ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজা ঘিরে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারিতে এসআরবি-৫ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার আ. লীগ ভোট চুরি করেছে, বিএনপি ফলাফল: হাসনাত দেশেই প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী মা ইলিশ শিকারের ভিডিও করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা গণভোটেই, সংবিধানে নয়: ফুয়াদ আত্মসমর্পণ করা ১৫৯ ইয়েমেনি সেনাকে মুক্তি দিল হুথিরা কোন কারণে বুকে পাথর চাপা দিয়ে জুলাই সনদে সই করেছিল জামায়াত, প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের পিস্তল হাতে ইশরাকের অভিযান, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা: ডিবি মাদকবিরোধী অভিযানে ‘অস্ত্র প্রদর্শনে’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার না হলে শাসন করবে গুন্ডাতন্ত্র: তাসনিম জারা

নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি লেখেন, অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়া করছেন যিনি, তিনি আমাদের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী। সেই ভিডিও আবার তাঁর নিজের পেজ থেকেই প্রচার করা হচ্ছে।

প্রকাশ্যে এই গুন্ডামি দেখানো মানুষ কীভাবে আমাদের শাসন করার দায়িত্ব পান, সেই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে কি এর চেয়ে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষ নেই? অবশ্যই আছেন। কিন্তু তাঁদের নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জিতে সংসদে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

‘একজন নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে শুরুতেই তাঁকে হাজার হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে। অন্য পথ হলো কোনো দলের কাছে মনোনয়নের জন্য তদবির করা। আর দলগুলো কাদের, কোন প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেয়, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখেই আসছি।’

তিনি আরও লেখেন, কোনোভাবে যদি মনোনয়ন বৈধ হয়, এরপর আসে নির্বাচনী খরচের সীমা। আইন মেনে চলা প্রার্থীকে সেই সীমার মধ্যে প্রচার চালাতে হবে। অন্যদিকে, প্রভাবশালী প্রার্থীরা সীমা ভেঙে বিপুল অর্থ ঢাললেও কমিশন সেটা না দেখার ভান করে থাকে। আপনি যদি সততার সঙ্গে নির্বাচন করতে চান, তাহলে আইন মানাটাই আপনার পিছিয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

তারপর আসে ভোটের দিন। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও অনিয়ম ঠেকানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু বাস্তবে সেই দায়িত্বও আপনার ঘাড়ে এসে পড়ে। প্রতিপক্ষের গুন্ডাবাহিনী ঠেকাতে আপনারও একটা বাহিনী লাগবে। নিজের ভোট রক্ষা করতেও যদি পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে একজন সাধারণ নাগরিক প্রতিযোগিতা করবেন কীভাবে? তার ওপর, আপনার বৈধ পোলিং এজেন্টদেরও নানা অজুহাতে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

তাসনিম জারা লেখেন, এই ব্যবস্থায় এগিয়ে থাকেন তাঁরা, যাঁদের অস্ত্র আছে, গুন্ডাবাহিনী আছে কিংবা আগে থেকেই বিপুল অর্থ ও প্রভাব আছে। তারপর আমরা প্রশ্ন করি, ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসেন না কেন? মানুষ এমন প্রতিনিধি বেছে নেয় কেন? ‘১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা’—এই ব্যবস্থা বজায় রেখে আর কী আশা করবেন? নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে এই গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজা ঘিরে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারিতে এসআরবি-৫

নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার না হলে শাসন করবে গুন্ডাতন্ত্র: তাসনিম জারা

আপডেট সময় ১২:২৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি লেখেন, অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়া করছেন যিনি, তিনি আমাদের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী। সেই ভিডিও আবার তাঁর নিজের পেজ থেকেই প্রচার করা হচ্ছে।

প্রকাশ্যে এই গুন্ডামি দেখানো মানুষ কীভাবে আমাদের শাসন করার দায়িত্ব পান, সেই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে কি এর চেয়ে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষ নেই? অবশ্যই আছেন। কিন্তু তাঁদের নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জিতে সংসদে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

‘একজন নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে শুরুতেই তাঁকে হাজার হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে। অন্য পথ হলো কোনো দলের কাছে মনোনয়নের জন্য তদবির করা। আর দলগুলো কাদের, কোন প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেয়, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখেই আসছি।’

তিনি আরও লেখেন, কোনোভাবে যদি মনোনয়ন বৈধ হয়, এরপর আসে নির্বাচনী খরচের সীমা। আইন মেনে চলা প্রার্থীকে সেই সীমার মধ্যে প্রচার চালাতে হবে। অন্যদিকে, প্রভাবশালী প্রার্থীরা সীমা ভেঙে বিপুল অর্থ ঢাললেও কমিশন সেটা না দেখার ভান করে থাকে। আপনি যদি সততার সঙ্গে নির্বাচন করতে চান, তাহলে আইন মানাটাই আপনার পিছিয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

তারপর আসে ভোটের দিন। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও অনিয়ম ঠেকানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু বাস্তবে সেই দায়িত্বও আপনার ঘাড়ে এসে পড়ে। প্রতিপক্ষের গুন্ডাবাহিনী ঠেকাতে আপনারও একটা বাহিনী লাগবে। নিজের ভোট রক্ষা করতেও যদি পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে একজন সাধারণ নাগরিক প্রতিযোগিতা করবেন কীভাবে? তার ওপর, আপনার বৈধ পোলিং এজেন্টদেরও নানা অজুহাতে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

তাসনিম জারা লেখেন, এই ব্যবস্থায় এগিয়ে থাকেন তাঁরা, যাঁদের অস্ত্র আছে, গুন্ডাবাহিনী আছে কিংবা আগে থেকেই বিপুল অর্থ ও প্রভাব আছে। তারপর আমরা প্রশ্ন করি, ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসেন না কেন? মানুষ এমন প্রতিনিধি বেছে নেয় কেন? ‘১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা’—এই ব্যবস্থা বজায় রেখে আর কী আশা করবেন? নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে এই গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে।