একটি বিকট শব্দ, তারপর মাত্র এক থেকে দুই মিনিটের আগুন। সময় খুব কম হলেও এর প্রভাব পড়েছে পুরো বরগুনা সদর উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। গ্রিড সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকায় অবস্থিত গ্রিড সাবস্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
যদিও আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে সাবস্টেশনের একাধিক ফিডার, বৈদ্যুতিক তার এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে পুরো পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
একটি সাবস্টেশন, পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ
স্থানীয় সূত্র এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রিড সাবস্টেশন থেকেই বরগুনা সদর উপজেলার সম্পূর্ণ পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ফলে একটি ফিডারে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই ১০টি ইউনিয়নের হাজারো পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সেবাখাতকে বিদ্যুৎবিহীন করে ফেলে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কী ঘটেছিল?
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘটনার সময় তারা অফিসেই ছিলেন। বিকট শব্দ শোনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ১১ কেভি এসিআর (ACR) বিস্ফোরণের কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পাশাপাশি কয়েকটি বৈদ্যুতিক তার এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও আগুনে পুড়ে যায়, যা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
মেরামত চলছে, তবে বদলাতে হবে প্রধান যন্ত্রাংশ
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামত শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, পুড়ে যাওয়া প্রধান যন্ত্রাংশটি পটুয়াখালী থেকে এনে প্রতিস্থাপন করতে হবে। এজন্য রাতের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে পরদিন সকালের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
কারিগরি ত্রুটি, নাকি আরও গভীর সমস্যা?
প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের ধারণা, অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক মূল্যায়ন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিড সাবস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একটি যন্ত্রাংশের বিকল হওয়া যদি পুরো বিতরণ ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে অবকাঠামোর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা (ব্যাকআপ) কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দিষ্ট ঘাটতির প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
এখন কী?
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বরগুনা সদর উপজেলার প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক।
মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব, স্টাফ রিপোটার 























