বড়লেখায় পল্লীবিদ্যুতের দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি দৈনিক জালালাবাদে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎলাইনের চিত্র তুলে ধরে ‘বড়লেখায় পল্লীবিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ লাইন যেন মৃত্যুফাঁদ-তিন বছরে একই পরিবারের ৬ জনসহ ৮ মর্মান্তিক মৃত্যু’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপা হলে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির টনক নড়ে।
এরপর অতি ঝুঁকিপূর্ণ লাইন চিহ্নিত করে বিনামূল্যে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের তালিকা তৈরি করে সমিতি। আর তখনই গ্রাহকদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে নেয় কতিপয় অসাধু লাইনম্যান ও অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ।
উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মুদতপুর গ্রামের প্রবাসী গ্রাহক কামিল হোসেন ও লিমা বেগমের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও প্রায় ৩ মাস ধরে টিনের চাল ছোঁয়া বিদ্যুৎলাইন সংস্কার করেননি ফকিরবাজার অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ২০ দিন আগে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি। বরং অফিসে খোঁজ নিতে গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অর্থ আদায়ের অভিযোগ ধামাচাপা দিতে নানা কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
জানা গেছে, গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জালালাবাদে ‘বড়লেখায় পল্লীবিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ লাইন যেন মৃত্যুফাঁদ—৩ বছরে একই পরিবারের ৬ জনসহ ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপা হলে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ লাইন মেরামতের তালিকা তৈরি করে। উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ফকিরবাজার অভিযোগ কেন্দ্রের আওতাধীন এলাকায় ১৭টি পুরাতন অতি ঝুঁকিপূর্ণ লাইন শনাক্ত করে বিনামূল্যে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের তালিকা তৈরি করে প্রত্যেকটি স্পটের মেরামতকাজ সম্পন্ন করলেও দেড় বছরেও ওই তালিকার ১৪ নম্বর স্পটের গ্রাহকদের ঝুঁকিপূর্ণ লাইন আজও সংস্কার করেনি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী কামিল হোসেন জানান, তাদের বাড়িতে তিন পরিবার বিদ্যুৎ গ্রাহক। দীর্ঘদিন ধরে টিনের চাল ছুঁইছুঁই জরাজীর্ণ বিদ্যুৎলাইন। ঝড়-তোফানে লাইন ছিঁড়ে টিন বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি চলতি বছরের মে মাসে দেশে ফিরে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ফকিরবাজার অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মনিরুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি আতিক নামে একজন ইলেকট্রিশিয়ানকে নিয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রবাসী গ্রাহক কামিল হোসেনের কাছে লাইন সংস্কারে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষণিক তাকে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
প্রবাসী কামিল হোসেন অভিযোগ করেন, ইনচার্জ ৫০ হাজার টাকা চাইলেও দর-কষাকষির পর ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে তাৎক্ষণিক তা পরিশোধ করি। কিন্তু টাকা নেওয়ার ৩ মাসেও ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সংস্কার করেননি। লিখিত অভিযোগ দিয়েও লাভ হচ্ছে না। এদিকে আমার বিদেশ যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ফকিরবাজার অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই গ্রাহকের লাইন সংস্কারে একটি পোল নিয়ে গেলে তারাই বাধা দিয়েছেন।
আজাদ বাহার জামালী, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 


















