ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সাগর মুগদায় গ্রেফতার

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী এবং শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ মাহিদুল ইসলাম ওরফে সাগর (৩০)কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামী সাগর গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা সদর থানার মো: ছপির উদ্দিনের পুত্র। সে দীর্ঘ দশ বছর যাবত পলাতক থেকে জীবনযাপন করে আসছিল। সে নিজের নাম পরিবর্তন করে মুগদা এলাকায় দিন মজুর, ভ্যান চালক এবং অটোরিক্সা চালাতো।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যাব-২ এর সিনিয়র এএসপি সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোঃ ফজলুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি দল বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত এবং ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ মাহিদুল ইসলাম ওরফে সাগর (৩০)কে আটক করতে সক্ষম হয়।

মোঃ ফজলুল হক জানান, গ্রেফতারকৃত পরোয়ানাভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ মাহিদুল ইসলাম একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। সাগর গত ২০১৩ সালে বিপুল পরিমান মাদকসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। পরবর্তীতে আসামির বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

র‌্যাব-২ এর সিনিয়র এএসপি জানান, ওই মাদক মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি সাগর ১২ মাস জেল হাজতে থাকার পর বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করে নিয়মিত আদালতে হাজিরা না দিয়ে পলাতক হয়। অন্যদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামি মোঃ মাহিদুল ইসলাম ওরফে সাগরকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান পূর্বক গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু হওয়ার পর থেকে আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপন থেকে জীবনযাপন করে আসছিল।

র‌্যাব বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী সাগর ওই মাদক মামলার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর আরও জানায়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট থেকে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে কখনো দিন মজুর, ভ্যান চালক এবং অটোরিক্সা চালাতো। ওই সব কাজের আড়ালে মাদক পরিবহণ এবং মাদকসেবীদের কাছে মাদক বিক্রি করত।

সিনিয়র এএসপি ফজলুল হক জানান, সম্রতি মুগদা এলাকায় নিজের নাম পরিবর্তন করে সাগর নামে রিক্সা চালাত এবং সে ওই এলাকায় গোপনে বসবাস করে আসছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাইবান্ধা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মনোহরগঞ্জে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন

মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সাগর মুগদায় গ্রেফতার

আপডেট সময় ০১:১৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০২৩

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী এবং শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ মাহিদুল ইসলাম ওরফে সাগর (৩০)কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামী সাগর গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা সদর থানার মো: ছপির উদ্দিনের পুত্র। সে দীর্ঘ দশ বছর যাবত পলাতক থেকে জীবনযাপন করে আসছিল। সে নিজের নাম পরিবর্তন করে মুগদা এলাকায় দিন মজুর, ভ্যান চালক এবং অটোরিক্সা চালাতো।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যাব-২ এর সিনিয়র এএসপি সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোঃ ফজলুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি দল বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত এবং ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ মাহিদুল ইসলাম ওরফে সাগর (৩০)কে আটক করতে সক্ষম হয়।

মোঃ ফজলুল হক জানান, গ্রেফতারকৃত পরোয়ানাভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ মাহিদুল ইসলাম একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। সাগর গত ২০১৩ সালে বিপুল পরিমান মাদকসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। পরবর্তীতে আসামির বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

র‌্যাব-২ এর সিনিয়র এএসপি জানান, ওই মাদক মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি সাগর ১২ মাস জেল হাজতে থাকার পর বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করে নিয়মিত আদালতে হাজিরা না দিয়ে পলাতক হয়। অন্যদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামি মোঃ মাহিদুল ইসলাম ওরফে সাগরকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান পূর্বক গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু হওয়ার পর থেকে আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপন থেকে জীবনযাপন করে আসছিল।

র‌্যাব বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী সাগর ওই মাদক মামলার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর আরও জানায়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট থেকে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে কখনো দিন মজুর, ভ্যান চালক এবং অটোরিক্সা চালাতো। ওই সব কাজের আড়ালে মাদক পরিবহণ এবং মাদকসেবীদের কাছে মাদক বিক্রি করত।

সিনিয়র এএসপি ফজলুল হক জানান, সম্রতি মুগদা এলাকায় নিজের নাম পরিবর্তন করে সাগর নামে রিক্সা চালাত এবং সে ওই এলাকায় গোপনে বসবাস করে আসছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাইবান্ধা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।