ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে পৌঁছেছে। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৬ হাজারের বেশি পরিবার এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নিহতদের মধ্যে কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা সরাসরি ভূমিকম্প ও পরবর্তী আফটারশকের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারকর্মীদের অপেক্ষায় আছেন। প্রতিটি সেকেন্ডই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকাজ এখনও চলমান এবং এটি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা একটি লড়াই।
ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাসদস্যরা স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এদিকে, এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জরুরি প্রয়োজন নির্ধারণে সরকার একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কুমামোতো প্রিফেকচারে ভূমিকম্পের পর ৯ হাজার ৮৭২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০টি পরিবার এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

কুমামোতোর একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির দ্বিতীয় তলা ধসে পড়েছে। এছাড়া একটি কারখানায় চিমনি ধসে পড়ার পর সেখানেও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি জাপান। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত দেশটিতে প্রতি বছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশই জাপানে ঘটে। এর আগে ২০১১ সালের ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হন এবং মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএসসিতে দুর্নীতির অভিযোগ, ইউসুফ-জিয়াসহ ৪ জনকে মন্ত্রণালয়ের শুনানিতে তলব

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩

আপডেট সময় ০১:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে পৌঁছেছে। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৬ হাজারের বেশি পরিবার এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নিহতদের মধ্যে কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা সরাসরি ভূমিকম্প ও পরবর্তী আফটারশকের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারকর্মীদের অপেক্ষায় আছেন। প্রতিটি সেকেন্ডই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকাজ এখনও চলমান এবং এটি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা একটি লড়াই।
ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাসদস্যরা স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এদিকে, এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জরুরি প্রয়োজন নির্ধারণে সরকার একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কুমামোতো প্রিফেকচারে ভূমিকম্পের পর ৯ হাজার ৮৭২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০টি পরিবার এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

কুমামোতোর একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির দ্বিতীয় তলা ধসে পড়েছে। এছাড়া একটি কারখানায় চিমনি ধসে পড়ার পর সেখানেও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি জাপান। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত দেশটিতে প্রতি বছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশই জাপানে ঘটে। এর আগে ২০১১ সালের ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হন এবং মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।