ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৫ রোগীকে হত্যা, জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুয়েত, বাহরাইনে ফের হামলা চালাল ইরান বড়লেখায় ৩০ বছরের পুরনো রাস্তা অবরুদ্ধ করে হামলা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ফিফা থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার নিয়ে দেশে ফিরছে মিশর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ খাতে ‘ঐতিহাসিক’ অংশীদারত্বের আহ্বান মোদির সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ঢাকাসহ ২০ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি আর্জেন্টাইন রেফারিরা দায়িত্বে, অস্বস্তিতে এমবাপ্পে? অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ

বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি

বান্দরবানের লামা উপজেলার একই এলাকায় পাহাড়ধসের পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের পাঁচ বছরের সন্তান এবং অন্য পরিবারের স্বামী-স্ত্রী রয়েছেন।

জেলার পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন, লামার একই এলাকায় পৃথক দুই পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত হয়েছেন শিশুসহ পাঁচজন। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

পুলিশ জানায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক চারটার দিকে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায়। ওই সময় পাহাড়ধসে মাটির নিচে চাপা পড়ে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। তারা হলেন মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মো. সোলেমান (৫)।

স্থানীয় বাসিন্দারা শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যদের সহায়তায় তিনজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে একই ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে মাটি ও ঘরের দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫) নিহত হন। তারা একতলা পাকা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

দুই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা পুলিশের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়া, জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু বাসিন্দা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে লামা উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে টানা বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ রোগীকে হত্যা, জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি

আপডেট সময় ১১:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলার একই এলাকায় পাহাড়ধসের পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের পাঁচ বছরের সন্তান এবং অন্য পরিবারের স্বামী-স্ত্রী রয়েছেন।

জেলার পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন, লামার একই এলাকায় পৃথক দুই পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত হয়েছেন শিশুসহ পাঁচজন। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

পুলিশ জানায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক চারটার দিকে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায়। ওই সময় পাহাড়ধসে মাটির নিচে চাপা পড়ে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। তারা হলেন মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মো. সোলেমান (৫)।

স্থানীয় বাসিন্দারা শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যদের সহায়তায় তিনজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে একই ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে মাটি ও ঘরের দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫) নিহত হন। তারা একতলা পাকা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

দুই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা পুলিশের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়া, জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু বাসিন্দা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে লামা উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে টানা বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।