ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

আমাগো লেহাপড়ার ইচ্ছা ছিলো

বাংলাদেশের অন্যান্য রেলস্টেশনের মতো নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনে হরহামোশাই দেখা মিলছে পথশিশু। চরম অনাদর, অবহেলা আর নিষ্পেষণে বড় হচ্ছে পথশিশুরা।

জীবিকার তাগিদে বা অন্য কোনো কারণে এই শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে,স্বজনহীন আর দেয়ালহীন স্টেশনেই বসবাস করছে। এদের মধ্যে কেউ ভিক্ষা, কেউ বা জিনিস ফেরি করে। পথশিশুরা দারিদ্র্যতা, অপুষ্টিতে ভোগা বা শিক্ষাহীন জীবন পার করে,তার চেয়ে ভয়ংকর বিষয় পথশিশুরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে‌।

জীবনের এমন পরিণতির অজানা কাহিনী খোঁজার জন্য নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনের পথশিশুদের সাথে কথা হয়।

নীলফামারী সৈয়দপুর রেলস্টেশনে পথশিশুদের মধ্যে একজন মামুন; দীর্ঘদিন থেকেই নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনে বসবাস করছে। মামুন বলে,”আমি দীর্ঘদিন থেকে মায়ের সাথে রেলস্টেশনে থাকি। সারাদিন ভিক্ষা করি। মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইলে দেয় না ‌। বেশির ভাগ সময় মানুষের খারাপ ব্যবহারের শিকার হ‌ই ।কখনো কখনো বোতল কুঁড়িয়ে সেগুলো বেঁচি। যা টেহা পায়,তাই দিয়া খাই ‌। ”

পথশিশু মামুনের স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায়, “স্বপ্ন আমারো ছিলো লেহাপড়ার । কিন্তু পড়াবে কেডা? মায়ের তো অসুখ; বাপে তো নাই। থাকারো জায়গা নাই। রাইতে স্টেশন থাকতে হয়। সারাদিনের প্যাটের খাওয়ার জোগার করতে দিন চলে যায়।”

এই পথশিশুরা জানায়, কোনো অপরাধ না করলেও মানুষ আমাদের অপরাধী ভেবে মারধর করে। কারণ আমাদের কেউ নাই। ঘর না থাকার কারণে আমরা প্ল্যাটফর্মে ঘুমাই। অনেক সময় রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় লাঠি দিয়ে মরে প্ল্যাটফর্ম থেকে তাড়িয়ে দেয়।

ন্যাশনল প্রেস সোসাইটি(NPS) এর রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বলেন , পথশিশুদের নামের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে মেধাবী,চ্যাম্পিয়ান কিংবা গর্বিত করা অনেক কিছু শব্দ, এর জন্য প্রয়োজন শিশু বেড়ে ওঠার সুস্থ, স্বাভাবিক ও শিশু বান্ধব পরিবেশ,পথ শিশুর যেগুলো উৎপাদন বিভাগ আছে যেমন রেলস্টেশন, কোর্টের বারান্দা,বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়,বাস স্টেশন বিশেষ করে দেশের কমলাপুর স্টেশন কে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে পথশিশুদের রক্ষার পদক্ষেপ দ্রুত নিতে হবে আর যদি নেওয়া না হয় তাহলে এই পথশিশুদের অধিকাংশ আস্তে আস্তে বিভিন্ন খারাপ কাজে জড়িয়ে এবং দেশের জন্য হুমকি স্বরূপ হিসেবে দাঁড়ায় এই পথ শিশুরাই।লক্ষ্য একটাই হতে হবে”আসুন পথ শিশু নয়,আমার দেশের‌ সন্তান,আমার দেশের সম্পদ,এগিয়ে নিয়ে যাবে আমার এই বাংলাদেশ”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

আমাগো লেহাপড়ার ইচ্ছা ছিলো

আপডেট সময় ০৯:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বাংলাদেশের অন্যান্য রেলস্টেশনের মতো নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনে হরহামোশাই দেখা মিলছে পথশিশু। চরম অনাদর, অবহেলা আর নিষ্পেষণে বড় হচ্ছে পথশিশুরা।

জীবিকার তাগিদে বা অন্য কোনো কারণে এই শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে,স্বজনহীন আর দেয়ালহীন স্টেশনেই বসবাস করছে। এদের মধ্যে কেউ ভিক্ষা, কেউ বা জিনিস ফেরি করে। পথশিশুরা দারিদ্র্যতা, অপুষ্টিতে ভোগা বা শিক্ষাহীন জীবন পার করে,তার চেয়ে ভয়ংকর বিষয় পথশিশুরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে‌।

জীবনের এমন পরিণতির অজানা কাহিনী খোঁজার জন্য নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনের পথশিশুদের সাথে কথা হয়।

নীলফামারী সৈয়দপুর রেলস্টেশনে পথশিশুদের মধ্যে একজন মামুন; দীর্ঘদিন থেকেই নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনে বসবাস করছে। মামুন বলে,”আমি দীর্ঘদিন থেকে মায়ের সাথে রেলস্টেশনে থাকি। সারাদিন ভিক্ষা করি। মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইলে দেয় না ‌। বেশির ভাগ সময় মানুষের খারাপ ব্যবহারের শিকার হ‌ই ।কখনো কখনো বোতল কুঁড়িয়ে সেগুলো বেঁচি। যা টেহা পায়,তাই দিয়া খাই ‌। ”

পথশিশু মামুনের স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায়, “স্বপ্ন আমারো ছিলো লেহাপড়ার । কিন্তু পড়াবে কেডা? মায়ের তো অসুখ; বাপে তো নাই। থাকারো জায়গা নাই। রাইতে স্টেশন থাকতে হয়। সারাদিনের প্যাটের খাওয়ার জোগার করতে দিন চলে যায়।”

এই পথশিশুরা জানায়, কোনো অপরাধ না করলেও মানুষ আমাদের অপরাধী ভেবে মারধর করে। কারণ আমাদের কেউ নাই। ঘর না থাকার কারণে আমরা প্ল্যাটফর্মে ঘুমাই। অনেক সময় রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় লাঠি দিয়ে মরে প্ল্যাটফর্ম থেকে তাড়িয়ে দেয়।

ন্যাশনল প্রেস সোসাইটি(NPS) এর রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বলেন , পথশিশুদের নামের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে মেধাবী,চ্যাম্পিয়ান কিংবা গর্বিত করা অনেক কিছু শব্দ, এর জন্য প্রয়োজন শিশু বেড়ে ওঠার সুস্থ, স্বাভাবিক ও শিশু বান্ধব পরিবেশ,পথ শিশুর যেগুলো উৎপাদন বিভাগ আছে যেমন রেলস্টেশন, কোর্টের বারান্দা,বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়,বাস স্টেশন বিশেষ করে দেশের কমলাপুর স্টেশন কে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে পথশিশুদের রক্ষার পদক্ষেপ দ্রুত নিতে হবে আর যদি নেওয়া না হয় তাহলে এই পথশিশুদের অধিকাংশ আস্তে আস্তে বিভিন্ন খারাপ কাজে জড়িয়ে এবং দেশের জন্য হুমকি স্বরূপ হিসেবে দাঁড়ায় এই পথ শিশুরাই।লক্ষ্য একটাই হতে হবে”আসুন পথ শিশু নয়,আমার দেশের‌ সন্তান,আমার দেশের সম্পদ,এগিয়ে নিয়ে যাবে আমার এই বাংলাদেশ”