বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নাম বারবার উচ্চারিত হচ্ছে কিলিয়ান এমবাপের। কিন্তু ফ্রান্স অধিনায়কের কাছে ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ দলের সাফল্য। তাই গোলের পর গোল করলেও গোল্ডেন বুট নিয়ে ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন এমবাপে। সেই ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফরাসি তারকা বলেন, গোল্ডেন বুটের লড়াই নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তা করছেন না। তার একমাত্র লক্ষ্য ফ্রান্সকে নিয়ে আবারও বিশ্বকাপ জেতা।
চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই চার গোল করে শীর্ষ গোলদাতাদের কাতারে উঠে এসেছেন এমবাপে। পাঁচ গোল নিয়ে তার সামনে আছেন শুধু লিওনেল মেসি। তবে গোলের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে দলের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এমবাপে।
মেসির সাথে বিশ্বকাপের গোল ব্যবধান নিয়ে এমবাপে বলেন, ‘এটি এমন কিছু নয় যা আমি এই মুহূর্তে ভাবছি। আমি মনে করি আজকাল এমন একটি দলগত পরিবেশ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে আমরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারি। যখন সত্যিই প্রয়োজন হবে, তখন আমরা আমাদের শক্তির ওপর আত্মবিশ্বাসী হতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমি সবসময়ই গোল করেছি। তাই কোন ম্যাচে কত গোল করলাম, সেটা নিয়ে এখন আর ভাবছি না।’
ইরাক ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে উন্নীত করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এর ফলে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে স্পর্শ করেছেন এবং সর্বকালের তালিকায় আরও ওপরে ওঠার পথে রয়েছেন। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমও বিশ্বাস করেন, এমবাপে একদিন বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলরেকর্ড ভেঙে দিতে পারবেন।
তবে রেকর্ড বা ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে রাজি নন এমবাপে। বরং সতীর্থদের সাফল্যেও সমানভাবে আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন তিনি। ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচে উসমান দেম্বেলের গোল উদযাপনে তার উচ্ছ্বাস সেই বার্তাই দিয়েছে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপে। এবারও তিনি অন্যতম দাবিদার। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে মেসি গোলদাতাদের তালিকায় এগিয়ে থাকলেও এমবাপে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার গোল্ডেন বুট নয়, বিশ্বকাপ ট্রফি।
ফ্রান্সকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই তাই এগিয়ে চলেছেন এমবাপে। ব্যক্তিগত গৌরবের আলোকে ছাপিয়ে তার চোখ এখন শুধুই সোনালি ট্রফির দিকে।
ক্রীড়া ডেস্ক 
























