ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের সাক্ষাৎ দুর্গাপূজায় নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক বিএনপি: রিজভী মিরপুর গৃহায়নের প্রকৌশলী সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি, সরকারি সম্পত্তি দখল ও সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রাজবাড়ীর কালুখালীতে পিডিবিএফের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু রংপুরে ৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪ কুমিল্লায় ৩৭ কেজি গাঁজাসহ ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রেপ্তার জিএম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হামলার অভিযোগ কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, অফুরন্ত সম্ভাবনার উৎস: রাষ্ট্রপতি রংপুরে মাদকবিরোধী অভিযান, ৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪ জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তাঁর বাসার সামনে বিক্ষোভ-মিছিল

আত্রাইয়ে দেশি মাছের সংকট, প্রাণচাঞ্চল্যহীন শুঁটকিপল্লি

নওগাঁর আত্রাইয়ে নদী-খাল-বিলে আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও বেশি। বেশি দামে মাছ কিনে শুঁটকি তৈরি করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে শুঁটকির ভরা মৌসুমেও উৎপাদনকারীর সংখ্যা কম। কথাগুলো বলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শুঁটকিপল্লি হিসেবে পরিচিত ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের মোজাহার আলী মোল্লা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলের মৎস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত স্থানগুলোর মধ্যে আত্রাই অন্যতম। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত টন মাছ রেল, সড়ক ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হয়। মাছের পাশাপাশি শুঁটকি উৎপাদনেও আত্রাইয়ের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। একসময় রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরসহ দেশের প্রায় ১৫ থেকে ২০টি জেলায় আত্রাইয়ের শুঁটকি বাজারজাত করা হতো।

শুঁটকি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় শতাধিক পরিবার। উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুঁটকি তৈরির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এ গ্রামের শতাধিক ব্যবসায়ী এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্ষা মৌসুমে শুঁটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাতের মাধ্যমে তাঁরা পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতেন।

এবার আগাম বন্যার কারণে নদী-খাল-বিলে মাছের প্রাপ্যতা কমে গেছে। ফলে দেশি মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া নদী-খাল-বিলে নিষিদ্ধ রিংজালের অবাধ ব্যবহার মাছের প্রজনন ব্যাহত করছে। বর্ষা মৌসুমে এসব নিষিদ্ধ রিংজাল ও সোঁতিজাল দিয়ে মাছ ধরার কারণে কাঁচা মাছের সরবরাহ কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী আব্দুস ছাত্তার সরদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি। শুঁটকি তৈরিতে অর্থের পাশাপাশি প্রচুর শ্রম দিতে হয়। রোদ-বৃষ্টি ও মাছের দুর্গন্ধ উপেক্ষা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে এ পেশায় টিকে আছি। পুঁটি, খোলসানি, চান্দা, রায়খর ও সাটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করি। কিন্তু এবার দেশি মাছের অভাবে পর্যাপ্ত শুঁটকি তৈরি করতে পারছি না।’

আরেক শুঁটকি ব্যবসায়ী নাফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুঁটি ও সাটি মাছের শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পুঁটি মাছের শুঁটকি এখন ডাস্ট ও ব্র্যান্ড তৈরির কাজে ব্যবহার হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পুঁটি ও মিশালি মাছের শুঁটকির চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু মাছের অভাবে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি তৈরি করতে পারছি না।’

দেশি মাছের সংকটের জন্য অবৈধ রিংজাল ও সোঁতিজালকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই অবৈধভাবে মাছ নিধন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলে এ সময়ে দেশি মাছের সংকট এতটা প্রকট হতো না।

আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘অবৈধভাবে মাছ নিধন রোধে আমরা যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রিংজাল ও সোঁতিজাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া অনেককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের সাক্ষাৎ

আত্রাইয়ে দেশি মাছের সংকট, প্রাণচাঞ্চল্যহীন শুঁটকিপল্লি

আপডেট সময় ১২:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর আত্রাইয়ে নদী-খাল-বিলে আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও বেশি। বেশি দামে মাছ কিনে শুঁটকি তৈরি করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে শুঁটকির ভরা মৌসুমেও উৎপাদনকারীর সংখ্যা কম। কথাগুলো বলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শুঁটকিপল্লি হিসেবে পরিচিত ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের মোজাহার আলী মোল্লা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলের মৎস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত স্থানগুলোর মধ্যে আত্রাই অন্যতম। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত টন মাছ রেল, সড়ক ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হয়। মাছের পাশাপাশি শুঁটকি উৎপাদনেও আত্রাইয়ের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। একসময় রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরসহ দেশের প্রায় ১৫ থেকে ২০টি জেলায় আত্রাইয়ের শুঁটকি বাজারজাত করা হতো।

শুঁটকি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় শতাধিক পরিবার। উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুঁটকি তৈরির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এ গ্রামের শতাধিক ব্যবসায়ী এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্ষা মৌসুমে শুঁটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাতের মাধ্যমে তাঁরা পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতেন।

এবার আগাম বন্যার কারণে নদী-খাল-বিলে মাছের প্রাপ্যতা কমে গেছে। ফলে দেশি মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া নদী-খাল-বিলে নিষিদ্ধ রিংজালের অবাধ ব্যবহার মাছের প্রজনন ব্যাহত করছে। বর্ষা মৌসুমে এসব নিষিদ্ধ রিংজাল ও সোঁতিজাল দিয়ে মাছ ধরার কারণে কাঁচা মাছের সরবরাহ কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী আব্দুস ছাত্তার সরদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি। শুঁটকি তৈরিতে অর্থের পাশাপাশি প্রচুর শ্রম দিতে হয়। রোদ-বৃষ্টি ও মাছের দুর্গন্ধ উপেক্ষা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে এ পেশায় টিকে আছি। পুঁটি, খোলসানি, চান্দা, রায়খর ও সাটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করি। কিন্তু এবার দেশি মাছের অভাবে পর্যাপ্ত শুঁটকি তৈরি করতে পারছি না।’

আরেক শুঁটকি ব্যবসায়ী নাফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুঁটি ও সাটি মাছের শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পুঁটি মাছের শুঁটকি এখন ডাস্ট ও ব্র্যান্ড তৈরির কাজে ব্যবহার হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পুঁটি ও মিশালি মাছের শুঁটকির চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু মাছের অভাবে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি তৈরি করতে পারছি না।’

দেশি মাছের সংকটের জন্য অবৈধ রিংজাল ও সোঁতিজালকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই অবৈধভাবে মাছ নিধন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলে এ সময়ে দেশি মাছের সংকট এতটা প্রকট হতো না।

আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘অবৈধভাবে মাছ নিধন রোধে আমরা যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রিংজাল ও সোঁতিজাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া অনেককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’