রাজধানীর মগবাজারে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোরে ঘটা এই ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হননি। ঘটনার সময় শিল্পী নিজে গাড়িতে ছিলেন না। তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে, তা এখনো জানাতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ওসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মগবাজারে আসিফ আকবরের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয় রয়েছে। সেই কার্যালয়ের কাছেই বিশাল সেন্টারের সামনে গাড়িটি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। ভোরের দিকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা সেখানে এসে গাড়ির দিকে গুলি চালায় এবং পরে দ্রুত সরে পড়ে। ভোরের নির্জন সময়কে বেছে নেওয়ায় প্রাণহানির মতো বড় ক্ষতি এড়ানো গেছে বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গুলিবর্ষণকারীরা কারা এবং এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। ওসি জানান, এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পুলিশের হাতে নেই। ফলে ঘটনাটি ব্যক্তিগত বিরোধ, হুমকি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা নিয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়।
জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। আশপাশের এলাকার বিভিন্ন ভবন ও দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের সংখ্যা, তাদের ব্যবহৃত যানবাহন এবং পালিয়ে যাওয়ার পথ চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তের অন্যতম প্রধান সূত্র হয়ে ওঠে।
ঘটনার বিষয়ে শিল্পীর বক্তব্য জানতে শনিবার সকাল ৯টার দিকে আসিফ আকবরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনা নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
হাতিরঝিল থানা-পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে মামলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা নগরবাসীর নিরাপত্তাবোধে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে পরিচিত মুখ বা জনপ্রিয় ব্যক্তিদের সম্পত্তি লক্ষ্য করে এমন হামলা হলে তা সমাজে উদ্বেগ বাড়ায়। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। পুলিশ কত দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে পারে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























