ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে নজরদারিতে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডেমরায় বাড়ি থেকে ২ বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার জাপানে ভারি বৃষ্টিতে ৮ জনের মৃত্যু, টোকিও বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী মোংলা নদীতে দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ হবে : নৌপরিবহনমন্ত্রী যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না: রিজভী শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে; কালিহাতীতে তীব্র ক্ষোভ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

সহপাঠীকে মেঝেতে ফেলে তিন ছাত্রীর মারধর, ভিডিও ভাইরাল

পাকিস্তানের লাহোরের অভিজাত একটি প্রাইভেট স্কুলে সহপাঠীদের হাতে এক ছাত্রীর নির্যাতনের শিকার হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা পুলিশ ওই স্কুলের চার ছাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে বলে শনিবার দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে।

টুইটারে অসংখ্যবার শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই স্কুলের তিন ছাত্রী তাদের এক সহপাঠীকে চুল ধরে মেঝেতে ফেলে মারধর করেছে। এ সময় ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের গালাগালি ও মাফ চাওয়ার নির্দেশ দেয় তারা। পাশাপাশি তাকে চড়-থাপ্পড় মারতেও দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর কপালে লাথি মারে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য এক ছাত্রী। আর এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে তাদেরই আরেক সহপাঠী। তবে সহপাঠীকে মারধরের সময় তাদের সবাইকে বেশ হাসি-খুশি ও ঠাট্টা করতে দেখা যায়। এমনকি ওই ছাত্রীর বুকে চেপে বসা এক ছাত্রী নিজের মোবাইল বের করে ছবিও তোলেন।

দেশটির রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাপের (পিটিআই) সদস্য মাহিন ফয়সাল টুইটারে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, এটা দেখে একেবারেই বিরক্ত হয়েছি। লাহোরের স্কারসডেল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দৃশ্য এটি; যেখানে শিক্ষার্থীরা মদ্যপানে অস্বীকৃতি জানানোয় এক সহপাঠীকে লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি অগ্রহণযোগ্য। আমি আশা করি মেয়েদের বিরুদ্ধে গুরুতর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পাকিস্তানের দৈনিক ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৬ জানুয়ারি ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির (ডিএইচএ) বিবি ব্লকে অবস্থিত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ওই ঘটনা ঘটেছে।

এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর লাহোরের ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ বলেছে, ছাত্রীদের মারামারির এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর বাবা ইমরান ইউনুসের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। মেয়ে মাদক সেবনে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তার তিন সহপাঠী তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এফআইআরে ওই ছাত্রীর বাবা দাবি করেছেন, মেয়েদের মধ্যে একজন বক্সার ছিল। আর সেই বক্সারই তার মেয়ের মুখে আঘাত করেছে এবং অন্য একজন লাথি মেরেছে। যার ফলে তার মুখে জখম হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর তার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এখন ভাইরাল ভিডিওটি তার এবং পরিবারের জন্য মানসিক নির্যাতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মেয়ের ওপর হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইমরান ইউনুস বলেন, এই ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন একজন মাদকাসক্ত। আমার মেয়েকে স্কুলে একটি মাদক নিতে বলেছিল সে। আমার মেয়ে তা নিতে অস্বীকার করায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ

সহপাঠীকে মেঝেতে ফেলে তিন ছাত্রীর মারধর, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় ০৬:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৩

পাকিস্তানের লাহোরের অভিজাত একটি প্রাইভেট স্কুলে সহপাঠীদের হাতে এক ছাত্রীর নির্যাতনের শিকার হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা পুলিশ ওই স্কুলের চার ছাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে বলে শনিবার দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে।

টুইটারে অসংখ্যবার শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই স্কুলের তিন ছাত্রী তাদের এক সহপাঠীকে চুল ধরে মেঝেতে ফেলে মারধর করেছে। এ সময় ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের গালাগালি ও মাফ চাওয়ার নির্দেশ দেয় তারা। পাশাপাশি তাকে চড়-থাপ্পড় মারতেও দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর কপালে লাথি মারে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য এক ছাত্রী। আর এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে তাদেরই আরেক সহপাঠী। তবে সহপাঠীকে মারধরের সময় তাদের সবাইকে বেশ হাসি-খুশি ও ঠাট্টা করতে দেখা যায়। এমনকি ওই ছাত্রীর বুকে চেপে বসা এক ছাত্রী নিজের মোবাইল বের করে ছবিও তোলেন।

দেশটির রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাপের (পিটিআই) সদস্য মাহিন ফয়সাল টুইটারে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, এটা দেখে একেবারেই বিরক্ত হয়েছি। লাহোরের স্কারসডেল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দৃশ্য এটি; যেখানে শিক্ষার্থীরা মদ্যপানে অস্বীকৃতি জানানোয় এক সহপাঠীকে লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি অগ্রহণযোগ্য। আমি আশা করি মেয়েদের বিরুদ্ধে গুরুতর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পাকিস্তানের দৈনিক ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৬ জানুয়ারি ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির (ডিএইচএ) বিবি ব্লকে অবস্থিত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ওই ঘটনা ঘটেছে।

এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর লাহোরের ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ বলেছে, ছাত্রীদের মারামারির এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর বাবা ইমরান ইউনুসের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। মেয়ে মাদক সেবনে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তার তিন সহপাঠী তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এফআইআরে ওই ছাত্রীর বাবা দাবি করেছেন, মেয়েদের মধ্যে একজন বক্সার ছিল। আর সেই বক্সারই তার মেয়ের মুখে আঘাত করেছে এবং অন্য একজন লাথি মেরেছে। যার ফলে তার মুখে জখম হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর তার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এখন ভাইরাল ভিডিওটি তার এবং পরিবারের জন্য মানসিক নির্যাতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মেয়ের ওপর হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইমরান ইউনুস বলেন, এই ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন একজন মাদকাসক্ত। আমার মেয়েকে স্কুলে একটি মাদক নিতে বলেছিল সে। আমার মেয়ে তা নিতে অস্বীকার করায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।