ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৯ গোল হজম করে আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশ মনোহরগঞ্জের আ’লীগ নেতা ফিরোজের বিরুদ্ধে অবৈধ মার্কেট ও সম্পদ গড়ার অভিযোগ রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি আসছে কাল, কেন্দ্রে পৌঁছাবে শনিবার ক্যাশলেস লেনদেনে কোনো চার্জ লাগবে না: অর্থমন্ত্রী চন্দ্রগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হামলার শিকার ফুটপাত দখল করলেই মামলা, হকারদের কড়া বার্তা দিল ডিএসসিসি সেপ্টেম্বরে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ ও জ্বালানিতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনায় মব সৃষ্টি করে হেনস্তার শিকার পুলিশ কর্মকর্তা

অফিস সহকারী হয়েও ৪ বছর ধরে এইচএসসির খাতা দেখছেন ‘প্রভাষক’ পরিচয়ে

কলেজের অফিস সহকারী জয়ন্ত দত্ত নিজের পরিচয় ‘প্রভাষক’ হিসেবে দিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে বৈধ পরীক্ষক হিসেবে পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে আসছিলেন। সিলেট শহরের শিবগঞ্জ এলাকার গ্রিনহিল স্টেট কলেজের এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও চার বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের অফিস সহকারী জয়ন্ত দত্ত নিজের পরিচয় ‘প্রভাষক’ হিসেবে দিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে বৈধ পরীক্ষক হিসেবে পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে আসছিলেন।

এ বছরেও তিনি চতুর্থবারের মতো উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলা প্রথম পত্রের ৫৫৪ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে জমা দেন। সম্প্রতি বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের নজরকাড়ায় এ নিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। একজন অফিস সহকারীকে পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করায় বোর্ডের পক্ষ থেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর গতকাল শেষ কর্মদিবস ছিল। তিনি বলেন, পরীক্ষক হতে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা গুরুতর অপরাধ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত গ্রিনহিল স্টেট কলেজে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে পাঠদান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জয়ন্ত দত্ত অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তিনি সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ থেকে স্নাতক পাস কোর্স শেষ করে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরীক্ষক হওয়ার বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় বলা আছে, যে শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করেন, কেবল সেই বিষয়েই পরীক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। কলেজ পর্যায়ে পরীক্ষক হতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

কলেজটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জয়ন্ত দত্ত অফিস সহকারী পদেই আছেন। তিনি পাস কোর্সে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী প্রভাষক হওয়ারও সুযোগ নেই তার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়ন্ত দত্ত বলেন, কলেজের শুরু থেকেই আছেন তিনি। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় স্নাতকোত্তর পাস করার পর কলেজে শিক্ষক প্রয়োজন হলে তিনি বাংলা বিষয়ে পড়ানো শুরু করেন। প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগপত্র কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার সাহার কাছে রাখা ছিল। তিনি মারা যাওয়ায় এখন খুঁজে দেখতে হবে, কোথায় নিয়োগপত্রটি আছে। এর বাইরে তার কাছে ওই নিয়োগপত্রের কোনো অনুলিপি সংরক্ষিত নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শিক্ষক হিসেবে জয়ন্ত দত্তের নিয়োগপত্রের অনুলিপি নিজের কাছে নেই বলে জানান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মন। এটি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের কাছে আছে বলে জানান তিনি। তবে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্‌বিজয় চক্রবর্তী জানান, তার কাছে নেই। এটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে সংরক্ষিত আছে।

পরীক্ষকের আবেদন অনুমোদনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মন বলেন, তিনি কোনো অনুমোদন দেননি। এটি করেছেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্‌বিজয় চক্রবর্তী। আর দিগ্‌বিজয় চক্রবর্তী বলেন, অনুমোদন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষই দিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৯ গোল হজম করে আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশ

অফিস সহকারী হয়েও ৪ বছর ধরে এইচএসসির খাতা দেখছেন ‘প্রভাষক’ পরিচয়ে

আপডেট সময় ০২:৪২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

কলেজের অফিস সহকারী জয়ন্ত দত্ত নিজের পরিচয় ‘প্রভাষক’ হিসেবে দিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে বৈধ পরীক্ষক হিসেবে পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে আসছিলেন। সিলেট শহরের শিবগঞ্জ এলাকার গ্রিনহিল স্টেট কলেজের এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও চার বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের অফিস সহকারী জয়ন্ত দত্ত নিজের পরিচয় ‘প্রভাষক’ হিসেবে দিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে বৈধ পরীক্ষক হিসেবে পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে আসছিলেন।

এ বছরেও তিনি চতুর্থবারের মতো উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলা প্রথম পত্রের ৫৫৪ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে জমা দেন। সম্প্রতি বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের নজরকাড়ায় এ নিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। একজন অফিস সহকারীকে পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করায় বোর্ডের পক্ষ থেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর গতকাল শেষ কর্মদিবস ছিল। তিনি বলেন, পরীক্ষক হতে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা গুরুতর অপরাধ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত গ্রিনহিল স্টেট কলেজে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে পাঠদান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জয়ন্ত দত্ত অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তিনি সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ থেকে স্নাতক পাস কোর্স শেষ করে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরীক্ষক হওয়ার বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় বলা আছে, যে শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করেন, কেবল সেই বিষয়েই পরীক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। কলেজ পর্যায়ে পরীক্ষক হতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

কলেজটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জয়ন্ত দত্ত অফিস সহকারী পদেই আছেন। তিনি পাস কোর্সে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী প্রভাষক হওয়ারও সুযোগ নেই তার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়ন্ত দত্ত বলেন, কলেজের শুরু থেকেই আছেন তিনি। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় স্নাতকোত্তর পাস করার পর কলেজে শিক্ষক প্রয়োজন হলে তিনি বাংলা বিষয়ে পড়ানো শুরু করেন। প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগপত্র কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার সাহার কাছে রাখা ছিল। তিনি মারা যাওয়ায় এখন খুঁজে দেখতে হবে, কোথায় নিয়োগপত্রটি আছে। এর বাইরে তার কাছে ওই নিয়োগপত্রের কোনো অনুলিপি সংরক্ষিত নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শিক্ষক হিসেবে জয়ন্ত দত্তের নিয়োগপত্রের অনুলিপি নিজের কাছে নেই বলে জানান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মন। এটি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের কাছে আছে বলে জানান তিনি। তবে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্‌বিজয় চক্রবর্তী জানান, তার কাছে নেই। এটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে সংরক্ষিত আছে।

পরীক্ষকের আবেদন অনুমোদনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মন বলেন, তিনি কোনো অনুমোদন দেননি। এটি করেছেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্‌বিজয় চক্রবর্তী। আর দিগ্‌বিজয় চক্রবর্তী বলেন, অনুমোদন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষই দিয়েছেন।