রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে কর্মরত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি সম্পত্তি, প্রকল্পের মালামাল, ফাইল নিষ্পত্তি ও গ্রাহকসেবাকে কেন্দ্র করে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে আসছেন তিনি।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঢাকা ডিভিশন-১-এর অধীনে মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ৯ নম্বর সেকশনে বাস্তবায়নাধীন ‘স্বপ্ননগর-২য় পর্ব’ প্রকল্পে ১৫টি ১৪ তলা ভবনে মোট ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলছে। এ প্রকল্পে ব্যবহৃত অকেজো ও অব্যবহৃত মালামালের প্রকৃত মূল্য প্রায় ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা হলেও সরকারি বিধি অনুসারে টেন্ডার আহ্বানের আগেই এসব মালামাল বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, বিষয়টি গোপন রাখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাত্র ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে টেন্ডারের অনুমোদন নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই মালামাল বিক্রি সম্পন্ন হয় এবং বিক্রির অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়। এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফাইল পরিচালনা, গ্রাহক হয়রানি এবং বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, মিরপুরের ১০ ও ১১ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে এবং মণিপুর স্কুলের পশ্চিম পাশে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জমিতে অবৈধ দখলদারদের মাধ্যমে দোকান ও আবাসিক কক্ষ নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি আবাসিক কক্ষ থেকে মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং প্রতিটি দোকান থেকে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। এভাবে প্রতি মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়, যার একটি অংশ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
মো. সাখাওয়াত হোসেন পাবনা জেলার পাবনা সদর উপজেলার তারাবাড়ীয়া পূর্বপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল আউয়াল শেখের ছেলে। তাঁর কর-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাজশাহীর কর সার্কেল-০৮ (স্যালারি)-এর আওতাভুক্ত।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, সাখাওয়াত হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি, তাঁদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















