গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিলপাড়ায় সরকারি ইজারা বিজ্ঞপ্তির শর্ত লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খেয়া পারাপারে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় সমাজসেবক আনন্দ দাস।
গত ১৪ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত আবেদনে আনন্দ দাস উল্লেখ করেন, জলিলপাড়া-বানিয়ারচর খেয়াঘাটের সরকারি ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে খেয়া পারাপারের সুযোগ দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ওই নির্দেশনা অমান্য করে ঘাটের ইজারাদার দাউদ শেখ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জলিলপাড়ার জে কে এম বি মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় , বঙ্গরত্ন ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় ও দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পারাপারের সময় টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেননি ঘাটের ইজারাদার দাউদ শেখ। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে গ্রামের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের নিরাপদে ও সুন্দরভাবে পারাপারের জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। ওই পাঁচ টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীরা দিনে যতবার ইচ্ছা খেয়া পারাপার হতে পারে।
দাউদ শেখ আরও বলেন, তিনি ভ্যাট ছাড়া ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকায় ঘাটটি ইজারা নিয়েছেন। আনন্দ দাস তাঁর কাছ থেকে সাব-ইজারা নিয়ে ঘাটটি পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে তিনি অন্য একজনকে প্রতিদিন ২ হাজার টাকায় সাব-ইজারা দিয়েছেন। এ কারণে আনন্দ দাস তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগকারী আনন্দ দাস বলেন, সরকারি ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পারাপারের কথা বলা হয়েছে। তাই সরকারি নির্দেশনা মেনে শিক্ষার্থীরা যাতে বিনা মূল্যে খেয়া পারাপারের সুযোগ পায়, সে জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁদের কাছ থেকে পারাপারের টাকা নেওয়ার কথা নয়। কিন্তু ঘাটে প্রতিবারই টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা ঘাটের দুই পাশে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া নিষিদ্ধ—এমন নির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ড টানানোর দাবি জানান।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য একটি নৌকা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে কোনো টাকা নেওয়ার কথা নয়। অভিযোগের একটি কপি তাঁরা গত রাতে পেয়েছেন। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পঙ্কজ বিশ্বাস গোপালগঞ্জ জেলা ক্রাইম রিপোর্টার 


















