রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দুই তলা একটি পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে এর মালামাল রেলওয়েকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান করা টেন্ডারে পে-অর্ডার জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, টেন্ডারটি নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে অন্য ঠিকাদারদের সিআরবিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় বাধা দিতে সাবেক এক কাউন্সিলরের ছেলের নেতৃত্বে একটি দল সক্রিয় ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবিতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।
তাদের দাবি, টেন্ডারের পে-অর্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল রোববার। কিন্তু টেন্ডারসংক্রান্ত কাজে সিআরবিতে আসা অনেক ঠিকাদারকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা পে-অর্ডার জমা দিতে পারেননি।
‘আল নূর’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. রিপন বলেন, রেলওয়ের পুরাতন ভবন নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। রোববার ছিল পে-অর্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন। কিন্তু সকাল থেকেই কয়েকজন লোক কাউকে টেন্ডার জমা দিতে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতেই অন্যদের বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একই অভিযোগ করেন ‘এস এন ট্রেডিং’-এর স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা কী জমা দেব? আমাদের তো ঢুকতেই দেয়নি। আমার তৈরি করা কাজ আমাকেই করতে দেয়নি। সাবেক কাউন্সিলরের লোকজন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়নি। ঢুকতে চাইলে মারধর শুরু করে। দেখার যেন কেউই ছিল না।’
ঠিকাদারদের অভিযোগ, একটি সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এসে এভাবে বাধার মুখে পড়ায় তারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তাদের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষ যাতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পে-অর্ডার জমা দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী জীষান দত্তের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলরের অনুসারীদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে টেন্ডারে বাধা, ঠিকাদারদের প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।
সংবাদ শিরোনাম ::
সিআরবিতে টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার দাবি
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৪:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- ৫০৯ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ






















