ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট ও তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকা ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। প্রতিদিনই নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙছে নদীর পাড়, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। বেড়িবাঁধের ওপর ও আশপাশে বসবাসরত প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার এখন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে তেতুলিয়া নদীর স্রোতের তীব্রতা এবং জলোচ্ছ্বাসের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নদীভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে সাচড়া ইউনিয়নের পাশাপাশি বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর কিনারায় থাকা অনেক বসতঘর এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। কোথাও কোথাও নদীভাঙনে ঘরের একেবারে নিচ পর্যন্ত মাটি সরে গেছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে তাদের দিন কাটছে—কখন শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় সেই শঙ্কায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর নদীভাঙনে তাদের জমি, ঘরবাড়ি ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। অথচ স্থায়ী নদী রক্ষা প্রকল্পের অভাবে একই দুর্ভোগ বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সাচড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো.
মহিউদ্দিন মোল্যা বলেন, সাচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট, বেড়িবাঁধ ও আশপাশে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের বসবাস। দ্রুত এখানে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদীতীরে কংক্রিট ব্লক স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। আমি ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, গত সপ্তাহে আমরা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং শিগগিরই সেখানে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হবে।”
স্থানীয়দের মতে, বালুর বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না। তারা নদীতীরে কংক্রিট ব্লক স্থাপন, শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শুধু কয়েক হাজার পরিবারই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগ, কৃষিজমি এবং স্থানীয় অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই মানবিক বিপর্যয় এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তেতুলিয়ার ভয়াল ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে সাচড়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবন, বসতভিটা ও ভবিষ্যৎ।
রিয়াজ ফরাজী 






















