ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় আটকে পড়া ৪০ ইরানি নাবিক শ্রীলঙ্কায় সেনা মোতায়েনসহ জামায়াতের একাধিক দাবি ইসিতে সাংবাদিককে হুমকি, গ্রামের বাড়িতে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চেইন অব কমান্ড মানার নির্দেশ ডিজির ময়মনসিংহে জমি নিয়ে জাল দলিলের অভিযোগ, মালিকানা নিয়ে আইনি বিরোধ সাবেক চেয়ারম্যান নাফিজ সরাফাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে মাসে ৬০ লাখ টাকা ভাড়া পুলিশের ৩ কর্মকর্তাকে বদলি, যোগ না দিলে স্ট্যান্ড রিলিজ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু নেপালের ময়মনসিংহে সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন সৌদি থেকে দেড় কেজি সোনার চুড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আটক নোয়াখালীর শরীফ

ময়মনসিংহে জমি নিয়ে জাল দলিলের অভিযোগ, মালিকানা নিয়ে আইনি বিরোধ

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া মৌজায় জমির মালিকানা, দখল, পুরোনো দলিল ও খতিয়ানকে কেন্দ্র করে আইনি বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, আদালতের রায় ও ডিক্রি এবং রেকর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদীপক্ষ মেছবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া।

বাদীপক্ষের দাবি, পারিবারিক সম্পত্তির ওপর তাঁদের স্বত্ব থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি পুরোনো দেওয়ানি মামলা, ডিক্রি জারি এবং পরবর্তী সময়ে সম্পাদিত আপসনামাকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জমি দখল করে সেখানে ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ ও বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

মামলার আরজিতে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির মূল্য ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরোনো দলিল ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ

মামলার আরজিতে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানাধীন আকুয়া মৌজার সংশ্লিষ্ট জমিতে বাদীপক্ষের পূর্ববর্তী মালিকদের স্বত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য একাধিক দলিল, খতিয়ান ও দখলসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, জমির একটি অংশ তাঁদের পূর্বসূরিরা নিবন্ধিত সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। অন্য একটি অংশের ক্ষেত্রে বায়নাপত্র সম্পাদন, বায়নামূল্য পরিশোধ ও জমির দখল বুঝে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

আরজিতে উল্লেখ করা হয়, শ্রীমতী সুরধনী দেবী ১৯৭৯ সালের ১৭ জুলাই ১২৯৭১ নম্বর নিবন্ধিত সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে বাদীর আপন মামা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ ফরহাদ আহমেদ (কাঞ্চন) এবং তাঁর স্ত্রী খালেদা খাতুনের কাছে ১৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেন।

এ ছাড়া একই বছরের ২৯ নভেম্বর শ্রীমতী সুরধনী দেবী ও তাঁর ছেলে হিমাংশু কিশোর চক্রবর্তী আরও ১৩ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য আলহাজ ফরহাদ আহমেদ (কাঞ্চন)-এর সঙ্গে একটি বায়নাপত্র সম্পাদন করেন বলে আরজিতে উল্লেখ রয়েছে। এতে জমির মোট বিক্রয়মূল্য ১০ হাজার টাকা এবং বায়না বাবদ ৫ হাজার টাকা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অবশিষ্ট ৫ হাজার টাকাও পরিশোধ করা হয়েছিল বলে দাবি বাদীপক্ষের।

তবে বায়নাকৃত জমির চূড়ান্ত সাফ-কবলা দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের ভাষ্য, বিক্রেতারা অন্যত্র চলে যাওয়ায় দলিল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ গ্রহণ এবং পৌরকর পরিশোধের মাধ্যমে তাঁরা দীর্ঘদিন দখল বজায় রেখেছেন।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ৪০/১৯৭৩ নম্বর দেওয়ানি মোকদ্দমা এবং ১৩/১৯৮০ নম্বর ডিক্রি জারির মামলা। বাদীপক্ষের অভিযোগ, এসব মামলার রায়, ডিক্রি ও পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে।

আরজিতে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী একটি মামলার রায় ও ডিক্রি কার্যকর করার জন্য ১৩/১৯৮০ নম্বর ডিক্রি জারির মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও রায়-ডিক্রির কার্যকারিতা নিয়ে পৃথক মামলা এবং উচ্চতর আদালতে আপিলের ঘটনা ঘটে। বাদীপক্ষের দাবি, পরে ডিক্রি জারির মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং অন্য একটি মামলার পক্ষের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আপসনামা সম্পাদনের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হয়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই আপসনামা ও ডিক্রি জারির প্রক্রিয়ায় তাঁদের স্বত্ব ও স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তাঁদের মতে, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁদের মালিকানাধীন বলে দাবিকৃত জমির ওপর অন্য পক্ষের স্বত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

তবে আদালতের সংশ্লিষ্ট নথি, রায়, ডিক্রি, আপসনামা ও আপিলের চূড়ান্ত ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অনিয়ম বা জালিয়াতি হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

সরকারি খতিয়ানে জমি অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি

বাদীপক্ষের আরজিতে আরও বলা হয়েছে, বিএআরএস জরিপে তাঁদের দাবিকৃত জমির একটি অংশ ভুলক্রমে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের নামে ১/১ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমি হাল ১৩৬৫ ও ১৩৭১ নম্বর দাগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে আরজিতে উল্লেখ রয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, জমিটি অর্পিত সম্পত্তি নয়; বরং তাঁদের পৈতৃক বসতভিটার অংশ।

তাঁদের অভিযোগ, মালিকানাধীন বলে দাবিকৃত জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ এবং পরে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিরোধ আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

বাদীপক্ষের মতে, জমির ওপর তাঁদের স্বত্ব ও দখলের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমি হস্তান্তর বা সেখানে নির্মাণকাজ করা হলে তাঁদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মামলার বর্ণনায় মোট ১৮ জনকে বিভিন্ন পক্ষের বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোছাম্মৎ সালেহা খাতুন, ডা. ইসরাত শাহীন, ডা. শামসুন নাহার বেগম, ডা. শামীমা আক্তার, মো. রমজান আলী, রেহমত আলী খন্দকার, লুৎফা বেগম, মনিকা বেগম, মনিরা বেগম, ডা. শাহিদা সাহানা, ফাহমিদা খন্দকার, বেগম মমতাজ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মাসুম হোসেন, আফিয়া হোসেন, আফরোজা ইয়াসমিন, শ্রীমতী সুরধনী দেবী ও হিমাংশু কিশোর চক্রবর্তী।

আরজিতে কয়েকজন বিবাদীর ঠিকানা ময়মনসিংহ নগরীর ৯ নম্বর হরিকিশোর রায় রোড, ১৩৯ নম্বর সেনবাড়ী রোড এবং সেনবাড়ী এলাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বিবাদীপক্ষ পলাতক রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাদীপক্ষ।

বাদীপক্ষের আরও অভিযোগ, আদালতে মামলা খারিজ হওয়ার পর ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিবাদীপক্ষ ২৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ জমি ৩ লাখ টাকায় আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে। তবে ওই প্রক্রিয়ায় ভুয়া খতিয়ান ব্যবহার করা হয়েছে দাবি করে আপসনামা বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

আদালতে বাদীপক্ষের দাবি

মামলার আরজিতে বাদীপক্ষ ৪০/১৯৭৩ নম্বর মোকদ্দমার রায় ও ডিক্রি এবং ১৩/১৯৮০ নম্বর ডিক্রি জারি মামলার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে অবৈধ, অকার্যকর ও প্রতারণামূলক বলে দাবি করেছে।

তাঁদের প্রার্থনা, সংশ্লিষ্ট রায়, ডিক্রি এবং এর ভিত্তিতে প্রস্তুত বা সম্পাদিত দলিল তাঁদের ওপর বাধ্যকর নয়—এ মর্মে আদালত ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় আটকে পড়া ৪০ ইরানি নাবিক শ্রীলঙ্কায়

ময়মনসিংহে জমি নিয়ে জাল দলিলের অভিযোগ, মালিকানা নিয়ে আইনি বিরোধ

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া মৌজায় জমির মালিকানা, দখল, পুরোনো দলিল ও খতিয়ানকে কেন্দ্র করে আইনি বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, আদালতের রায় ও ডিক্রি এবং রেকর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদীপক্ষ মেছবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া।

বাদীপক্ষের দাবি, পারিবারিক সম্পত্তির ওপর তাঁদের স্বত্ব থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি পুরোনো দেওয়ানি মামলা, ডিক্রি জারি এবং পরবর্তী সময়ে সম্পাদিত আপসনামাকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জমি দখল করে সেখানে ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ ও বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

মামলার আরজিতে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির মূল্য ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরোনো দলিল ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ

মামলার আরজিতে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানাধীন আকুয়া মৌজার সংশ্লিষ্ট জমিতে বাদীপক্ষের পূর্ববর্তী মালিকদের স্বত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য একাধিক দলিল, খতিয়ান ও দখলসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, জমির একটি অংশ তাঁদের পূর্বসূরিরা নিবন্ধিত সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। অন্য একটি অংশের ক্ষেত্রে বায়নাপত্র সম্পাদন, বায়নামূল্য পরিশোধ ও জমির দখল বুঝে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

আরজিতে উল্লেখ করা হয়, শ্রীমতী সুরধনী দেবী ১৯৭৯ সালের ১৭ জুলাই ১২৯৭১ নম্বর নিবন্ধিত সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে বাদীর আপন মামা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ ফরহাদ আহমেদ (কাঞ্চন) এবং তাঁর স্ত্রী খালেদা খাতুনের কাছে ১৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেন।

এ ছাড়া একই বছরের ২৯ নভেম্বর শ্রীমতী সুরধনী দেবী ও তাঁর ছেলে হিমাংশু কিশোর চক্রবর্তী আরও ১৩ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য আলহাজ ফরহাদ আহমেদ (কাঞ্চন)-এর সঙ্গে একটি বায়নাপত্র সম্পাদন করেন বলে আরজিতে উল্লেখ রয়েছে। এতে জমির মোট বিক্রয়মূল্য ১০ হাজার টাকা এবং বায়না বাবদ ৫ হাজার টাকা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অবশিষ্ট ৫ হাজার টাকাও পরিশোধ করা হয়েছিল বলে দাবি বাদীপক্ষের।

তবে বায়নাকৃত জমির চূড়ান্ত সাফ-কবলা দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের ভাষ্য, বিক্রেতারা অন্যত্র চলে যাওয়ায় দলিল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ গ্রহণ এবং পৌরকর পরিশোধের মাধ্যমে তাঁরা দীর্ঘদিন দখল বজায় রেখেছেন।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ৪০/১৯৭৩ নম্বর দেওয়ানি মোকদ্দমা এবং ১৩/১৯৮০ নম্বর ডিক্রি জারির মামলা। বাদীপক্ষের অভিযোগ, এসব মামলার রায়, ডিক্রি ও পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে।

আরজিতে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী একটি মামলার রায় ও ডিক্রি কার্যকর করার জন্য ১৩/১৯৮০ নম্বর ডিক্রি জারির মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও রায়-ডিক্রির কার্যকারিতা নিয়ে পৃথক মামলা এবং উচ্চতর আদালতে আপিলের ঘটনা ঘটে। বাদীপক্ষের দাবি, পরে ডিক্রি জারির মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং অন্য একটি মামলার পক্ষের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আপসনামা সম্পাদনের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হয়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই আপসনামা ও ডিক্রি জারির প্রক্রিয়ায় তাঁদের স্বত্ব ও স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তাঁদের মতে, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁদের মালিকানাধীন বলে দাবিকৃত জমির ওপর অন্য পক্ষের স্বত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

তবে আদালতের সংশ্লিষ্ট নথি, রায়, ডিক্রি, আপসনামা ও আপিলের চূড়ান্ত ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অনিয়ম বা জালিয়াতি হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

সরকারি খতিয়ানে জমি অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি

বাদীপক্ষের আরজিতে আরও বলা হয়েছে, বিএআরএস জরিপে তাঁদের দাবিকৃত জমির একটি অংশ ভুলক্রমে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের নামে ১/১ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমি হাল ১৩৬৫ ও ১৩৭১ নম্বর দাগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে আরজিতে উল্লেখ রয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, জমিটি অর্পিত সম্পত্তি নয়; বরং তাঁদের পৈতৃক বসতভিটার অংশ।

তাঁদের অভিযোগ, মালিকানাধীন বলে দাবিকৃত জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ এবং পরে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিরোধ আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

বাদীপক্ষের মতে, জমির ওপর তাঁদের স্বত্ব ও দখলের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমি হস্তান্তর বা সেখানে নির্মাণকাজ করা হলে তাঁদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মামলার বর্ণনায় মোট ১৮ জনকে বিভিন্ন পক্ষের বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোছাম্মৎ সালেহা খাতুন, ডা. ইসরাত শাহীন, ডা. শামসুন নাহার বেগম, ডা. শামীমা আক্তার, মো. রমজান আলী, রেহমত আলী খন্দকার, লুৎফা বেগম, মনিকা বেগম, মনিরা বেগম, ডা. শাহিদা সাহানা, ফাহমিদা খন্দকার, বেগম মমতাজ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মাসুম হোসেন, আফিয়া হোসেন, আফরোজা ইয়াসমিন, শ্রীমতী সুরধনী দেবী ও হিমাংশু কিশোর চক্রবর্তী।

আরজিতে কয়েকজন বিবাদীর ঠিকানা ময়মনসিংহ নগরীর ৯ নম্বর হরিকিশোর রায় রোড, ১৩৯ নম্বর সেনবাড়ী রোড এবং সেনবাড়ী এলাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বিবাদীপক্ষ পলাতক রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাদীপক্ষ।

বাদীপক্ষের আরও অভিযোগ, আদালতে মামলা খারিজ হওয়ার পর ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিবাদীপক্ষ ২৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ জমি ৩ লাখ টাকায় আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে। তবে ওই প্রক্রিয়ায় ভুয়া খতিয়ান ব্যবহার করা হয়েছে দাবি করে আপসনামা বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

আদালতে বাদীপক্ষের দাবি

মামলার আরজিতে বাদীপক্ষ ৪০/১৯৭৩ নম্বর মোকদ্দমার রায় ও ডিক্রি এবং ১৩/১৯৮০ নম্বর ডিক্রি জারি মামলার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে অবৈধ, অকার্যকর ও প্রতারণামূলক বলে দাবি করেছে।

তাঁদের প্রার্থনা, সংশ্লিষ্ট রায়, ডিক্রি এবং এর ভিত্তিতে প্রস্তুত বা সম্পাদিত দলিল তাঁদের ওপর বাধ্যকর নয়—এ মর্মে আদালত ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করবেন।