ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম বন্দরে আওয়ামী লীগের দালাল ইরফান খানকে ঘিরে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ গোল্ডেন জিপিএ-৫ থেকে জাপানের MEXT স্কলারশিপ-এক মায়ের ত্যাগ, এক পরিবারের স্বপ্ন আর এক তরুণের সাফল্যের গল্প বরিশাল রেকর্ড কিপার জুয়েল খানের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে কমলাপুর কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অনিক চাঁপাপুরের ভূমি কর্মকর্তা আয়েশার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনিয়মের অভিযোগে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী প্রবীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ অভিযোগের পরও বহাল, বদলির প্রস্তাবেও সরছেন না চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান ফরিদগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিসে সিন্ডিকেটের দাপট, প্রতি দলিলে ১ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ গাজীপুরে ৪০৮ একর বন দখলের নেপথ্যে বনেরই ৩ কর্মকর্তা ভিডিও ভাইরাল লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের
১ লাখ ঘুষে খাজনা ‘৬ হাজার’!

চাঁপাপুরের ভূমি কর্মকর্তা আয়েশার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো যেন ঘুষের কারখানায় পরিণত করা হয়েছে। উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে ঘুষ ছাড়া সেবা পান না ভূমিমালিকেরা—এমন অভিযোগ অনেক ভুক্তভোগীর। ভূমিসংক্রান্ত কিছু ত্রুটি ছাড়া বকেয়া খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) প্রদানেও ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয় ভূমিমালিককে।

সম্প্রতি এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার মাধ্যমে প্রায় চার লাখ টাকার বকেয়া খাজনা মাত্র ছয় হাজার টাকায় দফারফা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনের বিরুদ্ধে। ওই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার জন্য কয়েক বছর আগে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। সবকিছু অনলাইন সিস্টেমে করা হলেও ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করে রাখা হয়েছে। এই সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছেন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তারা। নামজারি ও খাজনা পরিশোধে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা মেলে না। এর মধ্যে চাঁপাপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনের নাম বেশ আলোচিত হচ্ছে ভুক্তভোগী ভূমিমালিকসহ এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মুখে মুখে।

জানা যায়, ওই ইউনিয়নের ঝাঁখর মৌজায় ১৭৯৪ দাগের এক একর ৯০ শতাংশ পুকুরের (কৃষি-২) ৪৯ বছরের খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর জরিমানাসহ বকেয়ার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৭ টাকা। ২৩ সেপ্টেম্বর কর প্রদত্ত অনলাইন রসিদে ওই বকেয়া ও জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি হাল দাবি দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ টাকা। আবার আদায় বিবরণে তিন বছরের ঊর্ধ্বের বকেয়া ৩ হাজার ১৪৩ টাকা, গত তিন বছরের বকেয়া ১ হাজার ২২২ টাকা, বকেয়ার জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ ১ হাজার ৮৩৪ টাকা এবং হাল দাবি ৩৮০ টাকা নিয়ে মোট ৬ হাজার ৫৭৯ টাকা।

এ বিষয়ে চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন ঘুষের বিনিময়ে ভূমি উন্নয়ন কর, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে বলেন, অনলাইন ব্যবস্থায় এটা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অনলাইন সফটওয়্যার করার সময় তথ্যাদি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, ওই ভূমির বেশ কিছু পরিমাণ কর পরিশোধ করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই ও নীতিমালা মোতাবেক বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে চাঁপাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হিটলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে আওয়ামী লীগের দালাল ইরফান খানকে ঘিরে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

১ লাখ ঘুষে খাজনা ‘৬ হাজার’!

চাঁপাপুরের ভূমি কর্মকর্তা আয়েশার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো যেন ঘুষের কারখানায় পরিণত করা হয়েছে। উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে ঘুষ ছাড়া সেবা পান না ভূমিমালিকেরা—এমন অভিযোগ অনেক ভুক্তভোগীর। ভূমিসংক্রান্ত কিছু ত্রুটি ছাড়া বকেয়া খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) প্রদানেও ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয় ভূমিমালিককে।

সম্প্রতি এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার মাধ্যমে প্রায় চার লাখ টাকার বকেয়া খাজনা মাত্র ছয় হাজার টাকায় দফারফা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনের বিরুদ্ধে। ওই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার জন্য কয়েক বছর আগে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। সবকিছু অনলাইন সিস্টেমে করা হলেও ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করে রাখা হয়েছে। এই সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছেন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তারা। নামজারি ও খাজনা পরিশোধে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা মেলে না। এর মধ্যে চাঁপাপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনের নাম বেশ আলোচিত হচ্ছে ভুক্তভোগী ভূমিমালিকসহ এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মুখে মুখে।

জানা যায়, ওই ইউনিয়নের ঝাঁখর মৌজায় ১৭৯৪ দাগের এক একর ৯০ শতাংশ পুকুরের (কৃষি-২) ৪৯ বছরের খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর জরিমানাসহ বকেয়ার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৭ টাকা। ২৩ সেপ্টেম্বর কর প্রদত্ত অনলাইন রসিদে ওই বকেয়া ও জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি হাল দাবি দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ টাকা। আবার আদায় বিবরণে তিন বছরের ঊর্ধ্বের বকেয়া ৩ হাজার ১৪৩ টাকা, গত তিন বছরের বকেয়া ১ হাজার ২২২ টাকা, বকেয়ার জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ ১ হাজার ৮৩৪ টাকা এবং হাল দাবি ৩৮০ টাকা নিয়ে মোট ৬ হাজার ৫৭৯ টাকা।

এ বিষয়ে চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন ঘুষের বিনিময়ে ভূমি উন্নয়ন কর, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে বলেন, অনলাইন ব্যবস্থায় এটা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অনলাইন সফটওয়্যার করার সময় তথ্যাদি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, ওই ভূমির বেশ কিছু পরিমাণ কর পরিশোধ করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই ও নীতিমালা মোতাবেক বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে চাঁপাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হিটলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।