ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ইসিতে সভা ময়মনসিংহে ট্রাক-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩ সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয় : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনায় ৩ লাল কার্ড দেখা একমাত্র দল আর্জেন্টিনা গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে ৭০০ মানুষের চিকিৎসা, ২০০ গবাদি পশুর সেবা কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তবু বহাল সিডিএর প্রকৌশলীরা বাজারদর যাচাই ছাড়াই ৬ হাজার কোটির গ্রিড প্রকল্পে ২,২১৫ কোটির চুক্তি
কারারক্ষীর অডিও ভাইরাল

চালান নিয়ে অবৈধ টাকার লেনদেনের অভিযোগ

গাজীপুর জেলা কারাগারের কারারক্ষী আব্দুস সাত্তারের অবৈধ অর্থ লেনদেনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আসামির ‘চালান’ ও টাকা আদান-প্রদানসংক্রান্ত ওই অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অডিওতে সাত্তারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ডিউটিতে চলে যাচ্ছি, আর কথা বলতে পারব না। চালান যদি রাতে রেডি না করে, তাহলে কাল চালান দিতে পারব না। আর কাল চালান না দিতে পারলে ওই বেটার টাকা ফেরত দিতে হবে। আমাকে সন্ধ্যায় ডাকছিল, যেভাবেই হোক কালকে চালানের ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কালকে হান্ড্রেড পারসেন্ট চালান দিতে হবে, কোনোভাবেই মিস করা যাবে না। চালান করে দিতে না পারলে টাকা ফেরত দিতে হবে। কারণ, আমি আরেকজনের মাধ্যমে টাকা নিয়েছি। বিষয়টি দেখেন, আর মিনহাজ যদি চলে যায়, তাহলে টাকা স্যারকে দেবেন, নাকি কীভাবে দেবেন—দিয়ে দিয়েন।’

কারাগারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা কারাগারে প্রায় সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং ও ডিউটি বণ্টনে আব্দুস সাত্তারের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নতুন চাকরিতে যোগদানের মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি ‘সিআইডি ডিউটি’র মতো সংবেদনশীল দায়িত্ব পান, যা নিয়ে সাধারণ সহকর্মীদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ডিউটি, সাক্ষাৎ কক্ষ, স্লিপ লেখা ও আরপি ডিউটিসহ বিভিন্ন পদে থাকাকালীন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারারক্ষী আব্দুস সাত্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনি রেকর্ড কোথায় পাইলেন? একপক্ষের কথায় তো কিছু হয় না। এখানে শুধু আমার কণ্ঠ। সাংবাদিকেরা বহুত বিরক্ত করছে। আমি একটা ছোট চাকরি করি, মানসম্মান নিয়ে টানাটানি করে লাভ কী? বর্তমান রেকর্ডের যুগে অনেক কিছুই হয়। এই ভয়েস নিয়ে বহুত নিউজ হইছে, অযথা আর হয়রানি করবেন না। সামান্য বিষয় নিয়ে আমি টাকা দিয়ে কয়জনকে ঠেকাব? এই রেকর্ড যন্ত্রণায় শেষ করে দিল।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদেরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে

কারারক্ষীর অডিও ভাইরাল

চালান নিয়ে অবৈধ টাকার লেনদেনের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:১৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

গাজীপুর জেলা কারাগারের কারারক্ষী আব্দুস সাত্তারের অবৈধ অর্থ লেনদেনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আসামির ‘চালান’ ও টাকা আদান-প্রদানসংক্রান্ত ওই অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অডিওতে সাত্তারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ডিউটিতে চলে যাচ্ছি, আর কথা বলতে পারব না। চালান যদি রাতে রেডি না করে, তাহলে কাল চালান দিতে পারব না। আর কাল চালান না দিতে পারলে ওই বেটার টাকা ফেরত দিতে হবে। আমাকে সন্ধ্যায় ডাকছিল, যেভাবেই হোক কালকে চালানের ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কালকে হান্ড্রেড পারসেন্ট চালান দিতে হবে, কোনোভাবেই মিস করা যাবে না। চালান করে দিতে না পারলে টাকা ফেরত দিতে হবে। কারণ, আমি আরেকজনের মাধ্যমে টাকা নিয়েছি। বিষয়টি দেখেন, আর মিনহাজ যদি চলে যায়, তাহলে টাকা স্যারকে দেবেন, নাকি কীভাবে দেবেন—দিয়ে দিয়েন।’

কারাগারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা কারাগারে প্রায় সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং ও ডিউটি বণ্টনে আব্দুস সাত্তারের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নতুন চাকরিতে যোগদানের মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি ‘সিআইডি ডিউটি’র মতো সংবেদনশীল দায়িত্ব পান, যা নিয়ে সাধারণ সহকর্মীদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ডিউটি, সাক্ষাৎ কক্ষ, স্লিপ লেখা ও আরপি ডিউটিসহ বিভিন্ন পদে থাকাকালীন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারারক্ষী আব্দুস সাত্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনি রেকর্ড কোথায় পাইলেন? একপক্ষের কথায় তো কিছু হয় না। এখানে শুধু আমার কণ্ঠ। সাংবাদিকেরা বহুত বিরক্ত করছে। আমি একটা ছোট চাকরি করি, মানসম্মান নিয়ে টানাটানি করে লাভ কী? বর্তমান রেকর্ডের যুগে অনেক কিছুই হয়। এই ভয়েস নিয়ে বহুত নিউজ হইছে, অযথা আর হয়রানি করবেন না। সামান্য বিষয় নিয়ে আমি টাকা দিয়ে কয়জনকে ঠেকাব? এই রেকর্ড যন্ত্রণায় শেষ করে দিল।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদেরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।