সংবাদ শিরোনাম ::
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসনে রামপালের চামারখালী খালে অভিযান, উচ্ছেদ হলো অবৈধ বাদ আত্রাইয়ে নদীর তীর থেকে এনজিও কর্মীর মরদেহ উদ্ধার  উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের বাইরে রেখে এনআরবিসি ব্যাংকে চলছে লুটপাট নওগাঁয় দিনব্যাপী চাকুরির মেলায় ১৯টি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানে ১৪০ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগ  উত্তরায় হত্যা মামলার আসামির কোটি টাকার ভূমিদস্যুতা দেবিদ্বার থানা মাশিকাড়া বাজারে কাপড়ের দোকানে ভুয়া কাজী অফিস জনশক্তি ব্যুরোর পরিচালক মাসুদ রানার অঢেল সম্পদ রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজা ও ফয়সাল সিন্ডিকেটে হয়রানি ফায়ার সার্ভিসে অনিয়ম-দুর্নীতির সিন্ডিকেটের ‘মাস্টারমাইন্ড’ আতাহার

রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজা ও ফয়সাল সিন্ডিকেটে হয়রানি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসটির সাব-রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজা এবং টিসি মোহরা ফয়সালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যার কারণে সাধারণ জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ঘুষ ছাড়া এগোয় না দলিল : ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও অনেক ক্ষেত্রে দলিল সম্পাদন ও অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। দলিলে সামান্য ত্রুটি বা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের পরই দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।
মোহরা ফয়সালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ : স্থানীয় সূত্রের দাবি, টিসি মোহরা ফয়সাল অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন এবং মাঠপর্যায়ের দালালদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা নিরসন, দ্রুত দলিল সম্পাদন কিংবা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যেসব অভিযোগ
* দলিল আটকে অর্থ দাবি: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ থাকলেও অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কাজ এগোয় না বলে অভিযোগ।
* বিতর্কিত জমির রেজিস্ট্রি: যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে কিছু বিতর্কিত জমির দলিলও দ্রুত সম্পাদন করা হয়েছে।
* দালালনির্ভর সেবা ব্যবস্থা: সাধারণ মানুষ সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে নানা বাধার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
* অফিসে গোপন বৈঠকের অভিযোগ: অফিস চলাকালীন সময়ে কিছু ব্যক্তি ও দালালদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ : রূপগঞ্জের এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান,“আমার সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও কয়েকদিন ধরে আমাকে ঘুরানো হয়েছে। পরে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পরই কাজের অগ্রগতি দেখা যায়।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও -এর কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে

রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজা ও ফয়সাল সিন্ডিকেটে হয়রানি

আপডেট সময় ০৬:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসটির সাব-রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজা এবং টিসি মোহরা ফয়সালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যার কারণে সাধারণ জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ঘুষ ছাড়া এগোয় না দলিল : ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও অনেক ক্ষেত্রে দলিল সম্পাদন ও অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। দলিলে সামান্য ত্রুটি বা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের পরই দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।
মোহরা ফয়সালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ : স্থানীয় সূত্রের দাবি, টিসি মোহরা ফয়সাল অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন এবং মাঠপর্যায়ের দালালদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা নিরসন, দ্রুত দলিল সম্পাদন কিংবা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যেসব অভিযোগ
* দলিল আটকে অর্থ দাবি: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ থাকলেও অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কাজ এগোয় না বলে অভিযোগ।
* বিতর্কিত জমির রেজিস্ট্রি: যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে কিছু বিতর্কিত জমির দলিলও দ্রুত সম্পাদন করা হয়েছে।
* দালালনির্ভর সেবা ব্যবস্থা: সাধারণ মানুষ সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে নানা বাধার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
* অফিসে গোপন বৈঠকের অভিযোগ: অফিস চলাকালীন সময়ে কিছু ব্যক্তি ও দালালদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ : রূপগঞ্জের এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান,“আমার সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও কয়েকদিন ধরে আমাকে ঘুরানো হয়েছে। পরে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পরই কাজের অগ্রগতি দেখা যায়।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও -এর কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।