চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের বিরুদ্ধে একক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হওয়া তরুণ সাকিল আহমেদ (২৬) এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজের জীবননাশের আশঙ্কা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে গত ৩০ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আবেদন করেছেন তিনি।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর ভুইশাল পাড়ার বাসিন্দা মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে শাকিল আহমেদ কিছুদিন আগে এলাকার তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও শান্তিপূর্ণভাবে একক নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই প্রতিবাদের ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রচার পায়। শাকিল আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই আন্দোলন তিনি সম্পূর্ণ নিজের তাগিদে করেছেন। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নেতা কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের উস্কানি, প্ররোচনা বা অর্থায়ন ছিল না। এটি ছিল সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ও শান্তিপূর্ণ নাগরিক উদ্যোগ।
ভুক্তভোগী শাকিল আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি তার ওপর কোনো ধরনের হামলা, অপহরণ কিংবা হত্যার চেষ্টা চালানো হয়, তবে তার জন্য যেন কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতাকে দায়ী করা না হয়। তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তার আপন চাচা মোঃ সাইফুল ইসলামের (লাইন ইন্সপেক্টর, সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) দিকে। শাকিলের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে তার চাচা সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর শাকিল আহমেদের ওপর একটি বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়েছিল, যার প্রমাণাদি ও অভিযোগপত্র বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও পৈতৃক বসতবাড়ির সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে আপন চাচার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এই দুটি ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবং সাম্প্রতিক প্রতিবাদের পর থেকে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। এই বিষয়ে তাসলিমা খাতুন ও জেসমিন খাতুনকে সম্ভাব্য সাক্ষী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার সংশ্লিষ্ট এএসআই (নিরস্ত্র)-এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, “উক্ত বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আবেদন আমার কাছে এসেছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়া মেনে সেটি বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়েছি। আদালতের নির্দেশনা বা অনুমতি পেলেই আমরা এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
মোঃ জাহিদ হাসান-চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 






















