বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) তিন পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক (ডিডি) দীপক কুমার দাসের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব সংবাদ প্রকাশের পর দীপক কুমার দাস নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদ সামাল দিতে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর অংশ হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহৃত একটি এক্স-করোলা মডেলের গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকাশিত সংবাদ ধামাচাপা দিতে বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁদের দাবি, বিএডিসি প্রধান কার্যালয়ের একজন পরিচালক দীপক কুমার দাসকে রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিএডিসি দেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে দায়িত্ব পালনকারী ডিডি দীপক কুমার দাসের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে তাঁর নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের একটি অংশ কৃষি মন্ত্রণালয়, বিএডিসি চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
সম্পদের বিষয়ে যেসব অভিযোগ
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীপক কুমার দাসের চট্টগ্রাম শহরে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি এক্স-করোলা মডেলের গাড়িও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়িটি তাঁর চালক হামিম ওরফে ‘ভাগিনা হামিম’-এর নামে নিবন্ধিত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বর্ণ ব্যবসায় ৭ শতাংশ লভ্যাংশের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ, বান্দরবানের বালাঘাটায় তাঁর স্ত্রী দীপ্তি দাসের নামে ছয় একর জমি এবং বান্দরবান জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি বাদশা মিয়ার মাধ্যমে ২০টি ট্রাক পরিচালনার অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ এবং তিন পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রাম শহর ও মিরসরাই এলাকায় আরও সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্যের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।
নার্সারি প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পার্বত্য জেলাগুলোর নার্সারি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা কাজুবাদামের চারা নামমাত্র পরিমাণে বিতরণ করে বাকি চারা স্থানীয় নার্সারি মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
এ ছাড়া নারিকেলের চারা উৎপাদন প্রকল্পে চারা নষ্ট দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। বিএডিসির বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির একটি নার্সারি প্রকল্পের সরকারি ১৫ একর জমি মাসে দুই লাখ টাকায় ইজারা দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও প্রতিবেদনে করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।
বদলি বাতিল নিয়েও অভিযোগ
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে দীপক কুমার দাসকে অন্যত্র বদলি করা হলেও তৎকালীন এক বিএডিসি পরিচালকের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে সেই বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছিল।
এ ছাড়া রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিএডিসির অনিয়ম নিয়ে প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত গেলে তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে প্রতিবেদন নিজের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বিএডিসির পার্বত্য অঞ্চলের একটি সূত্রের দাবি, বর্তমানে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চট্টগ্রাম জোনের একজন উপপরিচালকের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন দীপক কুমার দাস। এ ছাড়া সরকারি জ্বালানি ব্যবহার করে তাঁর নামে বরাদ্দ করা গাড়ি পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে তিন পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিডি দীপক কুমার দাসের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























