খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শিক্ষা ছুটির নামে বিদেশে অর্থ পাচার, ডিপ টিউবওয়েল ও উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন উপজেলায় নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের একটি চিত্র সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষা ছুটির অনুমোদন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যান ওই কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ওই সময় তিনি অস্ট্রেলিয়ার কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষামূলক সেমিনারে অংশ নেননি। তাঁর এক নিকট আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা ছুটির এই সুযোগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি দেশে অর্জিত অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ হুন্ডি ও বিভিন্ন অনৈতিক মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন।
আওয়ামী লীগ আমলে চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় সংসদ সদস্যদের (এমপি) বরাদ্দ ব্যবহার করে টিউবওয়েল বসানোর নামে একের পর এক প্রকল্প পাস করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এক ঠিকাদারের টাকায় তিনি বঙ্গবন্ধুর ওপর কবিতার বই লিখেছেন। জেলা পরিষদের হিসাব বিভাগ থেকে বিল উত্তোলনের সময় তিনি প্রতিটি প্রকল্প থেকে নগদ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা সরাসরি নিজের পকেটে রাখতেন। এভাবে অন্তত শতাধিক ডিপ টিউবওয়েল ও স্থানীয় প্রকল্প থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বান্দরবান ও নাইক্ষ্যংছড়িতে নির্বাহী/উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালে সরকারি রাজস্ব ও অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেন তিনি। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা সাদা করতে ও নিজের অস্তিত্ব আড়াল করতে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আত্মীয়-স্বজন ও সুবিধাভোগীদের নামে অন্তত ১০ একর পাহাড়ি জমি ক্রয় করার তথ্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রামের উপকূলীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তিন উপজেলা আনোয়ারা, বাঁশখালী ও পটিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প পাসের পর ঠিকাদারদের ফাইনাল বিল প্রদানের সময় মোটা অঙ্কের ‘কমিশন’ বা ‘পিসি’ না দিলে ফাইল আটকে রাখতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ ছাড়া কোনো বিলেই সই করতেন না তিনি, যার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম হেমসেন লেন এলাকায় একটি বহুতল ভবনের অংশ ও একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় রয়েছে তাঁর নামে আরেকটি ফ্ল্যাট। সরকারি একজন প্রকৌশলীর নিয়মিত বেতন-ভাতার বাইরে স্বল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের অর্থের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করেননি।
তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই তাঁর সম্পদ ও অর্থ পাচারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















