ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ইপিজেডের রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্রের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদের অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ফাইল আটকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কেন্দ্রে প্রধান প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল বিআইডব্লিউটিএ চিলমারী শাখার সহকারী পোর্ট অফিসারের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ নষ্ট ও দুর্নীতির অভিযোগ বেতন-ভাতা তুলছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম চসিক সচিবের কণ্ঠ নকল করে অডিও ছড়ানোর অভিযোগ অটোরিকশার আড়ালে গড়ে উঠেছে রাজনীতি ও কালো টাকার সাম্রাজ্য হাসান শওকতের হাতে ‘আলাদিনের চেরাগ রাজউকের ইমারত পরিদর্শক পিয়ালের বিরুদ্ধে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ইপিজেডের রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্রের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

ঢাকা দক্ষিণ বন্ডেড কমিশনারেটের অধীনস্থ ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ঢাকা ইপিজেড) কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বল্প সময়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রাজস্ব বোর্ডের ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নথিপত্রে কৌশলে নিজের বিপুল সম্পদ আড়াল করেছেন এই কর্মকর্তা।
কাগজে-কলমে আয় ও সম্পদ: রিটার্নে তিনি বছরে মোট আয় দেখিয়েছেন মাত্র ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৬ টাকা এবং নিট সম্পদ দেখিয়েছেন ৪২ লাখ ৫১ হাজার ৩২১ টাকা।
জমি ও ফ্ল্যাট গোপন করার কৌশল: কর নথিতে ভাটারায় ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার সামান্য অকৃষি জমি দেখানো হলেও বাস্তবে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার ও স্ত্রী পুনম রানী মহন্তর নামে অভিজাত ফ্ল্যাট, ভাটারায় দামি জমি এবং নিজ জেলা হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের সন্ধান মিলেছে।
জীবনযাত্রায় চরম অসঙ্গতি: সরকারি সীমিত বেতনের কর্মকর্তা হয়েও বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন তিনি। অথচ কর নথিতে তার বার্ষিক পারিবারিক ব্যয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা, যা বাস্তবতার সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ইপিজেডের বিভিন্ন আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট ও শুল্ক মওকুফের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করেন মাধব চন্দ্র দাস। অতীতেও বিভিন্ন কাস্টমস সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশ করে মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তা করে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ ও স্থাবর সম্পদের অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি ।
ঢাকা ইপিজেডের রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাস অসাধু ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়ে শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও ঘুষের বিনিময়ে বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আয়কর নথিতে সম্পদ ও ব্যয়ের ভুয়া তথ্য প্রদর্শন করায় তার বিরুদ্ধে দুদকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ইপিজেডের রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্রের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

ঢাকা ইপিজেডের রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্রের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৫২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ বন্ডেড কমিশনারেটের অধীনস্থ ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ঢাকা ইপিজেড) কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বল্প সময়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রাজস্ব বোর্ডের ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নথিপত্রে কৌশলে নিজের বিপুল সম্পদ আড়াল করেছেন এই কর্মকর্তা।
কাগজে-কলমে আয় ও সম্পদ: রিটার্নে তিনি বছরে মোট আয় দেখিয়েছেন মাত্র ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৬ টাকা এবং নিট সম্পদ দেখিয়েছেন ৪২ লাখ ৫১ হাজার ৩২১ টাকা।
জমি ও ফ্ল্যাট গোপন করার কৌশল: কর নথিতে ভাটারায় ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার সামান্য অকৃষি জমি দেখানো হলেও বাস্তবে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার ও স্ত্রী পুনম রানী মহন্তর নামে অভিজাত ফ্ল্যাট, ভাটারায় দামি জমি এবং নিজ জেলা হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের সন্ধান মিলেছে।
জীবনযাত্রায় চরম অসঙ্গতি: সরকারি সীমিত বেতনের কর্মকর্তা হয়েও বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন তিনি। অথচ কর নথিতে তার বার্ষিক পারিবারিক ব্যয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা, যা বাস্তবতার সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ইপিজেডের বিভিন্ন আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট ও শুল্ক মওকুফের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করেন মাধব চন্দ্র দাস। অতীতেও বিভিন্ন কাস্টমস সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশ করে মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তা করে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ ও স্থাবর সম্পদের অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি ।
ঢাকা ইপিজেডের রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাস অসাধু ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়ে শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও ঘুষের বিনিময়ে বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আয়কর নথিতে সম্পদ ও ব্যয়ের ভুয়া তথ্য প্রদর্শন করায় তার বিরুদ্ধে দুদকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।