নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে জমি রেজিস্ট্রি থেকে শুরু করে দলিলের নকল উত্তোলন, দানপত্র, বণ্টনপত্র ও চুক্তিপত্রের মতো সাধারণ কাজেও মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘুষের হার ও লেনদেনের কৌশল
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এই কার্যালয়ে প্রতি হাজারে গড়ে ৬ টাকা হারে ঘুষ দিতে হয়। স্থানীয় দলিল লেখকদের মাধ্যমে সংগৃহীত এই অবৈধ অর্থের ভাগ অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে জেলা রেজিস্ট্রার ও আইজিআর অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পকেটে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অফিস সহকারী (কেরানি) আলিমুল ইসলাম এসব টাকা সংগ্রহ করেন এবং দিন শেষে রাতে কার্যালয়ে বসেই তা ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
হয়রানি ও নির্দিষ্ট খাতে অতিরিক্ত ফি
টাকা না দিলে মাসের পর মাস দলিল খোঁজার অজুহাতে সেবাগ্রহীতাদের ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে টাকা পেলেই সঙ্গে সঙ্গে সমস্যার সমাধান মেলে। দলিলে কোনো জটিলতা দেখা দিলে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বিশেষ চুক্তি ছাড়া কাজ হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি নির্ধারিত ফি ও কর পরিশোধের পরও বিভিন্ন অজুহাতে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী—
- ফটোকপি করা কাগজপত্র থাকলে: ১০ হাজার টাকা
- একই দাতার একাধিক বা হেবা দলিল: ৩ হাজার টাকা
- আয়কর/টিআইএন সনদ না থাকা বা পর্চায় বাবা-মায়ের নাম উল্লেখ থাকলে: ৫ হাজার টাকা
- দাদা-দাদি/নানা-নানির নামে পর্চা থাকলে: ১০ হাজার টাকা
- নামের পাশে ডাকনাম, বণ্টননামা বা বায়না দলিল থাকলে: ৫ হাজার টাকা
অবৈধ পোস্টিং ও কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি
অভিযোগ রয়েছে, পে-অর্ডার ও ঘুষের অর্থ লেনদেন নিশ্চিত করে সংকেত দেন অফিস সহকারী জাকির হোসেন ও কেরানি আলিমুল ইসলাম। সংকেত পাওয়ার পরই কেবল দলিলে স্বাক্ষর করেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে কর্মরত এই কর্মকর্তা আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন মহলকে প্রভাবিত করে নিজ জেলায় পোস্টিং বাগিয়ে নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















