ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ হাফিজ ইব্রাহিমের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে তাঁর সমর্থকরা বক্তব্যটি বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।
তাদের ভাষ্য, বক্তব্যের একটি অংশ কেটে বা প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
সমর্থকদের দাবি, যে বক্তব্যটি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে সেটি সাম্প্রতিক নয়; প্রায় দুই মাস আগে দেওয়া হয়েছিল। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সত্যিই ওই বক্তব্যের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে গত দুই মাসে সংসদ সদস্যের নির্দেশে কোথাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না।
তাদের মতে, বক্তব্যের পুরো অংশ শুনলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে সংসদ সদস্য অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করেছেন। তিনি কোথাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের পক্ষে অবস্থান নেননি। বরং সরকার নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
এ বিষয়ে তারা আরও জানান, বক্তব্যে দৌলতখান ও গঙ্গাপুর এলাকার দুটি সম্ভাব্য স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল নদীর নাব্যতা রক্ষা, চর অপসারণ এবং নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সরকারিভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা। দেশের বিভিন্ন নদীবেষ্টিত এলাকায়ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সমর্থকদের অভিযোগ, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে সংসদ সদস্য অবৈধ বালু উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছেন। অথচ সম্পূর্ণ বক্তব্য শুনলে বিষয়টির প্রকৃত অর্থ ও প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ অবস্থায় তারা সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খণ্ডিত ভিডিও বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেখে মন্তব্য না করে পুরো বক্তব্য শুনে নিজস্ব বিবেচনায় মতামত দেওয়া উচিত। গুজব বা অপপ্রচারের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক সত্যকে গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে কোনো ব্যক্তির বক্তব্য বিকৃত করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দায়িত্বশীল আচরণের পরিপন্থী।
রিয়াজ ফরাজী 




















