সংবাদ শিরোনাম ::
ব্যবসা শুরু করতে ৩৫৫ দিন নয়, লক্ষ্য মাত্র ১৪ দিন : বাণিজ্যমন্ত্রী লামা বনবিভাগের ডলুছড়ি রেঞ্জের সরই বিটকর্মকর্তার যোগসাজশে কাঁচা বাঁশ পাচারের হিড়িক হাসিনার পতনের পর প্রথমবার ভারত থেকে আসছে ট্রেনের কোচ যৌতুক মামলার রায় শুনে আদালতকক্ষে স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা অভিনেতা জাহের আলভী ২ দিনের রিমান্ডে ৮ বছরে অঢেল সম্পদের মালিক ফেনী জনস্বাস্থ্যের ড্রাফটম্যান শাহিন আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে : অর্থমন্ত্রী বুটেক্স ভিসি জুলহাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সুমাইয়া রাতির অসাধারণ সাফল্য মেসির সঙ্গে গোলের লড়াই নিয়ে ভাবেন না এমবাপে

৮ বছরে অঢেল সম্পদের মালিক ফেনী জনস্বাস্থ্যের ড্রাফটম্যান শাহিন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শুভপুর ইউনিয়নের তেলিহাটি গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান শাহিন আলম। বাবা জয়নাল আবেদীন একসময় স্থানীয় বাজারে বাদাম বিক্রি করে তিন ছেলের সংসার টানতেন। অভাবের সেই সংসারে ২০১৮ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ড্রাফটম্যান পদে চাকরি পান মেজ ছেলে শাহিন। আর এই সরকারি চাকরিতে যোগদানের মাত্র আট বছরের মাথায় আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো বদলে যায় তার ভাগ্য। নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে শাহিন আলম এখন শত কোটি টাকার মালিক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর শাহিন আলমের প্রথম কর্মস্থল ছিল কুমিল্লার বরুড়া। সেখান থেকেই শুরু হয় তার অবৈধ আয়ের মিশন। ১০ম গ্রেডের কর্মচারী হয়েও ড্রাফটম্যানের পদবি ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি নিজেই ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। নিজের প্রভাব খাটিয়ে ছোট ভাই সোহেল রানা ও এক নিকটাত্মীয়ের নামে ‘রানা হাইটেক বিল্ডার্স’ ও ‘শম্পা এন্টারপ্রাইজ’ নামক দুটি লাইসেন্স তৈরি করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। এমনকি ঠিকাদারি ব্যবসা দেখভালের জন্য প্রবাস থেকে দুই ভাই মনির ও সোহেলকে দেশে ফিরিয়ে আনেন।

লাকসামে কর্মরত থাকাকালীন শাহিন আলমের দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এক মন্ত্রীর স্বজনদের সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়ে তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৩৬২টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ভুয়া বিল ভাউচার করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া চৌদ্দগ্রামে প্রায় ১৯ কোটি টাকার একটি ড্রেন নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজ শেষ না করেই সরকারি প্রভাবে বিলের সিংহভাগ উত্তোলন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের দায়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে পঞ্চগড় ও ফেনীতে বদলি করা হলেও তার সম্পদের বিস্তার থামেনি।

শাহিন আলমের অর্জিত সম্পদের তালিকায় রয়েছে চোখ ধাঁধানো সব খতিয়ান। তিনি ইফাদ মোটরস থেকে ৫টি বিলাসবহুল স্লিপার কোচ কিনেছেন যা বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচল করে। পণ্য পরিবহনের জন্য তার রয়েছে ১১টি ডাম্প ট্রাক এবং মাটি কাটার জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ১০টি স্কেভেটর (ভেকু)। এছাড়া তেলিহাটি গ্রামে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নান্দনিক ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। শুধু জমিই নয়, কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও ও ঢাকার খিলগাঁওয়ে রয়েছে তার দামি ফ্ল্যাট। এছাড়া চান্দিনা ও তেলিহাটি মৌজায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি রয়েছে তার দখলে। টয়োটা প্রিমিও গাড়ি রয়েছে দুটি। কৌশলী শাহিন এসব সম্পদ ভাই ও দুই স্ত্রীর নামে কিনলেও গোপনে নোটারি পাবলিক করে নিজের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছেন।

বর্তমানে শাহিন আলম ফেনীতে কর্মরত থাকলেও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অনিয়মের অভিযোগে তার বেতন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি অন্যতম আসামি। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির জন্য ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর থেকে একাধিকার কৈফিয়ত তলব করে বিভিন্ন স্মারকে শাহীন আলমকে নোটিশ করা হয়। তাছাড়া, অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত, চার বার কিফিয়ত তলবের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ২০২৫ সালের ১৯ জুন প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশরী মো: শফিউল হক।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ফেনীর সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শফিউল হক জানান, শাহীন আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই, পাহাড় সমান অভিযোগ। সে খুবই বিরক্তিকর, উর্ধ্বতন অফিসারদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। ড্রাফটম্যান পদ থাকলেও মূলত এই পদের দৃশ্যমান কোন কাজ নেই। আমরা নকশা তেমন করিনা। সে সুযোগে শাহীন আলম বিভিন্ন লাইসেন্সে ঠিকাদারি করে যাচ্ছেন। তাঁর অবৈধ সম্পদের বিষয়ে আমরা আগে থেকেই জানি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে এসেছি। সে ঠিকমতো অফিসও করেনা। তাঁর বেতনও বন্ধ আছে চার মাস ধরে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সার্কেল তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরী, আমি দুই মাস আগে যোগদান করিছি। তাঁর বিষয়ে অভিযোগের কিছুটা জানা আছে তবে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছিনা। খবর নিয়ে দেখতে হবে।

এদিকে, শাহীন আলমের প্রথম স্ত্রী তাছলিমা আক্তার মুঠোফোনে জানান, তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে একটি মহল। গরীব পরিবারের সন্তান টাকা পয়সার মালিক হলে সমাজের অনেকেই মেনে নিতে পারেনা। আমার স্বামীর সাথে এমনটাই হয়েছে। দশম গ্রেডের চাকরির পাশাপাশি আমার স্বামী ব্যবসায় করেই সম্পদ কামিয়েছে। দিন রাত পরিশ্রমের ফসল হচ্ছে এসব সম্পদ।

শাহীন আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী লিমা আক্তারের কাছে তাঁর স্বামীর অঢেল সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব মিথ্যা। আমি ভাড়া বাসায় থাকি। আমি শুধু শোনেই যাচ্ছি সম্পদের কথা, কিন্তু কিছুই দেখছিনা। সবকিছু ষড়যন্ত্র।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহিন আলমের তিনটি মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যবসা শুরু করতে ৩৫৫ দিন নয়, লক্ষ্য মাত্র ১৪ দিন : বাণিজ্যমন্ত্রী

৮ বছরে অঢেল সম্পদের মালিক ফেনী জনস্বাস্থ্যের ড্রাফটম্যান শাহিন

আপডেট সময় ০৫:৫১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শুভপুর ইউনিয়নের তেলিহাটি গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান শাহিন আলম। বাবা জয়নাল আবেদীন একসময় স্থানীয় বাজারে বাদাম বিক্রি করে তিন ছেলের সংসার টানতেন। অভাবের সেই সংসারে ২০১৮ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ড্রাফটম্যান পদে চাকরি পান মেজ ছেলে শাহিন। আর এই সরকারি চাকরিতে যোগদানের মাত্র আট বছরের মাথায় আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো বদলে যায় তার ভাগ্য। নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে শাহিন আলম এখন শত কোটি টাকার মালিক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর শাহিন আলমের প্রথম কর্মস্থল ছিল কুমিল্লার বরুড়া। সেখান থেকেই শুরু হয় তার অবৈধ আয়ের মিশন। ১০ম গ্রেডের কর্মচারী হয়েও ড্রাফটম্যানের পদবি ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি নিজেই ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। নিজের প্রভাব খাটিয়ে ছোট ভাই সোহেল রানা ও এক নিকটাত্মীয়ের নামে ‘রানা হাইটেক বিল্ডার্স’ ও ‘শম্পা এন্টারপ্রাইজ’ নামক দুটি লাইসেন্স তৈরি করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। এমনকি ঠিকাদারি ব্যবসা দেখভালের জন্য প্রবাস থেকে দুই ভাই মনির ও সোহেলকে দেশে ফিরিয়ে আনেন।

লাকসামে কর্মরত থাকাকালীন শাহিন আলমের দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এক মন্ত্রীর স্বজনদের সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়ে তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৩৬২টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ভুয়া বিল ভাউচার করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া চৌদ্দগ্রামে প্রায় ১৯ কোটি টাকার একটি ড্রেন নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজ শেষ না করেই সরকারি প্রভাবে বিলের সিংহভাগ উত্তোলন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের দায়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে পঞ্চগড় ও ফেনীতে বদলি করা হলেও তার সম্পদের বিস্তার থামেনি।

শাহিন আলমের অর্জিত সম্পদের তালিকায় রয়েছে চোখ ধাঁধানো সব খতিয়ান। তিনি ইফাদ মোটরস থেকে ৫টি বিলাসবহুল স্লিপার কোচ কিনেছেন যা বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচল করে। পণ্য পরিবহনের জন্য তার রয়েছে ১১টি ডাম্প ট্রাক এবং মাটি কাটার জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ১০টি স্কেভেটর (ভেকু)। এছাড়া তেলিহাটি গ্রামে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নান্দনিক ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। শুধু জমিই নয়, কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও ও ঢাকার খিলগাঁওয়ে রয়েছে তার দামি ফ্ল্যাট। এছাড়া চান্দিনা ও তেলিহাটি মৌজায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি রয়েছে তার দখলে। টয়োটা প্রিমিও গাড়ি রয়েছে দুটি। কৌশলী শাহিন এসব সম্পদ ভাই ও দুই স্ত্রীর নামে কিনলেও গোপনে নোটারি পাবলিক করে নিজের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছেন।

বর্তমানে শাহিন আলম ফেনীতে কর্মরত থাকলেও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অনিয়মের অভিযোগে তার বেতন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি অন্যতম আসামি। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির জন্য ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর থেকে একাধিকার কৈফিয়ত তলব করে বিভিন্ন স্মারকে শাহীন আলমকে নোটিশ করা হয়। তাছাড়া, অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত, চার বার কিফিয়ত তলবের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ২০২৫ সালের ১৯ জুন প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশরী মো: শফিউল হক।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ফেনীর সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শফিউল হক জানান, শাহীন আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই, পাহাড় সমান অভিযোগ। সে খুবই বিরক্তিকর, উর্ধ্বতন অফিসারদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। ড্রাফটম্যান পদ থাকলেও মূলত এই পদের দৃশ্যমান কোন কাজ নেই। আমরা নকশা তেমন করিনা। সে সুযোগে শাহীন আলম বিভিন্ন লাইসেন্সে ঠিকাদারি করে যাচ্ছেন। তাঁর অবৈধ সম্পদের বিষয়ে আমরা আগে থেকেই জানি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে এসেছি। সে ঠিকমতো অফিসও করেনা। তাঁর বেতনও বন্ধ আছে চার মাস ধরে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সার্কেল তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরী, আমি দুই মাস আগে যোগদান করিছি। তাঁর বিষয়ে অভিযোগের কিছুটা জানা আছে তবে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছিনা। খবর নিয়ে দেখতে হবে।

এদিকে, শাহীন আলমের প্রথম স্ত্রী তাছলিমা আক্তার মুঠোফোনে জানান, তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে একটি মহল। গরীব পরিবারের সন্তান টাকা পয়সার মালিক হলে সমাজের অনেকেই মেনে নিতে পারেনা। আমার স্বামীর সাথে এমনটাই হয়েছে। দশম গ্রেডের চাকরির পাশাপাশি আমার স্বামী ব্যবসায় করেই সম্পদ কামিয়েছে। দিন রাত পরিশ্রমের ফসল হচ্ছে এসব সম্পদ।

শাহীন আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী লিমা আক্তারের কাছে তাঁর স্বামীর অঢেল সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব মিথ্যা। আমি ভাড়া বাসায় থাকি। আমি শুধু শোনেই যাচ্ছি সম্পদের কথা, কিন্তু কিছুই দেখছিনা। সবকিছু ষড়যন্ত্র।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহিন আলমের তিনটি মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।