খুলনায় কিশোরী নির্জনা হত্যা মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বাবা আকাশ। রোববার (১৯ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামানের আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটি দোকান থেকে র্যাব আকাশকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং পরে আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।
পুলিশ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই সকালে নির্জনা স্বামীর সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে আনেন। বিকেলে মা আরিফা ইয়াসমিন সীমার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নির্জনা মায়ের ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাবা আকাশ কাঠের একটি চলা দিয়ে আঘাত করেন। তার দাবি, আঘাতটি দুর্ঘটনাবশত নির্জনার মাথায় লাগে এবং পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
এরপর মরদেহ গোপন করতে নির্জনাকে কালো লুঙ্গি দিয়ে বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির নিচে নামানো হয়। পরে মোটরসাইকেলে করে মরদেহ নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। বাসায় ফিরে রক্তের দাগ মুছে ফেলেন আকাশ ও তার স্ত্রী। রাতে তারা কান্নাকাটি করেন এবং পরদিন সকালে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দি রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথমদিকে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি পিবিআই ও সিআইডির মতো বিশেষায়িত সংস্থাও শুরুতে পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের ছবি প্রকাশের পরদিন বিকেলে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়।
ওসি আরও জানান, তদন্তের সময় নিহতের মা-বাবার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুরুতে তিনি নীরব থাকলেও পরে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার ছয় দিন পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং ১০ দিন পর ডুমুরিয়া থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও আদালতে জবানবন্দি দিয়ে মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















