ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে নজরদারিতে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডেমরায় বাড়ি থেকে ২ বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার জাপানে ভারি বৃষ্টিতে ৮ জনের মৃত্যু, টোকিও বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী মোংলা নদীতে দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ হবে : নৌপরিবহনমন্ত্রী যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না: রিজভী শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে; কালিহাতীতে তীব্র ক্ষোভ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ইউপি সচিবকে মারধর করলেন চেয়ারম্যান

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সচিবকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। উপজেলার ১২ নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদে ৮ অক্টোবর রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে জানা যায়, চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহান মাস্টার ও ইউপি সচিব মো. ইমাম হোসেন হাসানের মধ্যে পরিষদের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছে। আজ দুপুরে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে একটি বৈঠক করেন চেয়ারম্যান, সচিব, ইউপি সদস্য ও হিসেব সহকারীসহ অন্যান্যরা।

এ সময় চেয়ারম্যান ও সচিবের তর্ক-বিতর্ক বাধে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহান মাস্টার ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ইমাম হোসেন হাসানকে চর-থাপ্পর দেন।

এ বিষয়ে সচিব মো. ইমাম হোসেন হাসান দৈনিক মাতৃভূমি পত্রিকাকে বলেন, প্রায় দু বছর আগে মোহাম্মদ শাহাজাহান মাস্টার নির্বাচিত হয়েছেন। পরিষদের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে তিনি অনিয়ম দূর্নীতি শুরু করেন। তিনি ঠিকমতো সরকারের ট্যাক্স রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।

সচিব মো. ইমাম আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে বারংবার এসব বিষয়ে বললেও তিনি তোয়াক্কা করছেন না। চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোক দিয়ে বেআইনীভাবে পরিষদ পরিচালনা করেন। আজ দুপুরে পরিষদের ১২ প্রকারের অনিয়ম নিয়ে বৈঠকে বসি আমরা। এ সময় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ট্যাক্সসহ অন্যান্য ফি পরিষদের কথা বললে চেয়ারম্যান আমাকে প্রথমে লাঞ্ছিত করেন, লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ করলে আমাকে চর-থাপ্পর দেন। এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’ এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।

নামপ্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, চেয়ারম্যান নিজস্ব লোকজন দিয়ে পরিষদ পরিচালনা করেন। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা নেই, চেয়ারম্যানের আত্মীয়স্বজন দিয়ে জন্ম-মৃত্যুসনদ ও প্রত্যয়নসহ অন্যান্য কাজ করছেন। যা সরকারি নির্ধারিত ফি থেকে প্রায় কয়েকগুণ বেশি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একই ইউনিয়ন পরিষদের হিসেব সহকারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব মনগড়াভাবে পরিষদ পরিচালনা করেন। বৈঠক চলাকালে চেয়ারম্যান মহোদয় সচিব সাহেবের গালে চর-থাপ্পর মারেন। এ ঘটনায় আমরা হতবাক হয়েছি।’

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহান মাস্টার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি পরিষদের দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে সচিব আমাকে দাপ্তরিক কাজ আমার খেয়ালখুশি মতো করতে অসহযোগিতা করে আসছেন। বৈঠকে তিনি আমার কাজের অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তাই আমি তাঁকে থাপ্পর উঠিয়েছি। তবে তাঁকে আমি মারিনি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌলি মন্ডল বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমি অবগত নই, তবে খোঁজখবর নিব। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ

অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ইউপি সচিবকে মারধর করলেন চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ১০:১৪:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০২৩

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সচিবকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। উপজেলার ১২ নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদে ৮ অক্টোবর রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে জানা যায়, চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহান মাস্টার ও ইউপি সচিব মো. ইমাম হোসেন হাসানের মধ্যে পরিষদের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছে। আজ দুপুরে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে একটি বৈঠক করেন চেয়ারম্যান, সচিব, ইউপি সদস্য ও হিসেব সহকারীসহ অন্যান্যরা।

এ সময় চেয়ারম্যান ও সচিবের তর্ক-বিতর্ক বাধে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহান মাস্টার ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ইমাম হোসেন হাসানকে চর-থাপ্পর দেন।

এ বিষয়ে সচিব মো. ইমাম হোসেন হাসান দৈনিক মাতৃভূমি পত্রিকাকে বলেন, প্রায় দু বছর আগে মোহাম্মদ শাহাজাহান মাস্টার নির্বাচিত হয়েছেন। পরিষদের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে তিনি অনিয়ম দূর্নীতি শুরু করেন। তিনি ঠিকমতো সরকারের ট্যাক্স রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।

সচিব মো. ইমাম আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে বারংবার এসব বিষয়ে বললেও তিনি তোয়াক্কা করছেন না। চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোক দিয়ে বেআইনীভাবে পরিষদ পরিচালনা করেন। আজ দুপুরে পরিষদের ১২ প্রকারের অনিয়ম নিয়ে বৈঠকে বসি আমরা। এ সময় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ট্যাক্সসহ অন্যান্য ফি পরিষদের কথা বললে চেয়ারম্যান আমাকে প্রথমে লাঞ্ছিত করেন, লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ করলে আমাকে চর-থাপ্পর দেন। এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’ এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।

নামপ্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, চেয়ারম্যান নিজস্ব লোকজন দিয়ে পরিষদ পরিচালনা করেন। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা নেই, চেয়ারম্যানের আত্মীয়স্বজন দিয়ে জন্ম-মৃত্যুসনদ ও প্রত্যয়নসহ অন্যান্য কাজ করছেন। যা সরকারি নির্ধারিত ফি থেকে প্রায় কয়েকগুণ বেশি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একই ইউনিয়ন পরিষদের হিসেব সহকারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব মনগড়াভাবে পরিষদ পরিচালনা করেন। বৈঠক চলাকালে চেয়ারম্যান মহোদয় সচিব সাহেবের গালে চর-থাপ্পর মারেন। এ ঘটনায় আমরা হতবাক হয়েছি।’

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহান মাস্টার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি পরিষদের দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে সচিব আমাকে দাপ্তরিক কাজ আমার খেয়ালখুশি মতো করতে অসহযোগিতা করে আসছেন। বৈঠকে তিনি আমার কাজের অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তাই আমি তাঁকে থাপ্পর উঠিয়েছি। তবে তাঁকে আমি মারিনি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌলি মন্ডল বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমি অবগত নই, তবে খোঁজখবর নিব। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’