ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৬ নম্বর হাসাননগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জোয়ারের পানির প্রবল স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় দেড় মাস ধরে ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় মাছ পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের দাবি, ব্রিজটি ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও কার্যত একমাত্র পথ। বিশেষ করে মাছ পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ব্রিজটির ওপর নির্ভরশীল বহু মানুষ। ব্রিজটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
৬ নম্বর হাসাননগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও হাসান নগর ইউনিয়ন নির্বাচনী সমন্বয়ক মো. নজরুল হাওলাদার বলেন, “এই ব্রিজটি দিয়ে মাছ বহনসহ এলাকার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। প্রায় দেড় মাস আগে জোয়ারের পানির স্রোতে ব্রিজটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে মানুষ ঠিকমতো চলাচল করতে পারছেন না। ব্যবসা-বাণিজ্যও প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।”
তিনি জানান, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিমকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাময়িকভাবে সংস্কারের জন্য কিছু বরাদ্দ দেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বরাদ্দে দেওয়া জিওব্যাগ ও মাটি-বালু দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও পানির প্রবল স্রোতে সেগুলোও ভেসে গেছে। ফলে ব্রিজটির স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং দিন দিন পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
নজরুল হাওলাদার আরও বলেন, “সাময়িকভাবে জিওব্যাগ দিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পানির স্রোতে মাটি-বালু ও জিওব্যাগ সরে গেছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ থেকেই গেছে। এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানের জন্য এখানে একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।”
এলাকাবাসী জানান, ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা না হলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অস্থায়ী মেরামত নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পানির স্রোত ও এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি টেকসই ও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া। এতে একদিকে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে এলাকার যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে।
রিয়াজ ফরাজী 



















