ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ যেন বন্যা পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ঘুমন্ত গৃহবধূর দুই কান ছিঁড়ে স্বর্ণালংকার লুট দীর্ঘ ১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল: পানিসম্পদ মন্ত্রী মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খেয়া পারাপারে টাকা আদায়ের অভিযোগ একই রোল-ক্রমিকে দুই সনদ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহায়তার অভিযোগ ভাওড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে  নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন : আইনমন্ত্রী সিআরবিতে টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার দাবি আবারও দিল্লিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা তেলাপোকা পার্টির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ
পাসের আগেই চাকরি! পীরগাছায় জাল সনদে এমপিও নেওয়ার চেষ্টা

একই রোল-ক্রমিকে দুই সনদ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহায়তার অভিযোগ

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল-জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের আশ্রয়ে এক সহকারী শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। একই রোল নম্বর ও ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করে দুই ধরনের ভিন্ন তথ্যসংবলিত সনদপত্র তৈরি করে এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৪ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর পরীক্ষা গ্রহণ শেষে ২০০৫ সালের ২০ জানুয়ারি রিপন কুমার বর্মনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তিনি ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ নাজমুল হক সুমন এর প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে ফাইলটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) পাঠান প্রধান শিক্ষক মোঃ সহিদুর রহমান। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ডিপ্লোমা-ইন-এগ্রিকালচার পরীক্ষার একই ক্রমিক *০২৩১৯ ও রোল নম্বর ১০৩২৮ সংবলিত দুটি পৃথক সনদপত্রে চরম অসঙ্গতি পাওয়া গেছে—যোগদানকালীন সনদ: সেশন ২০০০-২০০১, পাসের সন ২০০৩ এবং সনদ ইস্যুর তারিখ ১৬ জুন ২০০৬। এমপিও আবেদনের সনদ: সেশন ২০০১-২০০২, পাসের সন ২০০৬ এবং সনদ ইস্যুর তারিখ ১৬ জুন ২০১২।এখানে শিক্ষক ২০০৫ সালে যোগদান করলেও সনদ ইস্যু দেখানো হয়েছে ২০০৬ সালে। আবার এমপিওর সনদে পাসের সন ২০০৬ দেখালেও তাকে চাকরি দেওয়া হয়েছে ২০০৫ সালে। অর্থাৎ পাসের আগেই নিয়োগ ও যোগদান দেখানো হয়েছে, যা অলৌকিক ও অসম্ভব।শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সরাসরি ব্যাকডেটে নিয়োগ এবং মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে নথিপত্র জালিয়াতির প্রমাণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মোঃ সহিদুর রহমান শুরু থেকেই এই জালিয়াতির বিষয়ে অবগত ছিলেন। কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে বরং অসাধু উপায়ে নথি সংশোধন করে ফাইল এমপিওভুক্তির জন্য পাঠান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রিপন কুমার বর্মন বলেন, “সনদ সংক্রান্ত সব বিষয় প্রধান শিক্ষকই পরিচালনা করেছেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।”

যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রধান শিক্ষক মোঃ সহিদুর রহমানকে পাওয়া যায়নি।

তবে বিষয়টি জানতে পেরে পীরগাছার বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, সনদ জালিয়াতির অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও অসদুপায় বন্ধে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তাকে সহায়তাকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ যেন বন্যা পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পাসের আগেই চাকরি! পীরগাছায় জাল সনদে এমপিও নেওয়ার চেষ্টা

একই রোল-ক্রমিকে দুই সনদ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহায়তার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল-জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের আশ্রয়ে এক সহকারী শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। একই রোল নম্বর ও ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করে দুই ধরনের ভিন্ন তথ্যসংবলিত সনদপত্র তৈরি করে এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৪ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর পরীক্ষা গ্রহণ শেষে ২০০৫ সালের ২০ জানুয়ারি রিপন কুমার বর্মনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তিনি ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ নাজমুল হক সুমন এর প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে ফাইলটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) পাঠান প্রধান শিক্ষক মোঃ সহিদুর রহমান। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ডিপ্লোমা-ইন-এগ্রিকালচার পরীক্ষার একই ক্রমিক *০২৩১৯ ও রোল নম্বর ১০৩২৮ সংবলিত দুটি পৃথক সনদপত্রে চরম অসঙ্গতি পাওয়া গেছে—যোগদানকালীন সনদ: সেশন ২০০০-২০০১, পাসের সন ২০০৩ এবং সনদ ইস্যুর তারিখ ১৬ জুন ২০০৬। এমপিও আবেদনের সনদ: সেশন ২০০১-২০০২, পাসের সন ২০০৬ এবং সনদ ইস্যুর তারিখ ১৬ জুন ২০১২।এখানে শিক্ষক ২০০৫ সালে যোগদান করলেও সনদ ইস্যু দেখানো হয়েছে ২০০৬ সালে। আবার এমপিওর সনদে পাসের সন ২০০৬ দেখালেও তাকে চাকরি দেওয়া হয়েছে ২০০৫ সালে। অর্থাৎ পাসের আগেই নিয়োগ ও যোগদান দেখানো হয়েছে, যা অলৌকিক ও অসম্ভব।শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সরাসরি ব্যাকডেটে নিয়োগ এবং মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে নথিপত্র জালিয়াতির প্রমাণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মোঃ সহিদুর রহমান শুরু থেকেই এই জালিয়াতির বিষয়ে অবগত ছিলেন। কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে বরং অসাধু উপায়ে নথি সংশোধন করে ফাইল এমপিওভুক্তির জন্য পাঠান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রিপন কুমার বর্মন বলেন, “সনদ সংক্রান্ত সব বিষয় প্রধান শিক্ষকই পরিচালনা করেছেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।”

যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রধান শিক্ষক মোঃ সহিদুর রহমানকে পাওয়া যায়নি।

তবে বিষয়টি জানতে পেরে পীরগাছার বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, সনদ জালিয়াতির অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও অসদুপায় বন্ধে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তাকে সহায়তাকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।