ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জ্বালানি সংকট থেকে বের হতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী দুই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, ১৯ আগস্ট স্বাভাবিক হওয়ার আশা খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে: আমির খসরু পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নতুন দাবি ৩৪ দিন পর খুলল শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, চলছে টাকা গণনা সাত পথে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার রূপরেখা দিলেন মোদি সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ফরিদপুরে সাংবাদিক ইউনিয়নের সভা অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে হাসপাতালে অভিনেত্রী শাকিলা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা দেওয়া শুরু : শিক্ষামন্ত্রী ফ্যামিলিকার্ডের বাইরে নিত্য পণ্য বিক্রির নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে টিসিবি

সাত পথে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার রূপরেখা দিলেন মোদি

৮০তম স্বাধীনতা দিবসে পুরানো দিল্লির লালকেল্লা থেকে বিকশিত ভারতের স্বপ্নের বীজ বপন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পথ দেখাবে ‘সপ্তধারা’। দেশের উন্নয়নের জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে তুলে ধরেছেন তিনি।
এই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সপ্তধারা’ শব্দের অর্থ সাতটি ধারা বা স্রোত। ভারতীয় সংস্কৃতিতে সাত সংখ্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন রয়েছে সপ্তর্ষি, সপ্তসিন্ধু বা সাতটি পবিত্র নদীর উল্লেখ।

মোদীও তাঁর বক্তব্যে ‘সপ্তসিন্ধু’র প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান ভারতের উন্নয়নের সঙ্গে ‘সপ্তধারা’র যোগ তৈরি করেছেন।
মোদীর বক্তব্যের মূল ভাবনা হলো, এক সময়ে ভারতের শক্তির প্রতীক ছিল সাত নদী। এখন দেশের শক্তি বাড়াতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেই সাতটি ক্ষেত্র হলো—উৎপাদন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গতি শক্তি, প্রতিরক্ষা শক্তি, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং ভারতের সফট পাওয়ার।

প্রথমেই রয়েছে উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং। ভারতকে শুধু বিদেশি পণ্যের বড় বাজার হিসেবে নয়, বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিতে ভারতীয় পণ্যের দাম কমাতে হবে, ভালো হতে হবে গুণমানে। এর সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে হবে। যন্ত্রাংশ তৈরি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য—পুরো উৎপাদন ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করার কথা বলেছেন তিনি।

কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে রয়েছে কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ। শুধু ফসল ফলালেই হবে না, সেই পণ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দিতে হবে। বাজরা, মশলা, ফল, সব্জি-সহ ভারতীয় কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরার উপর জোর দিয়েছেন মোদি। কৃষকদের আয় বাড়াতে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে আরও বেশি মূল্য যোগ করার লক্ষ্য রয়েছে এই পরিকল্পনায়।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন

তৃতীয় ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবন। ইউপিআই এবং ডিজিটাল পরিষেবায় ভারতের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, ‘এবার আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকে এগোতে হবে।’

ডেটা সেন্টার, রোবোটিক্স, নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং দেশে তৈরি ৬জি-র মতো ক্ষেত্রে কাজ বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি। অর্থাৎ শুধু বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, ভারতেও উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করে তা বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য।

গতি শক্তি

চতুর্থ ধারা গতি শক্তি। এর মূল কথা হলো দ্রুত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। হাইস্পিড রেল, রাস্তা, বিমানবন্দর, বন্দর, জলপথ এবং মাল্টিমোডাল পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষ ও পণ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে চাইছে সরকার। এর সঙ্গে দেশের বন্দরগুলিকে শুধু পণ্য ওঠানো-নামানোর জায়গা হিসেবে না দেখে বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিরক্ষা শক্তি

পঞ্চম ধারা হল প্রতিরক্ষা। অস্ত্রশস্ত্রে বিদেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির মধ্যে দিয়ে ভারতকে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন মোদী।

সবুজ ও নীল অর্থনীতি

ষষ্ঠ ধারা হল সবুজ ও নীল অর্থনীতি। এতে পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন—দুই বিষয়কে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার পাশাপাশি দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদকেও কাজে লাগাতে চায় সরকার। মৎস্য, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং উপকূলীয় পর্যটনও এর আওতায় রয়েছে।

ভারতের সফট পাওয়ার

সপ্তম এবং শেষ ধারা হলো ভারতের সফট পাওয়ার। অর্থাৎ ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতাকেও দেশের শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চান মোদী। যোগ, হস্তশিল্প, সিনেমা, অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স, গেমিং, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং পর্যটনের মতো ক্ষেত্রকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কথা বলেছেন তিনি। এর মধ্যে দিয়ে শুধু ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাব বাড়বে তাই নয়, নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি সংকট থেকে বের হতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সাত পথে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার রূপরেখা দিলেন মোদি

আপডেট সময় ০৪:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

৮০তম স্বাধীনতা দিবসে পুরানো দিল্লির লালকেল্লা থেকে বিকশিত ভারতের স্বপ্নের বীজ বপন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পথ দেখাবে ‘সপ্তধারা’। দেশের উন্নয়নের জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে তুলে ধরেছেন তিনি।
এই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সপ্তধারা’ শব্দের অর্থ সাতটি ধারা বা স্রোত। ভারতীয় সংস্কৃতিতে সাত সংখ্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন রয়েছে সপ্তর্ষি, সপ্তসিন্ধু বা সাতটি পবিত্র নদীর উল্লেখ।

মোদীও তাঁর বক্তব্যে ‘সপ্তসিন্ধু’র প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান ভারতের উন্নয়নের সঙ্গে ‘সপ্তধারা’র যোগ তৈরি করেছেন।
মোদীর বক্তব্যের মূল ভাবনা হলো, এক সময়ে ভারতের শক্তির প্রতীক ছিল সাত নদী। এখন দেশের শক্তি বাড়াতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেই সাতটি ক্ষেত্র হলো—উৎপাদন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গতি শক্তি, প্রতিরক্ষা শক্তি, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং ভারতের সফট পাওয়ার।

প্রথমেই রয়েছে উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং। ভারতকে শুধু বিদেশি পণ্যের বড় বাজার হিসেবে নয়, বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিতে ভারতীয় পণ্যের দাম কমাতে হবে, ভালো হতে হবে গুণমানে। এর সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে হবে। যন্ত্রাংশ তৈরি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য—পুরো উৎপাদন ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করার কথা বলেছেন তিনি।

কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে রয়েছে কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ। শুধু ফসল ফলালেই হবে না, সেই পণ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দিতে হবে। বাজরা, মশলা, ফল, সব্জি-সহ ভারতীয় কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরার উপর জোর দিয়েছেন মোদি। কৃষকদের আয় বাড়াতে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে আরও বেশি মূল্য যোগ করার লক্ষ্য রয়েছে এই পরিকল্পনায়।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন

তৃতীয় ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবন। ইউপিআই এবং ডিজিটাল পরিষেবায় ভারতের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, ‘এবার আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকে এগোতে হবে।’

ডেটা সেন্টার, রোবোটিক্স, নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং দেশে তৈরি ৬জি-র মতো ক্ষেত্রে কাজ বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি। অর্থাৎ শুধু বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, ভারতেও উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করে তা বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য।

গতি শক্তি

চতুর্থ ধারা গতি শক্তি। এর মূল কথা হলো দ্রুত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। হাইস্পিড রেল, রাস্তা, বিমানবন্দর, বন্দর, জলপথ এবং মাল্টিমোডাল পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষ ও পণ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে চাইছে সরকার। এর সঙ্গে দেশের বন্দরগুলিকে শুধু পণ্য ওঠানো-নামানোর জায়গা হিসেবে না দেখে বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিরক্ষা শক্তি

পঞ্চম ধারা হল প্রতিরক্ষা। অস্ত্রশস্ত্রে বিদেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির মধ্যে দিয়ে ভারতকে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন মোদী।

সবুজ ও নীল অর্থনীতি

ষষ্ঠ ধারা হল সবুজ ও নীল অর্থনীতি। এতে পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন—দুই বিষয়কে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার পাশাপাশি দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদকেও কাজে লাগাতে চায় সরকার। মৎস্য, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং উপকূলীয় পর্যটনও এর আওতায় রয়েছে।

ভারতের সফট পাওয়ার

সপ্তম এবং শেষ ধারা হলো ভারতের সফট পাওয়ার। অর্থাৎ ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতাকেও দেশের শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চান মোদী। যোগ, হস্তশিল্প, সিনেমা, অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স, গেমিং, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং পর্যটনের মতো ক্ষেত্রকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কথা বলেছেন তিনি। এর মধ্যে দিয়ে শুধু ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাব বাড়বে তাই নয়, নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী।