দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদ। উত্তরে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খুঠারচর, সরদারপাড়া, কুতুবেরচর, পূর্ববাহাদুরাবাদ, নাজিরপুর ও ঝালরচর। গ্রামগুলোর অন্তত ৫হাজার একর জমি বর্ষা থেকে শরতের শেষ অব্দি সময় দীর্ঘদিন থেকে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। জমিগুলোতে বছরের শুষ্ক মৌসুমে শুধুমাত্র রবি মৌসুমে ফসলের চাষ হয়। শরৎ হেমন্তে ঘরে তোলা খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন বা অন্য ফসলের চাষ হয় না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কয়েক হাজার কৃষক।
জলাবদ্ধতার চলমান এই দুরাবস্থা দূর করে জমিগুলোকে বছরে দুই বা ততোধিক ফসল চাষের আওতায় আনতে খালের মতো নালা কেটে প্রবাহের পথ বের করে পানি অপসারণের উদ্যোগ নিলেন স্থানীয় উপজেলা প্রসাশন। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে খুঠারচরের কাছে পোল্যাকান্দি এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের বামতীরে নালা কাটার কাজ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন।
স্থানীয়রা জানায়, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খুঠারচর, সরদারপাড়া, পূর্ববাহাদুরাবাদ, নাজিরপুর ও ঝালরচরের বিস্তির্ণ অঞ্চল বর্ষা মৌসুম থেকে শরৎ পর্যন্ত পানিতে ডুকে থাকে। এ জমিগুলোতে বছরে রবি বা বোরো মৌসুমে একটি ফসলের চাষ হয়। শরৎ হেমন্তের ফসল খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন বা অন্য ফসলের চাষ হয় না অধিকাংশ জমিগুলোতে। জলাবদ্ধতার কারণে সে সময় অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে জমিগুলো। এতে প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শত শত চাষি। তবে জমিগুলোর মাটি বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির। মাটির গুণ বিচারে খরিপ-২ বা রোপা আমন মৌসুমে এখানে অল্প ব্যয়ে অধিক ফসল উৎপাদনের কথা।
উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, নালার দৈর্ঘ্য হবে ২৫০ মিটার ও প্রস্থ হবে ১০ ফুট এবং গভীরতা হবে ৫ ফুট। লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের নালা কাটা কাজটির অর্থ জোগান দেবে উপজেলা প্রশাসনের এডিবি প্রকল্প থেকে। কাজটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে তিন থেকে চার দিন। সূত্রটি আরো জানায়, স্বল্প ব্যয়ে কঠিন কাজের সহজ সমাধানের প্রয়াস এটি।
জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা কাটার কাজ উদ্বোধনকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাবীব পলিন, উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল মামুন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছাইম উদ্দিন, বাহাদুরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান মিয়া, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আনম মুছা আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমূখ।
খুঠারচর গ্রামের বাসিন্দা নান্ডা মিয়া জানান, এ জমিগুলো বছরে একটি ফসলের চাষ হয়ে আসছে। বর্ষার শেষে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন বা অন্য ফলের চাষ এখানে হয় না। জলাবদ্ধ জমির পাশের জমিগুলোতে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমনসহ মৌসুমী সবজীর চাষ হয়। এতে কৃষকেরা ব্যাপক লাভবান হয়। জলাবদ্ধতা নিরসন হলে অর্ধপতিত জমিগুলো থেকে কৃষকের ব্যাপক লাভবান হবেন। উপজেলা প্রশাসনের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের এই উদ্যোগে এ অঞ্চলের চাষিরা খুবই আনন্দিত।
সরদার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জমসেদ আলীর ভাষ্য, জলাবদ্ধতার কারণে সরদার পাড়া গ্রামের শতাধিক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বছরে শুধুমাত্র একটিমাত্র ফসলের চাষ করে থাকেন। তাতে সংসার চলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নালা কেটে পানি নিষ্কাসন করা হলে জমিগুলোতে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমনসহ মৌসুমী সবজীর চাষ হবে। এতে অনেক উপকৃত হবে তারা। তিনি ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে খুব খুর্শি।
বাহাদুরবাদ গ্রামের চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, সরদারপাড়া হয়ে উত্তরে ঝালরচর পর্যন্ত কয়েক হাজার একর জমি প্রতিবছর বর্ষা থেকে শরৎকাল অব্দি পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এ জমিগুলোতে রোপা আমন চাষ হয় না। উপজেলা প্রশাসন খালের মতো নালা কেটে এই জমিগুলোর পানি নিষ্কাসনের কাজ শুরু করেছে। এতে আমার মতো শত শত চাষি উপকৃত হবেন। ওই জমিতে গুলোতে বছর দুই বা ততোধিক ফসল চাষ করা যাবে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা বলেন, বাহাদুরাবাদের জলাবদ্ধ জমি থেকে পানি নিষ্কাসন করা হলে ওই জমিগুলোতে বছরে দুই বা ততোধিক ফসলের চাষ হবে। উপকৃত হবে কয়েক শত কৃষক। ওই অঞ্চলের অর্ধপতিত জমির জলাবদ্ধতা দূরীকরণের প্রকল্প শুরু করাতে এ অঞ্চলের চাষিরা খুব আনন্দিত।
কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করে জমিগুলোকে সারা বছর ফসল চাষের উপযোগী করা যায়, হঠাৎ এই ধারণা মাথায় আসে। ধারণা অনুযায়ী আজ তার উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ হাজার একর জমি সারা বছর ফসল চাষের আওতায় আসবে। এতে এ অঞ্চলের শত শত চাষে উপকৃত হবেন।
মোঃ রামু মিয়া দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি 


















