ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাহিদকে ইনবক্স চেক করতে বললেন মেঘনা আলম, রহস্যটা কী? খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে বিএনপির দোয়া ও মিলাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৯৩ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ ছয় মাসে সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়েছে : রিজভী মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল সোনার ভাণ্ডার, মূল্য ১২০ কোটি টাকা সন্ধ্যার মধ্যে ৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ২২০ কোটি খরচে মানুষ থেকে কুকুর, সামনে এল আসল ঘটনা! নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন উপলক্ষে কনসার্ট  আত্রাইয়ে মাদক সেবনের ছবি ফেসবুকে পোস্ট, মাদকসেবীর ২ মাসের কারাদণ্ড

মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল সোনার ভাণ্ডার, মূল্য ১২০ কোটি টাকা

বেলজিয়ামে পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার নতুন পাইপ বসানোর জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রায় ৯০ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২০ কোটি টাকা মূল্যের সোনার ভাণ্ডার পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেশটির সিন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ড এলাকায় একটি পুরোনো মদ তৈরির কারখানার জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন কোবে নামের ওই তরুণ। মাটি খোঁড়ার সময় প্রথমে ধাতব কিছু দেখতে পেয়ে তিনি সেটিকে এক ইউরোর মুদ্রা মনে করেন। পরে একটি সোনার বার দেখতে পেয়ে তিনি ও তার সহকর্মীরা বুঝতে পারেন, তারা বড় কোনো সম্পদের সন্ধান পেয়েছেন।

বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম ভিটিএমকে কোবে বলেন, প্রথমে তাদের মনে হয়েছিল এগুলো এক ইউরোর মুদ্রা। পরে সোনার বার পাওয়ার পর তারা বুঝতে পারেন, বিষয়টি তাদের ধারণার চেয়েও অনেক বড়।

ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভ্যান ল্যাঙ্গেনহোভেসত্রাত এলাকায় পুরোনো ওই মদ কারখানার জায়গায় কাজ করার সময় সোনাগুলো পাওয়া যায়। মুদ্রা, সোনার টুকরা ও নম্বরযুক্ত সোনার বার ব্যাগে ভরে একটি পুরোনো বাড়ির বেজমেন্টের ইটের দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

জানা গেছে, বাড়িটি উনিশ শতকের শেষ দিকে ওই কারখানার মালিক থিওফিলাস ভ্যান আসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৮৯৯ সালে সেখানে মদ তৈরির কাজ শুরু হয় এবং ১৯৭০ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে ভবনটি সংস্কার করছে সামাজিক কল্যাণ সংস্থা সিএডব্লিউ উস্ট-ফ্ল্যান্ডার্ন। সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তা গিয়ার্ট হিলার্ট জানান, সংস্কারের পর ভবনটির শুধু দেয়ালগুলো রাখা হবে। পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানোর সময় শ্রমিকেরা সোনার সন্ধান পান।

সোনা পাওয়ার পর কোবে ও তার সহকর্মীরা বিষয়টি গোপন না করে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে সোনাগুলো বিস্তারিত তদন্তের জন্য ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।

পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, প্রথমে তদন্ত করে দেখা হবে সোনাগুলো চুরি করা সম্পদ কি না অথবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অর্থ দিয়ে এগুলো কেনা হয়েছিল কি না।

তবে সোনার প্রকৃত মালিকানা নিয়ে জটিল আইনি বিরোধ তৈরি হতে পারে। নির্মাণকাজে যুক্ত শ্রমিক, ভবনের মালিক সামাজিক কল্যাণ সংস্থা এবং একসময় বাড়িটির মালিক ভ্যান আস পরিবারের উত্তরাধিকারীরা সব পক্ষই সম্ভাব্য দাবিদার হতে পারেন।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, গুপ্তধনের সম্ভাব্য মালিককে দাবি জানানোর জন্য অন্তত পাঁচ বছর সময় দিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কেউ বৈধভাবে মালিকানা দাবি না করলে আইন অনুযায়ী স্বর্ণগুলোর পরবর্তী ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে।

কোবে বলেন, এত বড় সম্পদ নিজেদের কাছে রাখা সম্ভব নয়। কয়েকটি মুদ্রা হলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারত, কিন্তু এত বড় সম্পদ পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত। তার আশা, শেষ পর্যন্ত তারা হয়তো এ আবিষ্কারের জন্য কোনো পুরস্কার পেতে পারেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাহিদকে ইনবক্স চেক করতে বললেন মেঘনা আলম, রহস্যটা কী?

মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল সোনার ভাণ্ডার, মূল্য ১২০ কোটি টাকা

আপডেট সময় ১২:৩০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

বেলজিয়ামে পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার নতুন পাইপ বসানোর জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রায় ৯০ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২০ কোটি টাকা মূল্যের সোনার ভাণ্ডার পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেশটির সিন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ড এলাকায় একটি পুরোনো মদ তৈরির কারখানার জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন কোবে নামের ওই তরুণ। মাটি খোঁড়ার সময় প্রথমে ধাতব কিছু দেখতে পেয়ে তিনি সেটিকে এক ইউরোর মুদ্রা মনে করেন। পরে একটি সোনার বার দেখতে পেয়ে তিনি ও তার সহকর্মীরা বুঝতে পারেন, তারা বড় কোনো সম্পদের সন্ধান পেয়েছেন।

বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম ভিটিএমকে কোবে বলেন, প্রথমে তাদের মনে হয়েছিল এগুলো এক ইউরোর মুদ্রা। পরে সোনার বার পাওয়ার পর তারা বুঝতে পারেন, বিষয়টি তাদের ধারণার চেয়েও অনেক বড়।

ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভ্যান ল্যাঙ্গেনহোভেসত্রাত এলাকায় পুরোনো ওই মদ কারখানার জায়গায় কাজ করার সময় সোনাগুলো পাওয়া যায়। মুদ্রা, সোনার টুকরা ও নম্বরযুক্ত সোনার বার ব্যাগে ভরে একটি পুরোনো বাড়ির বেজমেন্টের ইটের দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

জানা গেছে, বাড়িটি উনিশ শতকের শেষ দিকে ওই কারখানার মালিক থিওফিলাস ভ্যান আসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৮৯৯ সালে সেখানে মদ তৈরির কাজ শুরু হয় এবং ১৯৭০ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে ভবনটি সংস্কার করছে সামাজিক কল্যাণ সংস্থা সিএডব্লিউ উস্ট-ফ্ল্যান্ডার্ন। সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তা গিয়ার্ট হিলার্ট জানান, সংস্কারের পর ভবনটির শুধু দেয়ালগুলো রাখা হবে। পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানোর সময় শ্রমিকেরা সোনার সন্ধান পান।

সোনা পাওয়ার পর কোবে ও তার সহকর্মীরা বিষয়টি গোপন না করে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে সোনাগুলো বিস্তারিত তদন্তের জন্য ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।

পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, প্রথমে তদন্ত করে দেখা হবে সোনাগুলো চুরি করা সম্পদ কি না অথবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অর্থ দিয়ে এগুলো কেনা হয়েছিল কি না।

তবে সোনার প্রকৃত মালিকানা নিয়ে জটিল আইনি বিরোধ তৈরি হতে পারে। নির্মাণকাজে যুক্ত শ্রমিক, ভবনের মালিক সামাজিক কল্যাণ সংস্থা এবং একসময় বাড়িটির মালিক ভ্যান আস পরিবারের উত্তরাধিকারীরা সব পক্ষই সম্ভাব্য দাবিদার হতে পারেন।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, গুপ্তধনের সম্ভাব্য মালিককে দাবি জানানোর জন্য অন্তত পাঁচ বছর সময় দিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কেউ বৈধভাবে মালিকানা দাবি না করলে আইন অনুযায়ী স্বর্ণগুলোর পরবর্তী ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে।

কোবে বলেন, এত বড় সম্পদ নিজেদের কাছে রাখা সম্ভব নয়। কয়েকটি মুদ্রা হলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারত, কিন্তু এত বড় সম্পদ পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত। তার আশা, শেষ পর্যন্ত তারা হয়তো এ আবিষ্কারের জন্য কোনো পুরস্কার পেতে পারেন।