ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গুরুদাসপুরে হামলায় আহত ছাত্রদল নেতা শাকিলের মৃত্যু কাজ শেষ না করেই ১০ কোটি টাকা বিল পেল আকরাম খানের প্রতিষ্ঠান জাপানে চাকরির নামে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রাজাকার স্বৈরাচারের গোপন ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা আশরাফুল আলম এগিয়ে আছেন জনতা ব্যাংকের এমডি পদে গঙ্গাচড়ায় গণপিটুনিতে দুজন নিহত, ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা বিজিবির অভিযানে ভারতীয় নাসির পাতার ১৩ হাজার ৪৪০ প্যাকেট বিড়ি জব্দ যশোরের ঝিকরগাছা থানার এএসআই আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ বিসিআইসিতে চেয়ারম্যান-এমডির বিষবৃক্ষ: সার খাত গ্রাস করা সিন্ডিকেটের সন্ধানে দুদক জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে চান তারেক রহমান

উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর লোকমান সরদারের ক্যাশিয়ারখ্যাত নান্টু, চোরাই সিএনজি বেচাকেনায় গড়েছেন বিপুল সম্পদ

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মগবাজার ও এর আশপাশের এলাকায় অবৈধ চোরাই সিএনজি অটোরিকশা বেচাকেনা, বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্দেহজনক লেনদেন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নান্টু নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সুনির্দিষ্ট সূত্রের দাবি, বছরের পর বছর ধরে চলা চোরাই সিএনজি বাণিজ্যের মাধ্যমে নান্টু রাতারাতি বিপুল ধন-সম্পদের মালিক বনে গেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ও পলাতক বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত তহবিলের ব্যবস্থাপনা এবং ককটেল হামলাসহ নানা অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতায় অর্থায়নের গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে সামনে এসেছে। তবে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠ নীতি অনুযায়ী, এসব অভিযোগের চূড়ান্ত প্রশাসনিক সত্যতা বিসিএস প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দাপ্তরিক নথি যাচাইয়ের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য ও তথ্য অনুযায়ী, অতীতে চোরাই সিএনজি গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (ডিবি পুলিশ) হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে নান্টুর। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বিতর্কিত কাউন্সিলর লোকমান সরদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদেই নান্টুর এই চোরাই সিন্ডিকেট ডালপালা মেলেছিল। সম্প্রতি একটি সূত্র থেকে পাওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যে দেখা যায়, রমনা ও হাতিরঝিল থানা এলাকার কয়েকজন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় ৩ কোটি টাকার একটি বিশাল গোপন তহবিল গঠিত হয়েছে। সেই তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং সম্প্রতি ৯টি চোরাই সিএনজি কেনাবেচার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা) মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্থানান্তরের কাজে নান্টুর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সূত্রগুলো এ প্রসঙ্গে রমনা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোখলেছ, হাতিরঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাঈদ এবং সহসভাপতি সাঈদ ভাসানীর নাম উল্লেখ করলেও আইনগতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যাচাইসাপেক্ষ।

রাজনৈতিক যোগাযোগ ও নাশকতার অভিযোগের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মগবাজার চৌরাস্তা, রেইনবো সিগন্যাল, ওয়্যারলেস রেলগেট, বাংলা মোটর এবং তেজগাঁও প্রেসের সামনে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়সংলগ্ন সড়কে সংঘটিত সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণসহ নানা বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের পেছনে আর্থিক জোগানের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, নান্টু অতীতে প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে পলাতক স্বৈরাচারী নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে তিনি মগবাজারের একাধিক আবাসিক হোটেলে একাধিক গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন ছড়ানোর পর থেকে নান্টু ও তাঁর চক্রের তৎপরতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। আবার অন্যদিকে, চোরাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং আইনি ব্যবস্থা থেকে বাঁচতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা ও গোপন আঁতাতের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও খবর ছড়িয়েছে।

এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে নান্টুর ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিজেকে সাধারণ ব্যবসায়ী পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত রাখতে নান্টু বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার ভান করলেও তাঁর অঢেল সম্পদের উৎস ও সন্দেহজনক রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে মগবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও অধিবাসীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর একাংশের তীব্র দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি নিরপেক্ষভাবে এই চোরাই সিএনজি সিন্ডিকেটের অর্থ লেনদেন, বিআরটিএর ভুয়া নিবন্ধন এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত করে, তবে এই চক্রের মূল হোতাসহ নেপথ্যের প্রভাবশালী সুবিধাভোগীদের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ্যে আসবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিকরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুরুদাসপুরে হামলায় আহত ছাত্রদল নেতা শাকিলের মৃত্যু

উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর লোকমান সরদারের ক্যাশিয়ারখ্যাত নান্টু, চোরাই সিএনজি বেচাকেনায় গড়েছেন বিপুল সম্পদ

আপডেট সময় ১১:৩৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মগবাজার ও এর আশপাশের এলাকায় অবৈধ চোরাই সিএনজি অটোরিকশা বেচাকেনা, বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্দেহজনক লেনদেন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নান্টু নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সুনির্দিষ্ট সূত্রের দাবি, বছরের পর বছর ধরে চলা চোরাই সিএনজি বাণিজ্যের মাধ্যমে নান্টু রাতারাতি বিপুল ধন-সম্পদের মালিক বনে গেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ও পলাতক বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত তহবিলের ব্যবস্থাপনা এবং ককটেল হামলাসহ নানা অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতায় অর্থায়নের গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে সামনে এসেছে। তবে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠ নীতি অনুযায়ী, এসব অভিযোগের চূড়ান্ত প্রশাসনিক সত্যতা বিসিএস প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দাপ্তরিক নথি যাচাইয়ের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য ও তথ্য অনুযায়ী, অতীতে চোরাই সিএনজি গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (ডিবি পুলিশ) হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে নান্টুর। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বিতর্কিত কাউন্সিলর লোকমান সরদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদেই নান্টুর এই চোরাই সিন্ডিকেট ডালপালা মেলেছিল। সম্প্রতি একটি সূত্র থেকে পাওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যে দেখা যায়, রমনা ও হাতিরঝিল থানা এলাকার কয়েকজন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় ৩ কোটি টাকার একটি বিশাল গোপন তহবিল গঠিত হয়েছে। সেই তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং সম্প্রতি ৯টি চোরাই সিএনজি কেনাবেচার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা) মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্থানান্তরের কাজে নান্টুর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সূত্রগুলো এ প্রসঙ্গে রমনা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোখলেছ, হাতিরঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাঈদ এবং সহসভাপতি সাঈদ ভাসানীর নাম উল্লেখ করলেও আইনগতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যাচাইসাপেক্ষ।

রাজনৈতিক যোগাযোগ ও নাশকতার অভিযোগের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মগবাজার চৌরাস্তা, রেইনবো সিগন্যাল, ওয়্যারলেস রেলগেট, বাংলা মোটর এবং তেজগাঁও প্রেসের সামনে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়সংলগ্ন সড়কে সংঘটিত সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণসহ নানা বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের পেছনে আর্থিক জোগানের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, নান্টু অতীতে প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে পলাতক স্বৈরাচারী নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে তিনি মগবাজারের একাধিক আবাসিক হোটেলে একাধিক গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন ছড়ানোর পর থেকে নান্টু ও তাঁর চক্রের তৎপরতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। আবার অন্যদিকে, চোরাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং আইনি ব্যবস্থা থেকে বাঁচতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা ও গোপন আঁতাতের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও খবর ছড়িয়েছে।

এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে নান্টুর ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিজেকে সাধারণ ব্যবসায়ী পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত রাখতে নান্টু বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার ভান করলেও তাঁর অঢেল সম্পদের উৎস ও সন্দেহজনক রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে মগবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও অধিবাসীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর একাংশের তীব্র দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি নিরপেক্ষভাবে এই চোরাই সিএনজি সিন্ডিকেটের অর্থ লেনদেন, বিআরটিএর ভুয়া নিবন্ধন এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত করে, তবে এই চক্রের মূল হোতাসহ নেপথ্যের প্রভাবশালী সুবিধাভোগীদের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ্যে আসবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিকরা।