ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি কোনো হুমকি-ধমকিতে ভয় পায় না: মীর শাহে আলম অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা বাংলাদেশের চীন-পাকিস্তান আমাদের চিকিৎসকদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাপানের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর অবৈধ মালামালসহ আ.লীগের দুই কর্মী আটক প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হাতীবান্ধায় ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ কুমিল্লায় আন্তঃজেলা নারী চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, ১৩ মোবাইল উদ্ধার দুদকের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি, তবু স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রধান নাছির বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হলো গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া: পবিপ্রবি উপাচার্য

কমিশন ছাড়া বিল ছাড়েন না সিএমএসডির হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়, বিল আটকে রাখা এবং স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি বিল ছাড়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেন তিনি। আর এ কমিশনের অর্থে এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ও গ্রামের বাড়িতে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি একটি ভুয়া বিলের অর্থ ছাড় করেও তিনি ৬ কোটির বেশি টাকা নিয়েছেন। এসব অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একজন সরবরাহকারী। এতে বলা হয়, কমিশন না দিলে ঠিকাদারদের বিল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে প্রতিবাদ করলেও মিলে না প্রতিকার। উল্টো অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক হুমকি দেন। সিএমএসডিকে অনেকটা নিজের ‘পৈতৃক সম্পত্তির’ মতোই ব্যবহার করছেন তিনি। দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হলেও সিএমএসডিতে তার দাপটে অন্যরা মুখ খুলতে নারাজ। সম্প্রতি আব্দুর রাজ্জাকের হাত থেকে রেহাই পেতে দুর্নীতি দমন কমিশনের দারস্থ হয়েছেন কয়েকজন সরবরাহকারী।

গত ২০ জুলাই মেডিকিট করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী দুদকে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সিএমএসডির দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক রাজধানীর মিরপুরে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। পূর্বাচলে কিনেছেন আরও দুটি প্লট। নিজের ও স্ত্রীর নামে কয়েকটি ব্যাংকে পৃথক ডিপোজিট করেছেন প্রায় ৩ কোটির বেশি টাকা। এখানেই শেষ নয়, তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আলিশান বাগানবাড়ি করেছেন। জেলা শহর ও নিজ গ্রামে কিনেছেন আরও প্রায় ৩০ বিঘা জমি। সম্পদ গড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের সিন্ডিকেটও রেখেছেন সক্রিয়। প্রতি ঈদে তার অনুগত সিএমএসডির বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা করে নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিচ্ছেন। গত রমজানের ঈদে নগদ অর্থ পেয়েছেন এমন এক কর্মকর্তাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ বিলাসী জীবনযাপনের উৎস মূলত সিএমএসডির কেনাকাটার বিল আটকে রেখে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করা। পণ্য কিংবা যন্ত্রপাতি সরবরাহের পর বিলের জন্য তার দপ্তরে গেলে তিনি সরাসরি ১৫ শতাংশ অর্থ দাবি করেন। এর মধ্যে নিজের ১০ শতাংশ আর অন্যদের জন্য ৫ শতাংশ অর্থ দাবি করেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেই আটকে যায় বিল। নিজ দপ্তরে গর্ব করে বলেন, সিএমএসডি থেকে মন্ত্রণালয় সবখানেই তার হাত রয়েছে। বিল পাস করতে হলে তার শর্ত মানতেই হবে। তবে এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তার যোগসাজশে ৭৯ কোটি টাকার একটি ভুয়া বিল পাস করিয়ে তিনি নিজেই ৬ কোটি টাকা বাগিয়ে নেন। এ টাকায় তিনি মিরপুরে দুটি ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং পূর্বাচলেও কিনেছেন প্লট।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আদেশ অনুযায়ী মো. আব্দুর রাজ্জাক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি), তেজগাঁও, ঢাকাতে প্রেষণে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এরপর থেকে গত প্রায় দুই বছরে সিএমএসডির কেনাকাটার বিল আটকে হাতিয়ে নিয়েছেন শতকোটি টাকার বেশি। যোগদানের পর থেকে গত দুই বছরে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তোয়াক্কা করেন না। দ্বিতীয় শ্রেণির পদে থেকেও তার একচ্ছত্র আধিপত্যে তটস্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমএসডির অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চাকরিজীবনের শুরু থেকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপন করা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি কোনো হুমকি-ধমকিতে ভয় পায় না: মীর শাহে আলম

কমিশন ছাড়া বিল ছাড়েন না সিএমএসডির হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক

আপডেট সময় ০৩:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়, বিল আটকে রাখা এবং স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি বিল ছাড়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেন তিনি। আর এ কমিশনের অর্থে এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ও গ্রামের বাড়িতে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি একটি ভুয়া বিলের অর্থ ছাড় করেও তিনি ৬ কোটির বেশি টাকা নিয়েছেন। এসব অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একজন সরবরাহকারী। এতে বলা হয়, কমিশন না দিলে ঠিকাদারদের বিল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে প্রতিবাদ করলেও মিলে না প্রতিকার। উল্টো অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক হুমকি দেন। সিএমএসডিকে অনেকটা নিজের ‘পৈতৃক সম্পত্তির’ মতোই ব্যবহার করছেন তিনি। দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হলেও সিএমএসডিতে তার দাপটে অন্যরা মুখ খুলতে নারাজ। সম্প্রতি আব্দুর রাজ্জাকের হাত থেকে রেহাই পেতে দুর্নীতি দমন কমিশনের দারস্থ হয়েছেন কয়েকজন সরবরাহকারী।

গত ২০ জুলাই মেডিকিট করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী দুদকে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সিএমএসডির দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক রাজধানীর মিরপুরে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। পূর্বাচলে কিনেছেন আরও দুটি প্লট। নিজের ও স্ত্রীর নামে কয়েকটি ব্যাংকে পৃথক ডিপোজিট করেছেন প্রায় ৩ কোটির বেশি টাকা। এখানেই শেষ নয়, তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আলিশান বাগানবাড়ি করেছেন। জেলা শহর ও নিজ গ্রামে কিনেছেন আরও প্রায় ৩০ বিঘা জমি। সম্পদ গড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের সিন্ডিকেটও রেখেছেন সক্রিয়। প্রতি ঈদে তার অনুগত সিএমএসডির বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা করে নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিচ্ছেন। গত রমজানের ঈদে নগদ অর্থ পেয়েছেন এমন এক কর্মকর্তাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ বিলাসী জীবনযাপনের উৎস মূলত সিএমএসডির কেনাকাটার বিল আটকে রেখে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করা। পণ্য কিংবা যন্ত্রপাতি সরবরাহের পর বিলের জন্য তার দপ্তরে গেলে তিনি সরাসরি ১৫ শতাংশ অর্থ দাবি করেন। এর মধ্যে নিজের ১০ শতাংশ আর অন্যদের জন্য ৫ শতাংশ অর্থ দাবি করেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেই আটকে যায় বিল। নিজ দপ্তরে গর্ব করে বলেন, সিএমএসডি থেকে মন্ত্রণালয় সবখানেই তার হাত রয়েছে। বিল পাস করতে হলে তার শর্ত মানতেই হবে। তবে এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তার যোগসাজশে ৭৯ কোটি টাকার একটি ভুয়া বিল পাস করিয়ে তিনি নিজেই ৬ কোটি টাকা বাগিয়ে নেন। এ টাকায় তিনি মিরপুরে দুটি ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং পূর্বাচলেও কিনেছেন প্লট।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আদেশ অনুযায়ী মো. আব্দুর রাজ্জাক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি), তেজগাঁও, ঢাকাতে প্রেষণে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এরপর থেকে গত প্রায় দুই বছরে সিএমএসডির কেনাকাটার বিল আটকে হাতিয়ে নিয়েছেন শতকোটি টাকার বেশি। যোগদানের পর থেকে গত দুই বছরে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তোয়াক্কা করেন না। দ্বিতীয় শ্রেণির পদে থেকেও তার একচ্ছত্র আধিপত্যে তটস্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমএসডির অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চাকরিজীবনের শুরু থেকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপন করা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।