ঢাকা ০৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি রাজৈরে লিবিয়ায় নির্যাতনের পর নিহত সোহাগ মুন্সি পরিবারের থানায় অভিযোগ মোবাইল কোর্টের অভিযানে হেলমেট না পরায় ৫ মামলায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নিয়ে মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে: পবিপ্রবি উপাচার্য বর্তমানে পত্রিকার পাতায় গুম, খুন, ব্যাংক লুটের খবর নেই : পার্থ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মিলন রানীর পাশে উপজেলা প্রশাসন জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দেবেন না : ডা. শফিকুর রহমান

দুধ পাস্তুরাইজ না করেই হাতিয়ে নিল ২৫ লাখ টাকা

ঢাকার সাভার গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার থেকে সপ্তাহে দুদিন মন্ত্রণালয়ে দুধ সরবরাহ করা হয়। আর অন্যান্য দিন উন্মুক্ত থাকে সাধারণ মানুষের জন্য। এসব দুধ পাস্তুরাইজ না করেও প্যাকেটের গায়ে উল্লেখ করা হচ্ছে পাস্তুরাইজকৃত দুধ। মূলত গত ছয় মাস ধরে গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের কর্মকর্তারা পাস্তুরাইজড দুধের নামে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া খাওয়াচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। এ ছাড়া পাস্তুরাইজ না করেই প্যাকেটের গায়ে পাস্তুরাইজ লিখে বাড়তি দাম নিয়ে গত ছয় মাসে ডেইরি কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন অন্তত ২৫ লাখ টাকা।

গত বছরের ৭ জুন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতি লিটার পাস্তুরাইজড দুধের মূল্য ৭০ টাকা ও নন-পাস্তুরাইজড দুধের মূল্য ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ ডেইরি কর্মকর্তারা নন-পাস্তুরাইজড দুধ পাস্তুরাইজড উল্লেখ করে প্যাকেটজাত করে প্রতিলিটার দুধে ১০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছেন। আর পাস্তুরাইজড দুধের নামে ব্যাকটেরিয়া খাওয়াচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।

গবেষকরা বলছেন, পাস্তুরাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গবাদিপশুর কাঁচা দুধ ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উষ্ণ করে আবার ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা করে দুধ প্যাকেটজাত করতে হয়। এর ফলে দুধে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া প্যাথোজেনসহ অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।

সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের বায়ার অফিসার সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় আমরা গ্যাস বিল পরিশোধ করতে পারিনি। ফলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ডেইরি প্লান্টের গ্যাস সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাই দুধ গত ছয় মাস বা কিছু কম সময় ধরে পাস্তুরাইজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

জেনেশুনে মন্ত্রী-সচিবদের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াযুক্ত দুধ খাওয়ানো হচ্ছে কি না-জানতে চাইলে সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের পরিচালক ডা. মো. মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমাদের কাছে বিকল্প কোনো উপায় ছিল না। তাই আমরা পূর্বের পলিতেই (পাস্তুরাইজড উল্লেখকৃত প্যাকেট) ওই দুধ প্যাকেটজাত করে সচিবালয়ে পাঠাই। পাস্তুরাইজ না করেও দুধের মূল্য ১০ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের কারণ ও এই কৌশলে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তার কাছে সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুগ্ধ খামারের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ২৪০টি দুধেল গাভি থেকে প্রতিদিন ১৪শ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়। এই হিসাবে গত ছয় মাসে ২ লাখ ৫২ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিলিটারে পাস্তুরাইজেশনের নামে অতিরিক্ত ১০ টাকা আদায় করা হলে ২ লাখ ৫২ হাজার লিটার দুধে ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্লান্ট চালানোর সদিচ্ছা থাকলে তারা বকেয়া গ্যাস বিল মাত্র ৩ লাখ টাকা এখান থেকেও পরিশোধ করে ডেইরি প্লান্ট চালু করতে পারতেন।

কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের ডেইরি অফিসার রেজওয়ানা আফরীন খান যুগান্তরকে বলেন, ডেইরি প্লান্টের সব বিষয় পরিচালক স্যারের নির্দেশনার আলোকে বাস্তবায়ন করে থাকি। তাই টাকা আত্মসাতের দায় আমার ওপর চাপানো ঠিক হবে না।

 

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি

দুধ পাস্তুরাইজ না করেই হাতিয়ে নিল ২৫ লাখ টাকা

আপডেট সময় ০২:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪

ঢাকার সাভার গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার থেকে সপ্তাহে দুদিন মন্ত্রণালয়ে দুধ সরবরাহ করা হয়। আর অন্যান্য দিন উন্মুক্ত থাকে সাধারণ মানুষের জন্য। এসব দুধ পাস্তুরাইজ না করেও প্যাকেটের গায়ে উল্লেখ করা হচ্ছে পাস্তুরাইজকৃত দুধ। মূলত গত ছয় মাস ধরে গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের কর্মকর্তারা পাস্তুরাইজড দুধের নামে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া খাওয়াচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। এ ছাড়া পাস্তুরাইজ না করেই প্যাকেটের গায়ে পাস্তুরাইজ লিখে বাড়তি দাম নিয়ে গত ছয় মাসে ডেইরি কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন অন্তত ২৫ লাখ টাকা।

গত বছরের ৭ জুন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতি লিটার পাস্তুরাইজড দুধের মূল্য ৭০ টাকা ও নন-পাস্তুরাইজড দুধের মূল্য ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ ডেইরি কর্মকর্তারা নন-পাস্তুরাইজড দুধ পাস্তুরাইজড উল্লেখ করে প্যাকেটজাত করে প্রতিলিটার দুধে ১০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছেন। আর পাস্তুরাইজড দুধের নামে ব্যাকটেরিয়া খাওয়াচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।

গবেষকরা বলছেন, পাস্তুরাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গবাদিপশুর কাঁচা দুধ ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উষ্ণ করে আবার ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা করে দুধ প্যাকেটজাত করতে হয়। এর ফলে দুধে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া প্যাথোজেনসহ অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।

সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের বায়ার অফিসার সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় আমরা গ্যাস বিল পরিশোধ করতে পারিনি। ফলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ডেইরি প্লান্টের গ্যাস সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাই দুধ গত ছয় মাস বা কিছু কম সময় ধরে পাস্তুরাইজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

জেনেশুনে মন্ত্রী-সচিবদের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াযুক্ত দুধ খাওয়ানো হচ্ছে কি না-জানতে চাইলে সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের পরিচালক ডা. মো. মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমাদের কাছে বিকল্প কোনো উপায় ছিল না। তাই আমরা পূর্বের পলিতেই (পাস্তুরাইজড উল্লেখকৃত প্যাকেট) ওই দুধ প্যাকেটজাত করে সচিবালয়ে পাঠাই। পাস্তুরাইজ না করেও দুধের মূল্য ১০ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের কারণ ও এই কৌশলে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তার কাছে সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুগ্ধ খামারের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ২৪০টি দুধেল গাভি থেকে প্রতিদিন ১৪শ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়। এই হিসাবে গত ছয় মাসে ২ লাখ ৫২ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিলিটারে পাস্তুরাইজেশনের নামে অতিরিক্ত ১০ টাকা আদায় করা হলে ২ লাখ ৫২ হাজার লিটার দুধে ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্লান্ট চালানোর সদিচ্ছা থাকলে তারা বকেয়া গ্যাস বিল মাত্র ৩ লাখ টাকা এখান থেকেও পরিশোধ করে ডেইরি প্লান্ট চালু করতে পারতেন।

কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের ডেইরি অফিসার রেজওয়ানা আফরীন খান যুগান্তরকে বলেন, ডেইরি প্লান্টের সব বিষয় পরিচালক স্যারের নির্দেশনার আলোকে বাস্তবায়ন করে থাকি। তাই টাকা আত্মসাতের দায় আমার ওপর চাপানো ঠিক হবে না।