নদী-জলাশয় বাঁচলে বাঁচবে জীববৈচিত্র্য, প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকলেই নিরাপদ হবে মানুষের ভবিষ্যৎ”—এই ভাবনাকে ধারণ করে গঙ্গাচড়ায় পরিবেশ ও মানবকল্যাণে কাজ করছে খয়রুন নাস ফাউন্ডেশন। দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ নিয়েছে অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
২০২৬ সালের ২৫ মে প্রতিষ্ঠিত খয়রুন নাস ফাউন্ডেশনের মূল ভাবনা—‘মানবতার কল্যাণে, প্রকৃতির সুরক্ষায়’। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, সামাজিক সেবা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ঘাঘট নদীসহ ছয়টি পৃথক স্থানে মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুটিরঘাট সাইফোন ব্রিজসংলগ্ন ঘাঘট নদীতে দুই দফায় পোনা অবমুক্ত করা হয়। এছাড়া তালুক ভুবন কসিমিয়া মোবারকশাহী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন ঘাঘট নদী এবং চওড়া পাড়া ও সাতআনী-শেরপুর এলাকার ঘাঘট নদীতেও পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাশয়ের প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ করাই এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
জলজ সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি সবুজায়নেও রয়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পশ্চিম বড়বিল নতুন জামে মসজিদ, বেতগাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলি কেয়ার একাডেমি পাকুড়িয়া শরীফ এবং পাকুড়িয়া শরীফ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব বৃক্ষরোপণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যায় নির্মল বাতাস, ছায়া ও জীবনের সম্ভাবনা। একইভাবে একটি জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা মানে শুধু মাছ সংরক্ষণ নয়, এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবন-জীবিকা ও একটি বৃহত্তর প্রতিবেশব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখা। এ উপলব্ধি থেকেই ফাউন্ডেশনের পরিবেশভিত্তিক কার্যক্রমে নদী, মাছ ও বৃক্ষকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণেও কাজ করার লক্ষ্য রয়েছে সংগঠনটির। সামাজিক ও মানবিক সেবা, সদকায়ে জারিয়া এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের উদ্যোক্তারা। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্তমানে খয়রুন নাস ফাউন্ডেশনের ২০ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ও ১৯ সদস্যের কার্যকরী কমিটি রয়েছে। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবক। তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশ ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোকে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা রয়েছে ফাউন্ডেশনের।
ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “মানবতার কল্যাণ, প্রকৃতির সুরক্ষা—এই স্লোগানকে ধারণ করে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, প্রকৃতি বাঁচলে বাঁচবে জীবন। তাই মানুষের কল্যাণের পাশাপাশি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
তারা জানান, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসই প্রাণের আবাসভূমি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করতে চান তারা। এ কাজে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ শিরোনাম ::
নদী ও প্রকৃতি বাঁচাতে গঙ্গাচড়ায় খয়রুন নাস ফাউন্ডেশনের সবুজ বিপ্লব
-
মোছাদ্দেক সৈকত, স্টাফ রিপোর্টার রংপুর - আপডেট সময় ১১:৫৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- ৫০৯ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ



















