ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শওকত আলীর অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান গতি বাড়িয়েছে দুদক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে ঘুষের সিন্ডিকেটের অভিযোগ আর্জেন্টিনা ফাইনালে হারের পর সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা নগরীতে অভিযানে ৩ জনকে জরিমানা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মেলালেন লামিন ইয়ামাল সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার দেড় হাজার বিলাসবহুল পণ্য স্পেনের জয়ে যা লিখলেন শাকিব-বুবলী-অপু দাবি বাস্তবায়নে ৩ আগস্ট অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়নের চাঁপাইনবাবগঞ্জে লোডশেডিংয়ের একক প্রতিবাদকারী শাকিলের জীবননাশের আশঙ্কা রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতার মধ্যে না থাকলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে : রিজভী

শওকত আলীর অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান গতি বাড়িয়েছে দুদক

 

যুক্তরাজ্যে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে গতি বাড়িয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে তার বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলার শনাক্ত এবং অপ্রদর্শিত বিদেশি সম্পদের বিপরীতে প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

শওকত আলী, তার পরিবারের সদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশ্লেষণের পাশাপাশি জাহাজ আমদানির নামে খোলা ঋণপত্রের নথি সংগ্রহ করছে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে সম্পদ কেনার তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআর পাঠানোর বিষয়ও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে দুদক।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ২৮টি ব্যাংকে শওকত আলী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বেরিন, মেয়ে জারা নামরীন, ছেলে জারান আলী চৌধুরী এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৮৭টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এরমধ্যে পরিবারের চার সদস্যের নামে ৪১টি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ১৪৬টি হিসাব রয়েছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এসব হিসাবে মোট ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা জমা এবং ৮ হাজার ২৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। হিসাবগুলোতে তখন স্থিতি ছিল ১৭৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অনুসন্ধানকারী দল এসব হিসাবের কেওয়াইসি, লেনদেন বিবরণী ও সহায়ক নথি বিশ্লেষণ করেছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের উপপরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের দল গত ১ জুলাই চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কাছে শওকত আলীর মালিকানাধীন এসএন করপোরেশনের জাহাজ আমদানি ও সংশ্লিষ্ট এলসির নথি চায়। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা পাওয়া যায়নি। নথি না পেলে নতুন করে তাগিদপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর শওকত আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব, জাতীয় পরিচয়পত্র, কর শনাক্তকরণ নম্বর ও পাসপোর্টের কপি চেয়ে ইস্টার্ন ব্যাংককে চিঠি দেয় দুদক। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আরেক চিঠিতে তাদের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনুসন্ধানটি এখন ব্যাংক হিসাবের গণ্ডি ছাড়িয়ে আমদানি বাণিজ্য, বিদেশি কোম্পানি ও সম্পদে বিস্তৃত হচ্ছে।

দুদকের প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখা তিনটি এলসি খোলা হয়। সেগুলোর সুবিধাভোগী ছিল ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে একই ঠিকানায় নিবন্ধিত রেড রুবি গ্রুপ লিমিটেড, ট্যালেন্ট মাইল লিমিটেড ও কলাম্বিয়া সিস লিমিটেড। অনুসন্ধানকারীরা কোম্পানিগুলোর কার্যকর ব্যবসায়িক অস্তিত্ব পাননি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনটি এলসির মোট মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ১ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২০১৫ সালের একটি এলসির মূল্য ছিল ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার ডলার, ২০২০ সালের ৪ লাখ ৬৪ হাজার ডলার এবং ২০২৩ সালের ২১ লাখ ৪১ হাজার ডলার। দুদক এখন এসব এলসির বিপরীতে জাহাজের মূল্য, বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের গন্তব্য এবং আমদানি নথির সত্যতা যাচাই করছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, ২০১২ সাল থেকে এসএন করপোরেশন পুরোনো জাহাজ আমদানিতে ১৪১টি এলসি খুলে। এসব লেনদেনের বড় অংশ এবং শওকত পরিবারের ব্যক্তিগত হিসাব ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যবহারের অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে।

দুদকের মুখপাত্র ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেছেন, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করছেন। অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ শেষ হলে শওকত আলী, তার পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বিদেশে থাকা ফ্ল্যাট, কোম্পানি ও বিনিয়োগের তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট দেশে আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠানো হতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শওকত আলীর অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান গতি বাড়িয়েছে দুদক

শওকত আলীর অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান গতি বাড়িয়েছে দুদক

আপডেট সময় ০৮:৩২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

 

যুক্তরাজ্যে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে গতি বাড়িয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে তার বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলার শনাক্ত এবং অপ্রদর্শিত বিদেশি সম্পদের বিপরীতে প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

শওকত আলী, তার পরিবারের সদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশ্লেষণের পাশাপাশি জাহাজ আমদানির নামে খোলা ঋণপত্রের নথি সংগ্রহ করছে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে সম্পদ কেনার তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআর পাঠানোর বিষয়ও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে দুদক।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ২৮টি ব্যাংকে শওকত আলী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বেরিন, মেয়ে জারা নামরীন, ছেলে জারান আলী চৌধুরী এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৮৭টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এরমধ্যে পরিবারের চার সদস্যের নামে ৪১টি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ১৪৬টি হিসাব রয়েছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এসব হিসাবে মোট ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা জমা এবং ৮ হাজার ২৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। হিসাবগুলোতে তখন স্থিতি ছিল ১৭৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অনুসন্ধানকারী দল এসব হিসাবের কেওয়াইসি, লেনদেন বিবরণী ও সহায়ক নথি বিশ্লেষণ করেছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের উপপরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের দল গত ১ জুলাই চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কাছে শওকত আলীর মালিকানাধীন এসএন করপোরেশনের জাহাজ আমদানি ও সংশ্লিষ্ট এলসির নথি চায়। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা পাওয়া যায়নি। নথি না পেলে নতুন করে তাগিদপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর শওকত আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব, জাতীয় পরিচয়পত্র, কর শনাক্তকরণ নম্বর ও পাসপোর্টের কপি চেয়ে ইস্টার্ন ব্যাংককে চিঠি দেয় দুদক। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আরেক চিঠিতে তাদের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনুসন্ধানটি এখন ব্যাংক হিসাবের গণ্ডি ছাড়িয়ে আমদানি বাণিজ্য, বিদেশি কোম্পানি ও সম্পদে বিস্তৃত হচ্ছে।

দুদকের প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখা তিনটি এলসি খোলা হয়। সেগুলোর সুবিধাভোগী ছিল ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে একই ঠিকানায় নিবন্ধিত রেড রুবি গ্রুপ লিমিটেড, ট্যালেন্ট মাইল লিমিটেড ও কলাম্বিয়া সিস লিমিটেড। অনুসন্ধানকারীরা কোম্পানিগুলোর কার্যকর ব্যবসায়িক অস্তিত্ব পাননি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনটি এলসির মোট মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ১ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২০১৫ সালের একটি এলসির মূল্য ছিল ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার ডলার, ২০২০ সালের ৪ লাখ ৬৪ হাজার ডলার এবং ২০২৩ সালের ২১ লাখ ৪১ হাজার ডলার। দুদক এখন এসব এলসির বিপরীতে জাহাজের মূল্য, বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের গন্তব্য এবং আমদানি নথির সত্যতা যাচাই করছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, ২০১২ সাল থেকে এসএন করপোরেশন পুরোনো জাহাজ আমদানিতে ১৪১টি এলসি খুলে। এসব লেনদেনের বড় অংশ এবং শওকত পরিবারের ব্যক্তিগত হিসাব ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যবহারের অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে।

দুদকের মুখপাত্র ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেছেন, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করছেন। অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ শেষ হলে শওকত আলী, তার পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বিদেশে থাকা ফ্ল্যাট, কোম্পানি ও বিনিয়োগের তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট দেশে আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠানো হতে পারে।