ভোলার বোরহানউদ্দিনে ব্যবসায়িক পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ী মো. নিরব হোসেন মিয়াজী। অভিযোগগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা দাবি করে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিরব হোসেন মিয়াজী এসব কথা বলেন। তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী।
লিখিত বক্তব্যে নিরব বলেন, তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদার সবুজ গত ৪ আগস্ট স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যান। মৃত্যুর আগে সবুজের কাছে ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্রে তার ৪ লাখ টাকা পাওনা ছিল। এ পাওনার বিপরীতে সবুজের স্বাক্ষর করা একটি চেক তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি বোরহানগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবগত বলে দাবি তার।
নিরবের অভিযোগ, ব্যবসায়িক অংশীদারের মৃত্যুর পর তিনি পরিবারের কাছে তার পাওনা টাকা চাইলে পরিবারের পক্ষ থেকে তা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে গত ১৪ আগস্ট মৃত সবুজের স্ত্রী মোসা. সোনিয়া তার বিরুদ্ধে চরিত্রহননসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন বলে তিনি জানতে পারেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে নিরব বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে সবুজের সঙ্গে আমার আর্থিক লেনদেন ছিল। তার কাছে আমার পাওনা টাকা রয়েছে। পাওনা টাকা চাওয়ার কারণে যদি আমার বিরুদ্ধে চরিত্রহননের অভিযোগ আনা হয়, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, অভিযোগগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তার ব্যক্তিগত সম্মান ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে তিনি কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত না করে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত চান।
সংবাদ সম্মেলনে নিরব হোসেন আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সামান্য অংশও যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি তা মেনে নেব। একইভাবে আমার দাবি—অভিযোগের পাশাপাশি আমার পাওনা টাকার বিষয়টিও নথিপত্র ও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হোক।”
তিনি আরও দাবি করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়টি যাচাই করতে মৃত সবুজের স্বাক্ষর করা চেক, হিসাব-নিকাশ, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বক্তব্য এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত ঘটনা সহজেই বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
নিরব বলেন, “কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা কারও সম্মান নষ্ট করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি শুধু আমার বৈধ পাওনা এবং আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ন্যায়সংগত তদন্ত চাই।”
তিনি প্রশাসন, বোরহানগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান,
ঘটনাটিকে আবেগ বা একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সত্য উদঘাটন করা হোক।
এদিকে, মৃত সবুজের স্ত্রী মোসা. সোনিয়ার পক্ষ থেকে নিরব হোসেনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই বিষয়টির প্রকৃত সত্য জানতে উভয় পক্ষের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী নিরব হোসেন মিয়াজী মূলত নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ব্যবসায়িক পাওনা লেনদেনের সুষ্ঠু যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন।
রিয়াজ ফরাজী 


















