ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

প্রকাশ্য দিবালোকে ভেঙে দেয়া হলো বৃদ্ধের সেলুন

রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যানপুর বাজারে খগেন চন্দ্র শীল (৬৭) নামে এক ব্যক্তির সেলুন ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (২২ মার্চ) সকাল ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন খগেন চন্দ্র শীল।

অভিযুক্তরা হলেন: কল্যানপুর গ্রামের মো. আব্দুল হক শেখের ছেলে ও কল্যানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আতাউল শেখ (৪০), একই গ্রামের মো. আব্দুলের ছেলে মো. আলম (৪০), আব্দুল হাকিম খানের ছেলে মো. ইব্রাহিম (৩০) ও মো. মজিবর ফকিরের ছেলে মো. আকরাম ফকির (২৫)।

খগেন চন্দ্র শীল বলেন, ২০০৪ সালে কল্যানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন মো. সুরুজ মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক ছিলেন মো. মোমতাজ উদ্দিন শেখ। তারা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কল্যানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ১১ টি দোকানবিশিষ্ট একটি মার্কেট নির্মাণ করেন। মার্কেটের নাম দেয়া হয় স্কুল মার্কেট। ২০০৬ সালে ওই মার্কেটের দোকানঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। সেসময় আমি ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি দোকান বরাদ্দ নিই এবং শর্ত অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমি ওই দোকানে সেলুনের ব্যবসা করে আসছি।

তিনি বলেন, ২০২২ সালে মো. আতাউল শেখ কল্যানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন। তিনি সভাপতি হওয়ার পর স্কুল মার্কেটের পেছনে কয়েকটি ঘর তোলা শুরু করেন। আমরা স্কুল মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা কর্নার করার জন্য ঘর নির্মাণ করছেন। এক পর্যায়ে দেখা যায় সেখানে ১১ টি দোকানঘর বিশিষ্ট নতুন মার্কেট করা হয়েছে।

খগেন চন্দ্র শীল আরও বলেন, ৬-৭ মাস আগে আতাউল শেখ আমাদের মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জানান, পুরাতন দোকান ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায়ীদের নতুন মার্কেটের দোকান বরাদ্দ নিতে হবে। এজন্য তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে। আর পুরাতন দেকানগুলো তারা ভেঙে ফেলবেন। আতাউল শেখের কথা অনুযায়ী কয়েকজন ব্যবসায়ী পুরাতন দোকান ছেড়ে টাকা দিয়ে নতুন দোকান বরাদ্দ নেন। আমিও নতুন দেকান বরাদ্দ নিতে রাজী ছিলাম। কিন্তু আতাউল শেখ জানান, তিনি আমাকে কোন দোকান বরাদ্দ দেবেন না। আমার নাকি সেখানে কোন দোকান নেই। উল্টো তিনি আমাকে আমার পুরাতন দোকানঘর ভেঙে এখান থেকে চলে যেতে বলেন। আমি আমার দোকান না ভাঙায় তিনি আমাকে ও আমার ছেলে লিটনকে কয়েকদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। অবশেষে শুক্রবার (২২ মার্চ) সকাল ৮ টার দিকে আমার দোকান বন্ধ থাকার সুযোগে আতাউল শেখ ও তার সহযোগীরা আমার দোকানঘর ভেঙে দোকানে থাকা চেয়ার-টেবিল ও আয়নাসহ সকল মালামাল লুট করে নিয়ে যান। এতে আমার আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

খগেন চন্দ্র শীলের প্রতিবেশী দোকানি রফিকুল ইসলাম বলেন, খগেন একজন দরিদ্র মানুষ। তিনি ও তার ছেলে এই ছোট্ট দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্কুলের নতুন মার্কেটের পথ পরিষ্কার করার জন্য তার দোকান ভাঙা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কল্যনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এক সহ-সভাপতি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির কারো সঙ্গে কোনপ্রকার আলোচনা না করে এবং কোন রেজুলেশন ছাড়াই আতাউল শেখ তার একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের সামনে নতুন মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক অনেক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আতাউল শেখ বলেন, শুক্রবার সকালে আমি বাড়ি থেকেই বের হইনি। তবে খগেন শীলের দোকান ভাঙার বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ দোকান ভাঙার সঙ্গে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কল্যানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগমের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় আছি। দোকান ভাঙার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

তবে রেজুলেশন করে যথাযথ নিয়ম মেনেই স্কুলের সামনে নতুন মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখারুল আলম প্রধান বলেন, ‘দোকান ভাঙার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ্য দিবালোকে ভেঙে দেয়া হলো বৃদ্ধের সেলুন

আপডেট সময় ১১:২২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪

রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যানপুর বাজারে খগেন চন্দ্র শীল (৬৭) নামে এক ব্যক্তির সেলুন ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (২২ মার্চ) সকাল ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন খগেন চন্দ্র শীল।

অভিযুক্তরা হলেন: কল্যানপুর গ্রামের মো. আব্দুল হক শেখের ছেলে ও কল্যানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আতাউল শেখ (৪০), একই গ্রামের মো. আব্দুলের ছেলে মো. আলম (৪০), আব্দুল হাকিম খানের ছেলে মো. ইব্রাহিম (৩০) ও মো. মজিবর ফকিরের ছেলে মো. আকরাম ফকির (২৫)।

খগেন চন্দ্র শীল বলেন, ২০০৪ সালে কল্যানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন মো. সুরুজ মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক ছিলেন মো. মোমতাজ উদ্দিন শেখ। তারা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কল্যানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ১১ টি দোকানবিশিষ্ট একটি মার্কেট নির্মাণ করেন। মার্কেটের নাম দেয়া হয় স্কুল মার্কেট। ২০০৬ সালে ওই মার্কেটের দোকানঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। সেসময় আমি ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি দোকান বরাদ্দ নিই এবং শর্ত অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমি ওই দোকানে সেলুনের ব্যবসা করে আসছি।

তিনি বলেন, ২০২২ সালে মো. আতাউল শেখ কল্যানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন। তিনি সভাপতি হওয়ার পর স্কুল মার্কেটের পেছনে কয়েকটি ঘর তোলা শুরু করেন। আমরা স্কুল মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা কর্নার করার জন্য ঘর নির্মাণ করছেন। এক পর্যায়ে দেখা যায় সেখানে ১১ টি দোকানঘর বিশিষ্ট নতুন মার্কেট করা হয়েছে।

খগেন চন্দ্র শীল আরও বলেন, ৬-৭ মাস আগে আতাউল শেখ আমাদের মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জানান, পুরাতন দোকান ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায়ীদের নতুন মার্কেটের দোকান বরাদ্দ নিতে হবে। এজন্য তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে। আর পুরাতন দেকানগুলো তারা ভেঙে ফেলবেন। আতাউল শেখের কথা অনুযায়ী কয়েকজন ব্যবসায়ী পুরাতন দোকান ছেড়ে টাকা দিয়ে নতুন দোকান বরাদ্দ নেন। আমিও নতুন দেকান বরাদ্দ নিতে রাজী ছিলাম। কিন্তু আতাউল শেখ জানান, তিনি আমাকে কোন দোকান বরাদ্দ দেবেন না। আমার নাকি সেখানে কোন দোকান নেই। উল্টো তিনি আমাকে আমার পুরাতন দোকানঘর ভেঙে এখান থেকে চলে যেতে বলেন। আমি আমার দোকান না ভাঙায় তিনি আমাকে ও আমার ছেলে লিটনকে কয়েকদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। অবশেষে শুক্রবার (২২ মার্চ) সকাল ৮ টার দিকে আমার দোকান বন্ধ থাকার সুযোগে আতাউল শেখ ও তার সহযোগীরা আমার দোকানঘর ভেঙে দোকানে থাকা চেয়ার-টেবিল ও আয়নাসহ সকল মালামাল লুট করে নিয়ে যান। এতে আমার আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

খগেন চন্দ্র শীলের প্রতিবেশী দোকানি রফিকুল ইসলাম বলেন, খগেন একজন দরিদ্র মানুষ। তিনি ও তার ছেলে এই ছোট্ট দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্কুলের নতুন মার্কেটের পথ পরিষ্কার করার জন্য তার দোকান ভাঙা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কল্যনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এক সহ-সভাপতি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির কারো সঙ্গে কোনপ্রকার আলোচনা না করে এবং কোন রেজুলেশন ছাড়াই আতাউল শেখ তার একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের সামনে নতুন মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক অনেক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আতাউল শেখ বলেন, শুক্রবার সকালে আমি বাড়ি থেকেই বের হইনি। তবে খগেন শীলের দোকান ভাঙার বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ দোকান ভাঙার সঙ্গে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কল্যানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগমের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় আছি। দোকান ভাঙার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

তবে রেজুলেশন করে যথাযথ নিয়ম মেনেই স্কুলের সামনে নতুন মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখারুল আলম প্রধান বলেন, ‘দোকান ভাঙার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’।