রাজবাড়ীতে স্বামীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার মামলায় স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক মোসাম্মৎ জাকিয়া পারভীন এ রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত সাহিদা বেগম (৫৭) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলার বংকু গ্রামের মৃত আশরাফ সানার স্ত্রী।
এজাহার ও আদালত সুত্রে জানা যায়, সাহিদা বেগমের স্বামী আশরাফ সানার বাড়ি ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার ওকাপুর গ্রামে । তিনি সাহিদা বেগমকে বিয়ে করে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বংকুর গ্রামে জমি কিনে বাড়ি করেন। এখানে বাড়ি করার পর তিনি আবার সাতক্ষীরা জেলার কলরোয়াতে আরেকটি বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে আশরাফ প্রথম স্ত্রী সাহিদা বেগমের সংসার খরচ দেয়া বন্ধ করে দেন। মাঝে মধ্যেই সাতক্ষীরা থেকে এসে আশরাফ প্রথম স্ত্রী সাহিদার কাছে টাকা চেয়ে মারধর করতেন। টাকা দিতে না পারলে বাড়ি বিক্রি করে দেয়ার হুমকি দিতেন। ঘটনার দিন ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর সকালে আশরাফ সাহিদার কাছে টাকা চেয়ে ঝগড়া করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘর থেকে লোহার রড নিয়ে এসে আশরাফ তা স্ত্রী সাহিদা বেগমকে মারতে যান। তখন সাহিদা বেগম লোহার রডটি আশরাফের কাছ থেকে কেরে নিয়ে তাকেই মাথায় বাড়ি দেন। রডের আঘাতে আশরাফ চিৎকার করে দৌড়ে গিয়ে বাড়ির পাশে ক্ষেতের মধ্যে পড়ে যান। সাহিদা বেগম গিয়ে আশরাফের মাথায় রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই আশরাফ মারা যান। ওইদিনই সাহিদা বেগমের বড় মেয়ে আফরোজা বেগম বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর সাহিদা বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। সেসময় সাহিদা বেগম ৯ মাস কারাভোগের পর থেকে রায় প্রদানের দিন পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। রায় প্রদানের সময় আদালতে উপস্থিত হলে আদালত সাহিদা বেগম কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাজবাড়ী জজ আদালতের সরকারি কৌসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট উজির আলী শেখ বলেন,’আদালত রায় প্রদানের সময় বলেছেন সাহিদা বেগম যে অপরাধ করেছেন এজন্য তার মৃত্যুদণ্ড হয়। কিন্তু আসামির বয়স বিবেচনায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট।’
মোঃ হেলাল উদ্দিন সরদার রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি : 























