ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনিয়মের অভিযোগে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী প্রবীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ অভিযোগের পরও বহাল, বদলির প্রস্তাবেও সরছেন না চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান ফরিদগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিসে সিন্ডিকেটের দাপট, প্রতি দলিলে ১ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ গাজীপুরে ৪০৮ একর বন দখলের নেপথ্যে বনেরই ৩ কর্মকর্তা ভিডিও ভাইরাল লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের বিআরটিসির ডিপো ব্যবস্থাপক আওয়ামী দোসর কামরুজ্জামানের কোটি টাকার অনিয়ম সেনবাগে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার প্রাথমিকের বঞ্চিতরা ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন, প্রিজন ভ্যানের ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত মিস্টার ফাইভ পারসেন্ট’ আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ

গাজীপুরে ৪০৮ একর বন দখলের নেপথ্যে বনেরই ৩ কর্মকর্তা

গাজীপুরের তিন উপজেলায় বন বিভাগের প্রায় ৪০৮ একর বনভূমি দখল ও অবৈধভাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। হাতে আসা বন বিভাগের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ১৬৭ একর বিভিন্ন কলকারখানার দখলে এবং ২৪১ একর সাধারণ মানুষের দখলে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বনভূমি দখলের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিক সুবিধা নিয়ে সহযোগিতা করেছেন। পরে দখলমুক্ত করার নামে সীমিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সঙ্গে ঢাকা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ও সামনে এসেছে। বন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল-মামুন এবং সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ শামসুল আরেফীনের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বদলি নীতিমালা বাস্তবায়ন, মাঠপর্যায়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বনভূমি উদ্ধারে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে গাজীপুরে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেন্দ্রীয় অঞ্চল বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন সাড়া দেননি।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জের চন্দ্রা বিটের একাধিক মৌজার বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে দখলের অভিযোগ রয়েছে। চন্দ্রা মৌজার ৫৮, ১৪৫, ১৯৮, ১৭৮, ১৩১১ ও ১৪১৩ নম্বরসহ সিনাবহ মৌজার ৮৬ ও ৩১৩, পূর্ব চন্দ্রা মৌজার ২৫৩ ও ২৩, কালামপুর মৌজার ৪৬৬, মাটিকাটা মৌজার ১০৩, হরীতকীচালা মৌজার ২৫ এবং গোবিন্দবাড়ী মৌজার ২৩ নম্বর সিএস দাগসহ বিভিন্ন দাগে দখলের অভিযোগ রয়েছে।

চন্দ্রা বিটে গত ১৯ মাসের বেশি সময় ধরে ১ হাজার ৩৮০ জন বন দখলকারীর নামের তালিকা ফাইলবন্দী হয়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক দখলকারীর তালিকা থাকার পরও বনভূমি উদ্ধারে দৃশ্যমান উদ্যোগ সীমিত বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৯ মাসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চন্দ্রা বিটে মাত্র একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে সিনাবহ, মাটিকাটা ও বাগাম্বর এলাকায় বনভূমি উদ্ধার করা হলেও নজরদারির অভাবে উদ্ধার করা জমি আবার দখল হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধেও বন দখলে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি জবরদখল উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন। বন দখলে সহযোগিতা করার অভিযোগ সঠিক নয়।

গাজীপুর বনে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি, সংগঠিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ শামসুল আরেফীনের। তাঁর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে তাঁকে তিন বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে রাখা হয়েছে। অধিকাংশ সরকারি কর্মদিবসে তিনি মহাখালী বন ভবনে অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে গাজীপুরে মাঠপর্যায়ের তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অন্যদিকে, বশিরুল আল-মামুনকে ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকার বন সংরক্ষক বশিরুলের নির্দেশে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারাই চুক্তিতে বনের জমি বিক্রি করেন। এ ছাড়া বনভূমি উদ্ধারের ক্ষেত্রে কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা না নিয়ে সীমিত অভিযান পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

শামসুল আরেফীনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের আরেকটি দাবি হলো, বনভূমি উদ্ধারের নামে মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও দেখানো হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে বন দখলের মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

গাজীপুরের বনভূমি দখলের চিত্রে তাই একদিকে যেমন স্থানীয় পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক দখলকারীর উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বন বিভাগের নথিতে ১ হাজার ৩৮০ জন দখলকারীর তালিকা থাকার তথ্য, ৪০৮ একর বনভূমি দখলের হিসাব, বিভিন্ন মৌজার নির্দিষ্ট দাগে দখলের অভিযোগ এবং দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত উচ্ছেদ অভিযান—সব মিলিয়ে গাজীপুরের বনভূমি ব্যবস্থাপনায় তদারকি ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. ইকবাল হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বন দখলে সহযোগিতার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। কেন্দ্রীয় অঞ্চল বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যও অভিযোগগুলোর পাশাপাশি প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

গাজীপুরে বনভূমি দখলের এই চিত্র শেষ পর্যন্ত শুধু স্থানীয় দখলদারদের কর্মকাণ্ডের প্রশ্ন নয়; বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের তদারকি, উচ্ছেদ কার্যক্রম, উদ্ধার করা জমির পুনর্দখল ঠেকানো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি নীতি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির বিষয়ও এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও নথির তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনিয়মের অভিযোগে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী প্রবীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

গাজীপুরে ৪০৮ একর বন দখলের নেপথ্যে বনেরই ৩ কর্মকর্তা

আপডেট সময় ০১:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের তিন উপজেলায় বন বিভাগের প্রায় ৪০৮ একর বনভূমি দখল ও অবৈধভাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। হাতে আসা বন বিভাগের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ১৬৭ একর বিভিন্ন কলকারখানার দখলে এবং ২৪১ একর সাধারণ মানুষের দখলে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বনভূমি দখলের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিক সুবিধা নিয়ে সহযোগিতা করেছেন। পরে দখলমুক্ত করার নামে সীমিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সঙ্গে ঢাকা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ও সামনে এসেছে। বন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল-মামুন এবং সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ শামসুল আরেফীনের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বদলি নীতিমালা বাস্তবায়ন, মাঠপর্যায়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বনভূমি উদ্ধারে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে গাজীপুরে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেন্দ্রীয় অঞ্চল বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন সাড়া দেননি।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জের চন্দ্রা বিটের একাধিক মৌজার বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে দখলের অভিযোগ রয়েছে। চন্দ্রা মৌজার ৫৮, ১৪৫, ১৯৮, ১৭৮, ১৩১১ ও ১৪১৩ নম্বরসহ সিনাবহ মৌজার ৮৬ ও ৩১৩, পূর্ব চন্দ্রা মৌজার ২৫৩ ও ২৩, কালামপুর মৌজার ৪৬৬, মাটিকাটা মৌজার ১০৩, হরীতকীচালা মৌজার ২৫ এবং গোবিন্দবাড়ী মৌজার ২৩ নম্বর সিএস দাগসহ বিভিন্ন দাগে দখলের অভিযোগ রয়েছে।

চন্দ্রা বিটে গত ১৯ মাসের বেশি সময় ধরে ১ হাজার ৩৮০ জন বন দখলকারীর নামের তালিকা ফাইলবন্দী হয়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক দখলকারীর তালিকা থাকার পরও বনভূমি উদ্ধারে দৃশ্যমান উদ্যোগ সীমিত বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৯ মাসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চন্দ্রা বিটে মাত্র একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে সিনাবহ, মাটিকাটা ও বাগাম্বর এলাকায় বনভূমি উদ্ধার করা হলেও নজরদারির অভাবে উদ্ধার করা জমি আবার দখল হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধেও বন দখলে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি জবরদখল উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন। বন দখলে সহযোগিতা করার অভিযোগ সঠিক নয়।

গাজীপুর বনে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি, সংগঠিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ শামসুল আরেফীনের। তাঁর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে তাঁকে তিন বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে রাখা হয়েছে। অধিকাংশ সরকারি কর্মদিবসে তিনি মহাখালী বন ভবনে অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে গাজীপুরে মাঠপর্যায়ের তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অন্যদিকে, বশিরুল আল-মামুনকে ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকার বন সংরক্ষক বশিরুলের নির্দেশে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারাই চুক্তিতে বনের জমি বিক্রি করেন। এ ছাড়া বনভূমি উদ্ধারের ক্ষেত্রে কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা না নিয়ে সীমিত অভিযান পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

শামসুল আরেফীনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের আরেকটি দাবি হলো, বনভূমি উদ্ধারের নামে মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও দেখানো হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে বন দখলের মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

গাজীপুরের বনভূমি দখলের চিত্রে তাই একদিকে যেমন স্থানীয় পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক দখলকারীর উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বন বিভাগের নথিতে ১ হাজার ৩৮০ জন দখলকারীর তালিকা থাকার তথ্য, ৪০৮ একর বনভূমি দখলের হিসাব, বিভিন্ন মৌজার নির্দিষ্ট দাগে দখলের অভিযোগ এবং দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত উচ্ছেদ অভিযান—সব মিলিয়ে গাজীপুরের বনভূমি ব্যবস্থাপনায় তদারকি ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. ইকবাল হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বন দখলে সহযোগিতার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। কেন্দ্রীয় অঞ্চল বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যও অভিযোগগুলোর পাশাপাশি প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

গাজীপুরে বনভূমি দখলের এই চিত্র শেষ পর্যন্ত শুধু স্থানীয় দখলদারদের কর্মকাণ্ডের প্রশ্ন নয়; বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের তদারকি, উচ্ছেদ কার্যক্রম, উদ্ধার করা জমির পুনর্দখল ঠেকানো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি নীতি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির বিষয়ও এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও নথির তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয়।