ইসলাম।

পৌর মেয়র মো. রমজান আলীর দাবি আর্থিক সংকটের কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিল হালনাগাদ করতে পারছে না।

মানিকগঞ্জ পবিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মূল ভবন, পানি পরিশোধনাগার, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত পৌর সুপার মার্কেট, কাঁচাবাজার, মার্কেট ও সড়কবাতিসহ বিদ্যুৎ সংযোগের ৪৩টি হিসাব নম্বর রয়েছে। এসব হিসাব নম্বরের কোনোটিতেই নিয়মিত বিদুৎ বিল পরিশোধ করা হয় না। এসব সংযোগের বিপরীতে পৌরসভার হিসাব নম্বরে প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে।
উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি মাসেই পৌর কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। বছরের পর বছর তাদের বকেয়া বেড়ে চলেছে। এ অবস্থায় বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের কৌশল হিসেবে পৌর ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পবিস। এছাড়া পৌরসভার অধীন দুটি পানি শোধনাগারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ পবিস সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৪৩টি হিসাবের বিপরীতে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত পৌরসভার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পাওনা বাবদ মোট ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৭ টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে পবিসের ৩ কোটি ৬০ লাখ ৮২ হাজার ৯৪১ টাকা, ডেসাকালীন বকেয়া ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৭০৬ টাকা ও ট্রান্সফরমার ভাড়া বাবদ ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭০০ টাকা বকেয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, রাজস্ব সংকটে পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। এটা পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর থেকেই চলে আসছে। অল্প অল্প করে বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। পবিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পৌরসভার সক্ষমতা অনুযায়ী বিল পরিশোধ করে সংযোগ চালুর ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর সুপার মার্কেট, কাঁচাবাজার ও পৌর টিনশেড মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা।

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পৌর সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লাখলু মিয়া জানান, এ মার্কেটে প্রায় ৩০০ দোকান রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুরো মার্কেট অন্ধকারে। প্রচণ্ড গরমে ক্রেতারাও আসছেন না। ব্যবসায়ীদের বিক্রি বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক করার দাবি জানান।

এদিকে পানি শোধনাগারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ওই সব এলাকার বাসিন্দারাও পানির অভাবে বিপাকে পড়েছেন।

মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. সুলতান নাছিমুল হক বলেন, পৌরসভার ৪ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার নোটিশ দিলেও পৌর কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ করেননি। জেলা সমন্বয় সভা থেকে শুরু করে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে একাধিকবার বকেয়া বিল পরিশোধের তাগিদ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। সর্বশেষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পৌরসভার অধীনে পরিশোধনাগার ও বেশ কয়েকটি বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিল পরিশোধ করলে পুনরায় সংযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।